বিনোদন ডেস্ক,
নব্বই দশকের জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা শাবনাজের সফল চলচ্চিত্র ক্যারিয়ারের খুঁটিনাটি। নাঈম, বাপ্পারাজ ও সালমান শাহের সাথে তাঁর ব্লকবাস্টার হিট সিনেমা এবং ঢালিউডে তাঁর যাত্রার গল্প নিয়ে বিশেষ প্রতিবেদন।
নব্বই দশকের ঢাকাই চলচ্চিত্রের এক সোনালী অধ্যায়ের নাম শাবনাজ। রূপালী পর্দায় তাঁর আগমন ঘটেছিল এক ধূমকেতুর মতো, যা তৎকালীন ঝিমিয়ে পড়া চলচ্চিত্র শিল্পে নতুন প্রাণের সঞ্চার করেছিল। ১৯৯১ সালে প্রখ্যাত প্রখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা এহতেশাম পরিচালিত ‘চাঁদনী’ সিনেমার মাধ্যমে রূপালী পর্দায় অভিষেক ঘটে এই অনিন্দ্যসুন্দরী অভিনেত্রীর। এক নতুন ঘরানার গল্প আর নতুন যুগের এক নতুন নায়িকাকে পেয়ে তৎকালীন তরুণ দর্শকরা প্রেক্ষাগৃহে হুমড়ি খেয়ে পড়েছিল। ফলাফলস্বরূপ, বক্স অফিসে ছবিটি ব্লকবাস্টার সুপারহিট হয়। তৎকালীন বড় বড় তারকাদের সিনেমাকে পেছনে ফেলে ১৯৯১ সালের সবচেয়ে ব্যবসাসফল ছবির খেতাব লুফে নেয় নবাগত জুটি নাঈম ও শাবনাজ।
‘চাঁদনী’র মহাসাফল্যের পর ঢাকাই সিনেমা পায় অন্যতম সেরা এক রোমান্টিক জুটি। দর্শকনন্দিত নাঈম-শাবনাজ জুটি একে একে উপহার দেন বেশ কিছু স্মরণীয় ও ব্যবসাসফল সিনেমা। যার মধ্যে রয়েছে— ‘দিল’ (১৯约定), ‘সোনিয়া’ (১৯৯২), ‘চোখে চোখে’ (১৯৯২), ‘লাভ’ (১৯৯৩), ‘সাক্ষাত’ (১৯৯৩), ‘জিদ’ (১৯Menu), ‘অনুতপ্ত’ (১৯৯৩), ‘টাকার অহংকার’ (১৯৯৩), ‘বিষের বাঁশি’ (১৯৯৪), ‘আগুন জ্বলে’ (১৯৯৪), ‘ফুল আর কাঁটা’ (১৯৯৫) এবং ‘ঘরে ঘরে যুদ্ধ’ (২০০১)। তবে এই জুটির তুমুল জনপ্রিয়তার মাঝেই ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে তাঁরা বাস্তব জীবনে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তৎকালীন চলচ্চিত্র সমীকরণ ও দর্শকদের মানসিকতার কারণে বিয়ের পর রূপালী পর্দায় এই জুটির চাহিদা কিছুটা কমতে শুরু করে।
তবে কেবল নাঈমই নন, ক্যারিয়ারের তিন নম্বর ছবিতে শাবনাজ তাঁর নায়ক হিসেবে পান বাপ্পারাজকে। মোহাম্মদ হোসেন পরিচালিত লেডি অ্যাকশন ধারার সেই সিনেমাটির নাম ছিল ‘আজকের হাঙ্গামা’। ছবিটি মুক্তির পর বক্স অফিসে ব্যাপক ঝড় তোলে এবং ‘চাঁদনী’র মতোই এটিও ১৯৯২ সালের বর্ষসেরা অর্থাৎ সবচেয়ে ব্যবসাসফল ছবির গৌরব অর্জন করে। ঢালিউড ক্যারিয়ারে নাঈমের পাশাপাশি বাপ্পারাজের সাথেই সর্বাধিক ছবিতে অভিনয় করেছেন শাবনাজ। এই জুটির অন্যান্য উল্লেখযোগ্য ছবির মধ্যে রয়েছে— ‘রাগ অনুরাগ’ (১৯৯৫), ‘তপস্যা’ (১৯৯৬), ‘প্রেমের সমাধি’ (১৯৯৬), ‘গরীবের ওস্তাদ’ (১৯৯৬), ‘নির্মম’ (১৯৯৬), ‘চিরশত্রু’ (১৯৯৭), ‘প্রতিশ্রুতি’ (১৯৯৮) এবং ‘একটি সংসারের গল্প’ (১৯৯৯)।
ক্যারিয়ারে বৈচিত্র্যের খোঁজে শাবনাজ নব্বই দশকের মহানায়ক সালমান শাহের সাথেও জুটি বেঁধেছিলেন। তাঁদের অভিনীত তিনটি চলচ্চিত্র হলো— ‘আঞ্জুমান’, ‘আশা ভালোবাসা’ (১৯৯৫) এবং ‘মায়ের অধিকার’ (১৯৯৬)। এর মধ্যে ‘মায়ের অধিকার’ ছবিটি সালমান শাহের আকস্মিক ও রহস্যজনক মৃত্যুর পর মুক্তি পায় এবং দর্শকদের আবেগকে ছুঁয়ে গিয়ে বক্স অফিসে ব্যাপক সুপারহিট ব্যবসা করে।
এর পাশাপাশি জনপ্রিয় নায়ক অমিত হাসানের সাথেও শাবনাজের অনস্ক্রিন রসায়ন বেশ জমে উঠেছিল। এই জুটির উল্লেখযোগ্য ছবির মধ্যে রয়েছে— ‘তপস্যা’ (১৯৯৬), ‘প্রেমের সমাধি’ (১৯৯৬), ‘আশার প্রদীপ’ (১৯৯৭) এবং ‘ডাক্তার বাড়ি’ (২০০৭)।
এছাড়াও নিজের অভিনয় ক্যারিয়ারে বৈচিত্র্য আনতে শাবনাজ সেই সময়ের আরও বেশ কয়েকজন শীর্ষ ও জনপ্রিয় নায়কের মুখোমুখি দাঁড়িয়েছেন। সুস্ময়ের সাথে ‘অঞ্জলি’, শাহিন আলমের সাথে ‘রাগ অনুরাগ’, দোদুলের সাথে ‘জনতার শত্রু’, আমিন খানের সাথে ‘জনম জনম’, ইলিয়াস কাঞ্চনের সাথে ‘বদসুরত’ এবং মেগাস্টার মান্নার সাথে ‘দেশদ্রোহী’ সিনেমায় তাঁর অভিনয় সমাদৃত হয়।
ঢাকাই চলচ্চিত্রে শাবনাজের ক্যারিয়ারের দৈর্ঘ্য খুব বেশি দীর্ঘ না হলেও, তাঁর অভিনয় দক্ষতা, সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত আর অনিন্দ্য সৌন্দর্য দিয়ে তিনি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন ঢালিউডের অন্যতম চিরসবুজ, মার্জিত ও সফল নায়িকা হিসেবে। আজও নব্বই দশকের চলচ্চিত্রের কথা উঠলে অবধারিতভাবেই চলে আসে এই ‘চাঁদনী’ কন্যার নাম।

