দৈনিক পূর্বাচল
প্রকাশিত: ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ | ঢাকা
ব্রিকস সম্মেলনের জমকালো নৈশভোজে বিশ্বনেতাদের জন্য সম্পূর্ণ নিরামিষ খাবার পরিবেশনকে কেন্দ্র করে ভারতের রাজনীতিতে নতুন করে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। কংগ্রেসের তীব্র অভিযোগ, ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকার দেশের মানুষ ও বিশ্বনেতাদের ওপর জোরপূর্বক নিরামিষভোজ চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে। অন্যদিকে বিজেপির পালটা দাবি, ব্রিকস সম্মেলনের ঐতিহাসিক সাফল্য এবং বৈশ্বিক কূটনীতিতে ভারতের অর্জন ঢাকতেই তুচ্ছ বিষয় নিয়ে অপপ্রচার চালাচ্ছে বিরোধীরা।
গত শনিবার সন্ধ্যার সেই বিশেষ নৈশভোজে দশটিরও বেশি পদের আয়োজন থাকলেও তার পুরোটাই ছিল নিরামিষ। খাবার তালিকায় শুরুতে পরিবেশন করা হয় ‘খান্ডভি মিলেট’ ও ‘খুম্ব গালাউটি’। মূল পদের মধ্যে ছিল ‘পনির লাবাবদার’, ‘গুচ্ছি মারমিক’ (হিমালয়ের মোরেল মাশরুম ও কচি অ্যাসপারাগাস), মিলেট পোলাও, বিটরুট রায়তা এবং বিভিন্ন ধরনের ভারতীয় রুটি। এছাড়া মিষ্টির তালিকায় ছিল শাহদূত ফিরনি ও জিলাপির সঙ্গে ফ্রুট ক্রিম।
এই একপেশে মেনু দেখে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে কংগ্রেস। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে রাহুল গান্ধী বলেন, “রেকর্ডের জন্য বলছি, ৮০ শতাংশ ভারতীয় আমিষভোজী। ভারতীয় আমিষ খাবার অত্যন্ত সুস্বাদু।” আরেক কংগ্রেস নেতা পবন খেরা অভিযোগ করেন, দেশবাসীর পর এবার বিদেশি অতিথিদের ওপর নিজেদের খাদ্যপসন্দ চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে বিজেপি।
একই সুরে এআইএমআইএম নেতা ওয়ারিস পাঠান বলেন, “ভারতের আসল সৌন্দর্য এর বৈচিত্র্যে। কিন্তু এই মেনু সেই বৈচিত্র্যকেই মুছে দিয়েছে। বিশ্বের সবচেয়ে বড় নেতারা ভারতে আসায় আমাদের উচিত ছিল মাটন মসালা ফ্রাই, হায়দরাবাদি বিরিয়ানি বা গোয়ান ফিশ কারির মতো খাবারের মাধ্যমে পূর্ণ খাদ্যবৈচিত্র্য তুলে ধরা।” তিনি কটাক্ষ করে বলেন, “মাটন-চিকেন না থাকায় মামা-ফুফুরা খেপে যাবেন!”
বিরোধীদের এমন সমালোচনার কঠোর জবাব দিয়েছে বিজেপি। দলটির জাতীয় মুখপাত্র প্রদীপ ভান্ডারি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, “সম্মেলনের সমালোচনা করার মতো বিরোধীদের কাছে যদি খাবারের মেনু ছাড়া আর কিছু না থাকে, তাহলে বুঝতে হবে ব্রিকস কতটা সফল হয়েছে।”
বিজেপির আরেক মুখপাত্র তুহিন সিনহা বলেন, “নয়াদিল্লি ঘোষণার মাধ্যমে ভারত যা অর্জন করেছে তা ঐতিহাসিক। প্রথমবারের মতো সব ব্রিকস দেশকে গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক ইস্যুতে এক কণ্ঠে ঐক্যবদ্ধ হতে দেখা গেছে। অথচ দায়িত্বশীল ভূমিকা না রেখে কংগ্রেস নিছক তুচ্ছ বিষয় নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে।”
বিশ্লেষকদের মতে, দুর্গাপূজার সময় আমিষ খাবার খাওয়া নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক উত্তাপের রেশ ধরেই ব্রিকস সম্মেলনের এই খাদ্যতালিকা নিয়ে জাতীয় রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ তৈরি হয়েছে।


