থাইরয়েডের সমস্যা বর্তমান সময়ে অত্যন্ত পরিচিত একটি স্বাস্থ্য জটিলতা। এই রোগে শরীরের বিপাকক্রিয়া (মেটাবলিজম), ওজন এবং শক্তির মাত্রা সরাসরি প্রভাবিত হয়। ফলে থাইরয়েড রোগীদের দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাসে বিশেষ নজর দেওয়া প্রয়োজন। চিকিৎসকদের মতে, জিংক, আয়োডিন, কপার ও আয়রনের মতো খনিজগুলো থাইরয়েডের কার্যকারিতা স্বাভাবিক রাখতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। পাশাপাশি বাঁধাকপি, ফুলকপি বা সয়াবিনের মতো কিছু খাবার পরিমিত পরিমাণে খাওয়া উচিত।
থাইরয়েড হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখতে এবং দিনটি চনমনে ও শক্তি দিয়ে শুরু করতে প্রাতরাশে রাখতে পারেন এই ৩টি পুষ্টিকর খাবার:
১. পালংশাকের পুরভরা অমলেট ও মাল্টিগ্রেন টোস্ট
-
উপকারিতা: ডিমে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে সেলেনিয়াম, যা থাইরয়েড গ্রন্থি সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। অন্যদিকে, পালংশাক থেকে মেলে প্রয়োজনীয় ম্যাগনেশিয়াম ও বি ভিটামিন।
-
তৈরি করবেন যেভাবে: প্রথমে পালংশাক ভাপিয়ে ভালো করে জল ঝরিয়ে নিন। এরপর ডিমের সঙ্গে কুচোনো পেঁয়াজ, ভাপানো পালংশাক, স্বাদমতো নুন ও গোলমরিচ মিশিয়ে অল্প তেলে কম আঁচে অমলেট তৈরি করুন। পুষ্টিগুণ অটুট রাখতে রান্নার সময় তেলের পরিমাণ কম রাখুন।
-
সঙ্গে রাখুন: ১-২টি মাল্টিগ্রেন ব্রেডের হালকা মাখন টোস্ট এবং সঙ্গে এক প্লেট টাটকা স্যালাড।
২. পনির ও আখরোট মোড়া মুগডাল চিলা এবং ফল
-
উপকারিতা: মুগডালে ভরপুর প্রোটিন ও জিংক থাকে, যা থাইরয়েড গ্রন্থির কার্যক্ষমতা সচল রাখতে দারুণ কার্যকর।
-
তৈরি করবেন যেভাবে: মুগডাল এক ঘণ্টা জলে ভিজিয়ে রেখে সামান্য আদা, কাঁচালঙ্কা ও নুন দিয়ে মিক্সারে পেস্ট বানিয়ে নিন। এবার কড়াইয়ে অল্প তেল দিয়ে পাতলা গোল চিলা তৈরি করুন। চিলার ভেতরে গ্রেট করা পনির, আখরোট কুচি ও সামান্য চাট মশলা ছড়িয়ে আড়াআড়ি মুড়ে নিন।
-
সঙ্গে রাখুন: একটি আপেল বা পেয়ারার মতো যেকোনো পুষ্টিকর তাজা ফল।
৩. কাবলিছোলার বিশেষ ঘুগনি ও স্যালাড
-
উপকারিতা: কাবলিছোলায় রয়েছে পর্যাপ্ত প্রোটিন, ফোলেট, কপার, আয়রন এবং জিংক— যা থাইরয়েড স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপযোগী।
-
তৈরি করবেন যেভাবে: কাবলি ছোলা সেদ্ধ করে আদা-জিরে বাটা ও টম্যাটো দিয়ে কষিয়ে সুস্বাদু ঘুগনি বানিয়ে নিন। নামানোর আগে ওপর থেকে গাজর, শসা, পেঁয়াজকুচি ও ভাজা মশলা ছড়িয়ে দিন।
-
সঙ্গে রাখুন: পছন্দমতো রঙিন স্যালাড এবং তাজা ফল।
.


