ক্রীড়া প্রতিবেদক, দৈনিক পূর্বাচল:
হেক্সা মিশনের আরও একটি করুণ সমাপ্তি। নরওয়ের কাছে ২-১ গোলে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিল ব্রাজিল। আর্লিং হালান্ডের জোড়া গোলে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কোয়ার্টার ফাইনালে নরওয়ে। নেইমারের গোলও বাঁচাতে পারল না সেলেসাওদের। বিস্তারিত পড়ুন দৈনিক পূর্বাচলে।
বিশ্বকাপের মঞ্চে আরও একবার চূর্ণ হলো ব্রাজিলের ‘হেক্সা’ জয়ের স্বপ্ন। নকআউট পর্বের মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে নরওয়ের কাছে ২-১ গোলে হেরে আসর থেকে বিদায় নিল পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। নরওয়ের ঐতিহাসিক এই জয়ের নায়ক ম্যানচেস্টার সিটি তারকা আর্লিং হালান্ড, যার জোড়া গোলে ভর করে নিজেদের ফুটবল ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার গৌরব অর্জন করলো ইউরোপের দলটি। ব্রাজিলের পক্ষে একমাত্র সান্ত্বনাসূচক গোলটি করেন নেইমার জুনিয়র।
ম্যাচের শুরু থেকেই ছিল টানটান উত্তেজনা। চতুর্থ মিনিটেই ব্রাজিলের জালে বল পাঠিয়েছিল নরওয়ে, তবে অফসাইডের কারণে তা বাতিল হয়। ১১ মিনিটে ডি-বক্সের ভেতর দারুণ সুযোগ পেয়েছিলেন ব্রাজিলের ম্যাথউস কুনহা, কিন্তু ক্রিস্টোফার আয়েরের স্লাইডিং ট্যাকলে তিনি মাটিতে পড়ে গেলে পেনাল্টির জোরালো দাবি ওঠে। শুরুতে রেফারি সাড়া না দিলেও ভিএআর (VAR) পরীক্ষার পর পেনাল্টি পায় সেলেসাওরা। তবে সেই সুবর্ণ সুযোগ কাজে লাগাতে ব্যর্থ হন মিডফিল্ডার ব্রুনো গিমারায়েস; তার শট চমৎকারভাবে ফিরিয়ে দেন নরওয়েজিয়ান গোলরক্ষক ওরইয়ান নিল্যান্ড।
ম্যাচের ৪০ মিনিটে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের একটি জোরালো শট রুখে দেন নিল্যান্ড। প্রথমার্ধের একেবারে শেষ দিকে নরওয়ের একটি নিশ্চিত আক্রমণ নসাৎ করে ব্রাজিলের ত্রাতা হন গোলরক্ষক অ্যালিসন বেকার। ফলে গোলশূন্য সমতা নিয়েই বিরতিতে যায় দু’দল।
বিরতির পর গোল পেতে মরিয়া হয়ে আক্রমণ চালাতে থাকে ব্রাজিল। তবে রক্ষণভাগের দৃঢ়তায় নরওয়ে যেমন গোল হজম করেনি, তেমনি কাউন্টার অ্যাটাকে কাঁপিয়েছে ব্রাজিলের ডিফেন্স। ম্যাচের ৭৯ মিনিটে ডেডলক ভাঙেন আর্লিং হালান্ড। এক দুর্দান্ত হেডে বল ব্রাজিলের জালে জড়িয়ে দলকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে নেন এই স্ট্রাইকার।
এর কিছুক্ষণ পরই আবারও দৃশ্যপটে হালান্ড। ডি-বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া এক বুলেট গতির শটে নিজের জোড়া গোল পূর্ণ করেন তিনি। চলতি বিশ্বকাপে এটি হালান্ডের সপ্তম গোল, যার মাধ্যমে তিনি টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় লিওনেল মেসি ও কিলিয়ান এমবাপ্পেকে স্পর্শ করলেন।
ম্যাচের একেবারে অন্তিম মুহূর্তে পেনাল্টি পায় ব্রাজিল। স্পট কিক থেকে গোল করে ব্যবধান ২-১ করেন নেইমার। তবে সমতায় ফেরার জন্য তা যথেষ্ট ছিল না। শেষ পর্যন্ত ২-১ গোলের ঐতিহাসিক জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে নরওয়ে, আর চোখের জলে বিদায় নিতে হয় ব্রাজিলকে।

