দৈনিক পূর্বাচল
নিজস্ব প্রতিবেদক/আন্তর্জাতিক সংবাদ
নিউইয়র্কে তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক এবং জাতিসংঘের শরণার্থী প্রধানের সঙ্গে আলোচনা নিয়ে দৈনিক পূর্বাচলের বিশেষ আন্তর্জাতিক প্রতিবেদন। লিখেছেন সোহেল হাওলাদার।
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬) নিউইয়র্কে অবস্থিত তুর্কি হাউসে এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বাংলাদেশ ও তুরস্কের ঐতিহাসিক ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোরদার ও বহুমাত্রিক করার লক্ষ্যে অর্থনীতি, বাণিজ্য ও বিনিয়োগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা সম্প্রসারণের নানা দিক নিয়ে আলোচনা করেন দুই নেতা।
এছাড়াও আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ইস্যুতেও দুই শীর্ষ নেতা খোলামেলা মতবিনিময় করেন। আগামী দিনগুলোতে দুই দেশের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা ও কৌশলগত সমন্বয় অব্যাহত রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়। পারস্পরিক স্বার্থ ও অভিন্ন অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে ভবিষ্যৎ সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচনের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তারা।
রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানে আন্তর্জাতিক সহায়তার আহ্বান
এর আগে মঙ্গলবার নিউইয়র্কের হায়াত গ্র্যান্ড সেন্ট্রাল হোটেলে জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনার বারহাম সালেহর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় দীর্ঘদিনের রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধান এবং মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টির ওপর জোরালো তাগিদ দেওয়া হয়।
সাক্ষাতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানবতাবাদী দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে আসছে। তবে এই সংকটের স্থায়ী সমাধানের একমাত্র পথ হলো রোহিঙ্গাদের নিজ ভূমিতে নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন। এ লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও কার্যকর, দৃশ্যমান ও সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
বৈঠকে রোহিঙ্গাদের জন্য মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। এদিকে, বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়ায় বাংলাদেশের অগ্রণী মানবিক ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনার বারহাম সালেহ। পাশাপাশি এই সংকটের টেকসই ও স্থায়ী সমাধানে জাতিসংঘের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার জোরালো প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।


