বিনোদন

জীবন দহনে মুদ্রাস্ফীতি

জীবন দহনে মুদ্রাস্ফীতি

দামের সিঁড়ি উঠছে শুধু,
নামছে স্বপ্নের ঘর,
মুদ্রাস্ফীতির ঊর্ধ্বস্রোতে
দগ্ধ জনজীবন-ভর।

ক্রয়ক্ষমতা কমে আসে,
প্রকৃত আয় যায় ক্ষয়ে,
একই টাকায় কমে পণ্য—
সংসার চলে ভয়ে।

চাহিদা বাড়ে, জোগান কমে,
মূল্যস্তর যায় চড়ে,
জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ে
মধ্যবিত্তের ঘরে।

দোকানের দামের ট্যাগগুলো
কাঁটার মতো বিঁধে,
ক্রেতার হাত পণ্যের দিকে
ফিরে আসে নিঃশব্দে।

রান্নাঘরের খালি হাঁড়ি
দিচ্ছে অর্থনীতির পাঠ,
ভোগব্যয়ের প্রতিটি অঙ্কে
জমে দীর্ঘশ্বাস।

চাল, ডাল, তেল আর সবজিতে
বাড়ে পণ্যের দর,
মূল্যসূচকের ঊর্ধ্বগতি
চেপে ধরে ঘর।

বেতন বাড়ে নামমাত্র,
প্রকৃত আয় যায় কমে,
ভাড়া-বিলের চাপ বাড়িয়ে
ঘাটতি জমে জমে।

শিক্ষা, চিকিৎসা, বিদ্যুৎ, গ্যাস—
বাড়ায় নিত্যব্যয়,
আয়-ব্যয়ের ফারাক যত
ততই বাড়ে ক্ষয়।

সন্তান বলে, “বাবা, কিনবে?”
বাবা বলে, “পরে,”
অপূর্ণ চাহিদার খাতা
বন্ধ হয় নীরব ঘরে।

খেলনার বদলে বাজার-ব্যাগে
ঢোকে হিসাবখানা,
ছোট্ট স্বপ্ন মুলতবি থাকে—
এটাই মধ্যবিত্তের বেদনা।

সঞ্চয় ছিল আগামীর
নিরাপদ মূলধন,
আজ তা ভাঙে বর্তমানের
বাড়তি ভোগব্যয়-ক্ষণ।

সঞ্চয়ের হার কমে আসে,
ঋণের বোঝা বাড়ে,
অর্থনীতির কঠিন শব্দ
সংসারের ঘাড়ে চাপে।

রাতে বাবা হিসাব মেলে—
আয়, ব্যয় আর ঋণ,
কোন খাতে কাটছাঁট করলে
বাঁচবে আগামী দিন।

বাজেট যেন যুদ্ধক্ষেত্র,
প্রয়োজনই সৈনিক,
ইচ্ছেগুলো পিছু হটে,
অভাব হয় অধিনায়ক।

তবু ভোরে বাজার বসে,
মানুষ নামে পথে,
ক্ষুধা কোনো ছুটি মানে না,
সংসার থামে কবে?

হাতে ছোট্ট বাজার-তালিকা,
মনে বিশাল ঘর,
ফেরার পথে ব্যাগটা হালকা,
বুকের হিসাব ভার।

মুদ্রাস্ফীতি যখন দহন,
প্রশ্ন শুধু—
দাম আর কত বাড়বে, তা নয়;
প্রশ্ন হলো—

এই ঊর্ধ্বমুখী দামের ভিড়ে
মানুষের বেঁচে থাকার মূল্য
আর কতটা কমবে?

— বেলাল

About the author

নিজস্ব প্রতিবেদক

Leave a Comment