নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহাসড়কের মেঘনা ও গোমতী সেতুর টোল আদায়ের চুক্তিতে অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে করা দুর্নীতি মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন পিছিয়েছে। প্রতিবেদন দাখিল না করায় আদালত আগামী ১০ ডিসেম্বর নতুন দিন ধার্য করেছেন।
আজ রবিবার ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ শাহজাহান কবির নতুন এ দিন ধার্য করেন। এর আগে গত ১২ অক্টোবর দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সহকারী পরিচালক তানজিল হাসান বাদী হয়ে ঢাকা সমন্বিত জেলা কার্যালয়, ঢাকা-১–এ মামলাটি দায়ের করেন।
মামলার উল্লেখযোগ্য আসামিরা:
-
শেখ হাসিনা (ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী)
-
আমির হোসেন আমু (সাবেক শিল্পমন্ত্রী)
-
তোফায়েল আহমেদ (সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী)
-
খন্দকার মোশাররফ হোসেন (সাবেক স্থানীয় সরকারমন্ত্রী)
-
ওবায়দুল কাদের (সাবেক সেতুমন্ত্রী)
-
আনিসুল হক (সাবেক আইনমন্ত্রী)
-
এম এ মান্নান (সাবেক প্রতিমন্ত্রী)
-
মুনীর উজ জামান চৌধুরী (ব্যবস্থাপনা পরিচালক, সিএনএস লিমিটেড)সহ সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর ও মন্ত্রণালয়ের শীর্ষস্থানীয় বেশ কয়েকজন সাবেক কর্মকর্তা।
মামলার মূল অভিযোগ ও আর্থিক ক্ষতির বিবরণ:
দুদকের এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০১৬ সালে মেঘনা-গোমতী সেতুর টোল আদায়কারী হিসেবে কম্পিউটার নেটওয়ার্ক সিস্টেম (সিএনএস) লিমিটেডকে নিয়োগ দিতে আগের দরপত্র ‘ইচ্ছাকৃতভাবে বাতিল’ করা হয়। পরবর্তীতে অন্যান্য প্রতিষ্ঠানকে বাদ দিয়ে একক উৎসভিত্তিক দরপত্রের মাধ্যমে মাত্র একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ৫ বছরের চুক্তি করা হয়।
চুক্তিতে সার্ভিস চার্জের নির্দিষ্ট পরিমাণ না রেখে আদায় করা টোলের ১৭.৭৫ শতাংশ (ভ্যাট ও আয়কর ব্যতীত) হার নির্ধারণ করা হয়। এর আওতায় সিএনএস লিমিটেড মোট ৪৮৯ কোটি ৪৩ লাখ ৭৩ হাজার টাকা বিল গ্রহণ করে।
তুলনামূলক বিশ্লেষণে দুদক দেখতে পায়, ২০১০-২০১৫ সালে একই কাজের জন্য এমবিইএল-এটিটি নিয়েছিল মাত্র ১৫ কোটি ৫৮ লাখ টাকা এবং পরবর্তী ২০২২-২০২৫ মেয়াদে ইউডিসি কনস্ট্রাকশনকে দেওয়া হয় ৬৭ কোটি ৫৪ লাখ টাকা (পাঁচ বছরে যা প্রায় ১১২ কোটি ৫৮ লাখ টাকা)। সিএনএস লিমিটেড কথিত ‘নতুন প্রযুক্তি স্থাপন ও অবকাঠামো ব্যয়’ বাবদ আরও অতিরিক্ত অর্থ হাতিয়ে নেয়। সবমিলিয়ে এই চুক্তির ফলে সরকারের মোট আর্থিক ক্ষতি হয়েছে প্রায় ৩০৯ কোটি ৪২ লাখ ৪৫ হাজার ৮৯০ টাকা।
সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর এবং সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সদস্যরা ক্ষমতার অপব্যবহার করে পরস্পর যোগসাজশে এই আর্থিক অনিয়ম ঘটিয়েছেন বলে মামলায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
-
।


