স্টাফ রিপোর্টার, দৈনিক পূর্বাচল:
রংপুর নগরীর কামাল কাছনার মাছুয়াপাড়ায় একটি নতুন দোতলা বাড়ি থেকে একই পরিবারের চার সদস্যের গলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহতদের গলায় দড়ি প্যাঁচানো অবস্থায় পাওয়ায় তাঁদের শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
শনিবার (২২ আগস্ট) রাত ১১টার দিকে মন্দিরসংলগ্ন ওই বাসা থেকে মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়।
নিহতরা হলেন—রংপুর জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী, মেয়ে পার্থী চক্রবর্তী ও ছোট ছেলে আয়াস চক্রবর্তী। গত বছর অবসর নেওয়ার পর গণপতি চক্রবর্তী নগরীর সমবায় মার্কেটে নিয়মিত হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা দিতেন। মেয়ে পার্থী কারমাইকেল কলেজ থেকে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছিলেন এবং ছেলে আয়াস জিলা স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
সন্দেহ ও উদ্ধার অভিযান
স্থানীয়রা জানান, নবনির্মিত বাড়িটির দোতলায় পরিবারটি সম্প্রতি উঠেছিল। নিচতলার কাজ এখনও প্রক্রিয়াধীন। প্রতিবেশীদের সঙ্গে তাঁদের বেশি পরিচয় গড়ে ওঠেনি। কয়েক দিন ধরে স্বজনরা যোগাযোগ করতে না পেরে প্রীতিলতার বোন পূজা চক্রবর্তী বাসায় যান। বাইরে থেকে মূল ফটক তালাবদ্ধ পেয়ে ডাকাডাকি করলেও কোনো সাড়া না পেয়ে তিনি পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় দরজার তালা ভেঙে ভেতরে ঢুকে চারজনের গলিত মরদেহ দেখতে পায়।
মরদেহের ছড়ানো অবস্থান
সিআইডির প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, ঘটনাটি তিন থেকে চার দিন আগের। ঘরের ভেতর লাশের পচা গন্ধ ও অগোছালো পরিবেশ দেখা যায়। মরদেহগুলো ভিন্ন ভিন্ন স্থানে পড়ে ছিল—
-
ছাদ ও সিঁড়ির কাছে: গণপতি চক্রবর্তীর মরদেহ পড়ে ছিল ছাদের এক প্রান্তে। আর সিঁড়ির কাছ থেকে স্ত্রী প্রীতিলতা ও মেয়ে পার্থীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
-
খাটের নিচে: ছোট ছেলে আয়াসের মরদেহ পাওয়া যায় ঘরের ভেতরে খাটের নিচে।
ডাকাতি নাকি ভিন্ন কোনো উদ্দেশ্য?
ঘরের জিনিসপত্র তছনছ, আলমারি ভাঙা ও মেঝেতে গয়নার বাক্স পড়ে থাকতে দেখে তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান—ঘটনাটি ডাকাতির সঙ্গে সম্পর্কিত।
রংপুর মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার (গোয়েন্দা) সনাতন চক্রবর্তী জানান, নিহত চারজনের গলায়ই দড়ি প্যাঁচানো ছিল। ঘরবাড়ি এলোমেলো থাকায় ডাকাতিকে কেন্দ্র করে তদন্ত শুরু হলেও মরদেহগুলোর অবস্থান দেখে অন্য কোনো শত্রুতা বা কারণ ছিল কি না, তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
সিআইডি ও গোয়েন্দা পুলিশের ক্রাইম সিন ইউনিট আলামত সংগ্রহ করেছে। ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত রিপোর্ট পেলে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উন্মোচিত হবে বলে পুলিশ জানিয়েছে।


