নিজস্ব প্রতিবেদক | দৈনিক পূর্বাচল
ঢাকা: রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ দুগ্ধ উৎপাদনকারী সমবায় ইউনিয়ন লিমিটেড (মিল্ক ভিটা)-তে ক্ষমতার অপব্যবহার, টেন্ডার বাণিজ্যের নামে ৮৩ লাখ টাকার অনিয়ম এবং ভুয়া সমবায়ী পরিচয়ের অভিযোগে মিল্ক ইউনিয়নের সহসভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। সমবায় অধিদপ্তরের গত ৬ আগস্টের এক আদেশে তাকে এই পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
তদন্তে জানা যায়, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর রাজনৈতিক অবস্থান বদলে নিজেকে ‘জুলাই যোদ্ধা’ ও বিএনপি পরিবারের সদস্য হিসেবে পরিচয় দিয়ে গত ২৩ এপ্রিল মিল্ক ইউনিয়নের সহসভাপতির পদ বাগিয়ে নেন আনোয়ার। সাবেক এক অন্তর্বর্তীকালীন উপদেষ্টার নাম ভাঙিয়ে তিনি প্রতিষ্ঠানটিতে নিয়োগ, বদলি, পদোন্নতি ও টেন্ডারবাজিতে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে।
চিনির টেন্ডারে ৮৩ লাখ টাকার অনিয়ম: চলতি বছরের ১২ জানুয়ারি মিল্ক ভিটার ৩৫০ টন চিনির টেন্ডারে সর্বনিম্ন দরদাতা প্রতিষ্ঠানকে বাদ দিয়ে চতুর্থ সর্বোচ্চ দরদাতাকে কাজ পাইয়ে দেওয়ার পাঁয়তারা করেন আনোয়ার। এতে মিল্ক ভিটার প্রায় ৮৩ লাখ ৩০ হাজার টাকার আর্থিক ক্ষতি হওয়ার উপক্রম হয়।
অর্থ লেনদেন ও ভুয়া সমবায়ী পরিচয়: তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে যে, আনোয়ার প্রকৃত দুগ্ধ উৎপাদনকারী সমবায়ী নন; বরং ময়মনসিংহ ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন সমিতির ভুয়া কাগজপত্র ব্যবহার করে তিনি পদ বাগিয়ে নেন। এছাড়া চাকরি ও সদস্যপদ পাইয়ে দেওয়ার নামে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। মিল্ক ইউনিয়নের ব্যবস্থাপনা কমিটির ৭ সদস্য তার দুর্নীতি খতিয়ে দেখতে দুদক, এনবিআর ও গোয়েন্দা সংস্থার তদন্তের সুপারিশ করেছেন।
মিল্ক ভিটার চেয়ারম্যান এস এম আমীর হামজা শাতিল জানান, অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পরই তাকে অপসারণের জন্য কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তবে আনোয়ার হোসাইন তার বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করে নিজেকে ষড়যন্ত্রের শিকার বলে দাবি করেছেন।


