মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালিয়ে গ্রেপ্তার ব্রিটনি স্পিয়ার্স

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার ভেনচুরা কাউন্টিতে গত বুধবার রাত সাড়ে নয়টার দিকে স্পিয়ার্সকে হাতকড়া পরিয়ে আটক করে ক্যালিফোর্নিয়া হাইওয়ে প্যাট্রোল। স্থানীয় সময় গতকাল বৃহস্পতিবার ভোর তিনটার দিকে তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানা গেছে। গ্রেপ্তার–সংক্রান্ত নথি অনুযায়ী, বর্তমানে তিনি জামিনে মুক্ত আছেন। তবে আগামী ৪ মে তাঁকে আদালতে হাজির হতে হবে। মামলার শুনানি হবে ভেনচুরা কাউন্টি সুপ্রিম কোর্টে।

ঘটনার পর এক বিবৃতিতে স্পিয়ার্সের প্রতিনিধি বলেন, এটি একটি দুর্ভাগ্যজনক ও অগ্রহণযোগ্য ঘটনা। তিনি আরও বলেন, ‘ব্রিটনি আইন মেনে চলবেন এবং জীবনে প্রয়োজনীয় পরিবর্তনের পথে এগোবেন বলে আশা করা হচ্ছে।’

স্পিয়ার্সের প্রতিনিধি জানান, কঠিন এই সময়ে স্পিয়ার্স যেন প্রয়োজনীয় সহায়তা পান, সেটিই এখন তাঁর পরিবার ও ঘনিষ্ঠদের প্রধান লক্ষ্য। প্রতিনিধির ভাষ্য অনুযায়ী, স্পিয়ার্সের দুই ছেলে তাঁর সঙ্গে সময় কাটাবে এবং পরিবারের সদস্যরা তাঁর সুস্থতা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে নতুনভাবে ভাবছেন।

সাম্প্রতিক সময়ে নিজের সংগীত ক্যারিয়ার নিয়ে নানা সিদ্ধান্তের কারণে আলোচনায় ছিলেন স্পিয়ার্স। সম্প্রতি তিনি তাঁর গানের ক্যাটালগ ও কিছু স্বত্ব বিক্রি করেছেন প্রাইমারি ওয়েভের কাছে। এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, ব্যক্তিগত কিছু সংবেদনশীল কারণে তিনি আর যুক্তরাষ্ট্রে লাইভ পারফরম্যান্স করবেন না। তবে ভবিষ্যতে যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়ায় মঞ্চে ফেরার আশা প্রকাশ করেছিলেন।

পপ সংগীতের ইতিহাসে অন্যতম সফল শিল্পী হিসেবে পরিচিত ব্রিটনি স্পিয়ার্স। তবে তাঁর ব্যক্তিগত জীবন দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনায়। ২০০৮ সাল থেকে টানা ১৩ বছর তিনি একটি আইনি অভিভাবকত্ব ব্যবস্থার অধীনে ছিলেন। সেই ব্যবস্থার অধীনে তাঁর অর্থনৈতিক ও ব্যক্তিগত জীবনের নিয়ন্ত্রণ ছিল পরিবারের হাতে। ২০২১ সালে আদালতের রায়ে সেই অভিভাবকত্ব ব্যবস্থা বাতিল হয়। এর পর থেকেই তিনি তুলনামূলকভাবে আড়ালে থাকছেন।

স্পিয়ার্সের সর্বশেষ স্টুডিও অ্যালবাম ছিল ২০১৬ সালের ‘গ্লোরি’। যুক্তরাষ্ট্রে শেষবার তিনি লাইভ পারফর্ম করেছিলেন ২০১৮ সালে, টেক্সাসের একটি অনুষ্ঠানে। পরবর্তী সময় লাস ভেগাসে নতুন রেসিডেন্সি শো করার পরিকল্পনা থাকলেও তা স্থগিত করা হয় এবং ধীরে ধীরে পারফরম্যান্স থেকে দূরে সরে যান এই পপ তারকা। সাম্প্রতিক গ্রেপ্তারের ঘটনায় আবারও আলোচনায় উঠে এসেছে তাঁর ব্যক্তিগত জীবন ও সংগ্রামের বিষয়টি।

About the author

নিজস্ব প্রতিবেদক

Leave a Comment

Prove your humanity: 6   +   8   =