মাকে হত্যা করে লাশ ডোবায় ফেলল ছেলে

সিংড়া (নাটোর) প্রতিনিধি:

নাটোরের সিংড়ায় বাড়ির সীমানায় টয়লেটের গর্ত করাকে কেন্দ্র করে বৃদ্ধা মা মারিয়া বেগম ওরফে শরিফাকে (৭৫) গলাটিপে হত্যার পর লাশ গুমের চাঞ্চল্যকর রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ। এই ঘটনায় ঘাতক ছেলে জনাব আলী (৫৫) ও তার সহযোগী নাতি আল আমিনকে (২৫) গ্রেফতার করা হয়েছে।

আজ ১০ জুন (বুধবার) দুপুরে সিংড়া থানা চত্বরে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে নাটোর জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ শরিফুল হক সাংবাদিকদের এই তথ্য নিশ্চিত করেন।

টয়লেটের গর্ত থেকে হত্যাকাণ্ডের সূত্রপাত

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৩ মে উপজেলার শেরকোল ইউনিয়নের আগপাড়া শেরকোল গ্রামে বাড়ির সীমানায় টয়লেটের গর্ত করা নিয়ে বড় ভাই শহিদুল ইসলামের সঙ্গে মেজো ভাই জনাব আলীর কথা কাটাকাটি হয়। সে সময় মা মারিয়া বেগম বড় ছেলে শহিদুলের পক্ষে অবস্থান নেন।

মায়ের এই সিদ্ধান্ত মেনে নিতে পারেননি মেজো ছেলে জনাব আলী। এই ক্ষোভের জেরে ২৫ মে রাত ৯টার দিকে তিনি তার মাকে একাকী পেয়ে গলাটিপে হত্যা করেন।

লাশ গুমের লোমহর্ষক বিবরণ

হত্যাকাণ্ডের পর জনাব আলী প্রমাণ লোপাটের জন্য মায়ের মরদেহটি বাড়ির সেই বিতর্কিত টয়লেটের গর্তেই লুকিয়ে রাখেন এবং ওপর থেকে স্লাব দিয়ে ঢেকে দেন।

এর ১০ দিন পর (৪ জুন) লাশ পচে দুর্গন্ধ ছড়াতে শুরু করলে, গভীর রাতে জনাব আলী তার ছেলে আল আমিনকে সাথে নিয়ে মরদেহটি বস্তাবন্দি করেন। পরে বাড়ির পাশের একটি কচুরিপানার ডোবায় তা ফেলে দেওয়া হয়।

যেভাবে উদ্ঘাটিত হলো রহস্য

নিখোঁজের পর গত ৬ জুন নিহতের মেয়ে মর্জিনা বেগম তার মায়ের সন্ধান চেয়ে সিংড়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। জিডির সূত্র ধরে তদন্তে নেমে পুলিশ গতকাল ৯ জুন ছেলের বাড়ির পাশের ডোবা থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় গলিত মরদেহটি উদ্ধার করে মর্গে পাঠায়।

পরবর্তীতে নিহতের চার ছেলেসহ স্বজনদের থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে মেজো ছেলে জনাব আলী নিজের অপরাধ স্বীকার করেন।

সিংড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম জানান, নিহতের মেয়ে মর্জিনা বেগম বাদী হয়ে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। গ্রেফতারকৃত দুই আসামিকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

প্রেস ব্রিফিংকালে সিংড়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নূর মোহাম্মদ আলী, থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শফিকুল ইসলামসহ স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

About the author

নিজস্ব প্রতিবেদক

Leave a Comment

Prove your humanity: 9   +   9   =