দৈনিক পূর্বাচল
নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে বিশ্বমঞ্চে দাঁড়িয়ে স্মৃতিকাতর হয়ে পড়েন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিশ্বনেতাদের এই মর্যাদাপূর্ণ সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি স্মরণ করেন তাঁর বাবা ও মা—বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়াকে।
শুক্রবার জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত এই অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই মুহূর্তে তিনি কিছুটা স্মৃতিকাতর অনুভব করছেন। বিশ্বমঞ্চে দাঁড়িয়ে তিনি জানান, অতীতে তাঁর পিতা ও মাতা উভয়েই দেশ ও জনগণের পক্ষে এই ফোরামে ভাষণ দিয়েছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর ভাষণে বলেন, ‘একইভাবে আজ আমিও আমার দেশ এবং জনগণের স্বার্থের পক্ষে এবং একটি শান্তিময় বিশ্ব সমাজের প্রত্যাশায় এখানে দাঁড়িয়েছি।’
বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের অবস্থান ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের গণতন্ত্র, রাজনৈতিক পরিবর্তন এবং একটি বৈষম্যহীন ও সমৃদ্ধ বিশ্বব্যবস্থা গড়ে তোলার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তিনি সরকারের বিভিন্ন দূরদর্শী পরিকল্পনা তুলে ধরে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা কামনা করেন। তাঁর ভাষণে উঠে আসা প্রধান দিকগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
-
গণতন্ত্র ও কূটনীতি: দেশের বর্তমান রাজনৈতিক রূপান্তর, বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠা এবং যেকোনো আন্তর্জাতিক সংঘাতে কূটনীতির মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ সমাধানের ওপর জোর দেন তিনি।
-
ফিলিস্তিন ও রোহিঙ্গা সংকট: ফিলিস্তিনের জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকার এবং ন্যায্য দাবির প্রতি বাংলাদেশ সরকারের অবিচল সমর্থনের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। পাশাপাশি, দীর্ঘস্থায়ী রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে বিশ্ববাসীর কার্যকর ভূমিকা দাবি করেন।
-
জলবায়ু ন্যায়বিচার: জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর জন্য জলবায়ু ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।
-
জনকল্যাণ ও নতুন পরিকল্পনা: ফ্যামিলি কার্ডের সফলতার ধারাবাহিকতায় দেশে খুব শীঘ্রই ‘ইউনিভার্সাল কার্ড’ চালুর যুগোপযোগী পরিকল্পনার কথা জানান।
-
প্রযুক্তি ও মেধা বিকাশ: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ও আধুনিক প্রযুক্তির সমান সুযোগ নিশ্চিতকরণ, তরুণ ও নারীদের ক্ষমতায়ন এবং মানসম্মত শিক্ষা-স্বাস্থ্য নিশ্চিত করার কথা তুলে ধরেন।
-
অর্থনীতি ও উন্নয়ন: কর্মসংস্থান সৃষ্টি, টেকসই অর্থনীতি এবং ২০২৬ সালের পর বাংলাদেশের এলডিসি (LDC) উত্তরণ পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
পরিশেষে, একটি শান্তিপূর্ণ, মানবিক, সমৃদ্ধ এবং বৈষম্যহীন বাংলাদেশ ও বিশ্বব্যবস্থা গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তাঁর ঐতিহাসিক ভাষণ শেষ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।


