চট্টগ্রাম ব্যুরো, দৈনিক পূর্বাচল: বড় মুখ, হালকা গোলাপি রঙের জেলির মতো পিচ্ছিল শরীর। স্যাঁতসেঁতে ভাবের কারণে অনেকের কাছে প্রথম দেখায় মাছটি খুব একটা আকর্ষণীয় মনে হয় না। কিন্তু স্বাদ ও পুষ্টিগুণের বিচারে লইট্টা মাছ দীর্ঘদিন ধরেই দেশের অন্যতম জনপ্রিয় সামুদ্রিক মাছ।
শুক্রবার (৩ জুলাই) চট্টগ্রাম নগরীর পাহাড়তলী বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বর্ষা মৌসুম হওয়ায় বাজারে উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে লইট্টা মাছের সরবরাহ। গভীর সমুদ্র ও উপকূলীয় এলাকা থেকে নিয়মিত মাছ আসায় এখন বাজারে সরবরাহ পর্যাপ্ত। সাশ্রয়ী ও সুস্বাদু হওয়ায় বাজারে এই মাছের ক্রেতাও প্রচুর।
আকারভেদে লইট্টা মাছের বাজারদর
বাজারে মাছের রং, আকার ও মানের ওপর ভিত্তি করে লইট্টা মাছের দামে বেশ তারতম্য দেখা গেছে। আজকের বাজারদর নিচে দেওয়া হলো:
-
ছোট আকারের সাদা লইট্টা: প্রতি কেজি ১৪০ থেকে ২২০ টাকা।
-
মাঝারি আকারের লইট্টা: প্রতি কেজি ২৬০ থেকে ৩৫০ টাকা।
-
বড় আকার ও ভালো মানের লইট্টা: প্রতি কেজি ৩৮০ থেকে ৪৫০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।
গবেষকদের মতে, এই মাছ সর্বোচ্চ ২৫ সেন্টিমিটার পর্যন্ত লম্বা হয়ে থাকে। সাধারণত বঙ্গোপসাগর, আরব সাগরসহ এশিয়ার বিভিন্ন উপকূলীয় অঞ্চলে প্রচুর পরিমাণে এ মাছ ধরা পড়ে।
অল্প টাকায় উচ্চ পুষ্টি: কী বলছেন চিকিৎসকরা?
লইট্টা মাছ শুধু স্বাদেই অনন্য নয়, এর পুষ্টিগুণও আকাশচুম্বী। পুষ্টিবিদরা জানান, লইট্টা মাছে রয়েছে উচ্চমাত্রার প্রোটিন, ক্যালসিয়াম, লৌহ এবং ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড, যা হৃদ্রোগ ও বিভিন্ন জটিল রোগের ঝুঁকি কমাতে অত্যন্ত সহায়ক। এছাড়া হাড়ের ক্ষয় ও রক্তস্বল্পতায় ভোগা মানুষের জন্য এটি দারুণ উপকারী।
এ বিষয়ে চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালের চিকিৎসক ও পুষ্টিবিদ ডা. আব্দুল কাইয়ূম দৈনিক পূর্বাচলকে বলেন,
“লইট্টা মাছ তুলনামূলকভাবে অল্প টাকায় পাওয়া গেলেও এতে থাকে উচ্চমানের প্রোটিন, ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস, যা আমাদের শরীরের জন্য খুবই প্রয়োজনীয়। নিয়মিত পরিমিত পরিমাণে লইট্টা মাছ খেলে শিশুদের শারীরিক বৃদ্ধি, হাড়ের স্বাস্থ্য এবং শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা উন্নত রাখতে বড় ভূমিকা পালন করে।”
চট্টগ্রামের খাদ্যসংস্কৃতি ও লইট্টার জনপ্রিয়তা
চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী খাদ্যসংস্কৃতিতে লইট্টা মাছের স্থান বেশ ওপরের দিকে। ভুনা, ভর্তা, ঝোল কিংবা শুঁটকি—সব ধরনের রান্নাতেই এটি সমান জনপ্রিয়। বিশেষ করে লইট্টা-বেগুনের সংমিশ্রণ চাটগাঁইয়াদের অন্যতম প্রিয় খাবার। এছাড়া লইট্টা শুঁটকি ভুনার সঙ্গে গরম ভাত যেকোনো রসনাবিলাসীর মন ভরিয়ে দেয়।
শুধু বাংলাদেশেই নয়, দেশের বাইরেও এই সামুদ্রিক মাছের ব্যাপক কদর রয়েছে। সুস্বাদু ও পুষ্টিকর হওয়ায় প্রতিবছরই বঙ্গোপসাগর থেকে এ মাছের আহরণ ও বাণিজ্যিক চাহিদা বাড়ছে।

