দৈনিক পূর্বাচল
নিজস্ব প্রতিবেদক:
‘গ্রিনলিফ অ্যাওয়ার্ড ২০২৬’-এ আজীবন সম্মাননাপ্রাপ্ত চিত্রনায়িকা নূতন শিল্পীদের ধর্মীয় জীবন ও ব্যক্তিজীবন নিয়ে না জেনে মন্তব্য করার প্রবণতার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন। বিস্তারিত পড়ুন দৈনিক পূর্বাচলে।
শিল্পীদের ব্যক্তিজীবন এবং তাদের ধর্মীয় চর্চা নিয়ে জনমনে নানা কৌতূহল ও মন্তব্যের প্রবণতা দেখা যায়। এ বিষয়ে সম্প্রতি ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন বাংলা চলচ্চিত্রের প্রখ্যাত চিত্রনায়িকা ফারহানা আমিন রত্না নূতন। তার স্পষ্ট কথা— শিল্পীরাও মানুষ, সৃষ্টিকর্তার প্রতি তাদেরও ভয় ও ভক্তি রয়েছে। না জেনে কোনো শিল্পীর ধর্মীয় জীবন বা ইবাদত নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য করা উচিত নয়।
সম্প্রতি ‘গ্রিনলিফ অ্যাওয়ার্ড ২০২৬’-এর একটি জমকালো আয়োজনে চলচ্চিত্রে দীর্ঘদিনের অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ‘আজীবন সম্মাননা’য় ভূষিত হন নূতন। পুরস্কার গ্রহণের পর দেওয়া বক্তব্যে তিনি শিল্পীদের ব্যক্তিগত জীবন ও ধর্মীয় চর্চা নিয়ে প্রচলিত বিভিন্ন প্রশ্নের প্রসঙ্গ টেনে এসব কথা বলেন।
নূতন বলেন, ‘অনেকেই মনে করেন বা প্রশ্ন তোলেন শিল্পীদের ধর্মকর্ম নিয়ে। আমি তাদের উদ্দেশে বলতে চাই, শিল্পীরাও মানুষ, তারাও আল্লাহকে ভয় পান। অনেক শিল্পীই নিয়মিত নামাজ পড়েন। কিন্তু এই বিষয়টি তো প্রকাশ্যে প্রচার করার কিছু নয়, যার যার ইবাদত তার মতো করে পালন করাই তো নিয়ম।’
তিনি আরও যোগ করেন, গোপনীয় ইবাদতের মাধ্যমেই সৃষ্টিকর্তা বেশি সন্তুষ্ট হন। তাই শিল্পীদের প্রতিটি বিষয় নিয়ে না জেনে বা না বুঝে মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকা উচিত।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রল ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যকারীদের উদ্দেশে ক্ষোভ প্রকাশ করে এই গুণী অভিনেত্রী বলেন, ‘আমার বিচার আল্লাহ করবেন। আমি যদি নামাজ না পড়ি বা কোনো ভুল করে থাকি, তবে সেই বিচার তিনিই করবেন। আমার নসিবে জাহান্নাম থাকলে যাব, কিন্তু আপনারা যারা আজেবাজে কমেন্ট করে গুনাহ করছেন, আপনারা কই যাবেন? বাজে কমেন্ট করে পাপ নিজের ঘাড়ে নিয়েন না।’
দীর্ঘ অভিনয়জীবনের স্মৃতিচারণ করে নূতন জানান, চলচ্চিত্রে নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করতে তাকে বহু প্রতিকূলতা পেরিয়ে আসতে হয়েছে। একই সঙ্গে পরিবার, ব্যক্তিজীবন ও পেশাগত দায়িত্বের ভারসাম্য বজায় রাখার চ্যালেঞ্জও ছিল বেশ কঠিন। তবে কোনো বাধাই তাকে অভিনয় থেকে দূরে সরিয়ে রাখতে পারেনি।
নূতনের কাছে অভিনয় কেবল একটি পেশা নয়, বরং দীর্ঘ জীবনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে থাকা একটি অবিচ্ছেদ্য অধ্যায়। তাই জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত চলচ্চিত্রের সঙ্গেই থাকতে চান তিনি। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত অভিনয় চালিয়ে যাওয়ার দৃঢ় ইচ্ছার কথাও জানান এই জনপ্রিয় অভিনেত্রী।
উল্লেখ্য, একই আয়োজনে নৃত্যকলায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ আজীবন সম্মাননা অর্জন করেন প্রখ্যাত নৃত্যশিল্পী মুনমুন আহমেদ।


