‘পেনগান’ আতঙ্কে কড়াকড়ি: পুলিশ সপ্তাহে মেটাল পেন নিষিদ্ধ

স্টাফ রিপোর্টার:
সাধারণ কলমের মতো দেখতে হলেও ভেতরে লুকানো প্রাণঘাতী অস্ত্র—‘পেনগান’—নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে। সাম্প্রতিক এক ঘটনায় এর ব্যবহার সামনে আসার পর নিরাপত্তা জোরদারে বিশেষ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

পেনগান মূলত এমন একটি ছোট আকারের আগ্নেয়াস্ত্র, যা দেখতে কলমের মতো হলেও ভেতরে থাকে ব্যারেল, ফায়ারিং পিন ও স্প্রিং মেকানিজম। সহজে বহনযোগ্য এই অস্ত্রটি সিঙ্গেল-শট হলেও ঝুঁকিপূর্ণ, কারণ এটি ছদ্মবেশে বহন করা যায় এবং প্রচলিত তল্লাশিতে সহজে শনাক্ত করা কঠিন।

গত ৩ এপ্রিল পুরান ঢাকার নয়াবাজার এলাকায় গুলিবিদ্ধ হন যুবদল নেতা রাসেল। পরে ঘটনাস্থল থেকে একটি পেনগান উদ্ধার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এ ঘটনার পর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নেয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পেনগান সাধারণত .২২ বা .২৫ ক্যালিবারের গুলি ব্যবহার করতে পারে। এতে কোনো সিরিয়াল নম্বর বা নির্মাতার পরিচয় না থাকায় উৎস শনাক্ত করাও কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে অপরাধীদের কাছে এটি হয়ে উঠছে একটি সুবিধাজনক অস্ত্র।

সম্প্রতি পুলিশ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চোরাচালানের মাধ্যমে এ ধরনের অস্ত্র দেশে প্রবেশ করছে এবং ধীরে ধীরে অপরাধীদের হাতে ছড়িয়ে পড়ছে। বিশেষ করে জনাকীর্ণ এলাকা, রাজনৈতিক সমাবেশ ও গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে লক্ষ্যভিত্তিক হামলায় এর ব্যবহারের আশঙ্কা রয়েছে।

এই প্রেক্ষাপটে আসন্ন ‘পুলিশ সপ্তাহ’ উপলক্ষে নিরাপত্তা জোরদারে নতুন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ পুলিশ জানিয়েছে, অনুষ্ঠানস্থলে মেটাল পেন বহন নিষিদ্ধ করা হবে।

পুলিশ সপ্তাহ উদযাপন কমিটির সদস্য এআইজি (মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স) এএইচএম শাহাদাত হোসেন বলেন, “সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো বিবেচনায় নিয়ে আমরা সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করছি। ছদ্মবেশী অস্ত্রের ঝুঁকি মোকাবিলায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।”

নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, প্রযুক্তিনির্ভর ও ছদ্মবেশী অস্ত্রের বিস্তার নতুন ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। তাই সচেতনতা বৃদ্ধি ও কঠোর নজরদারি ছাড়া এ ঝুঁকি মোকাবিলা কঠিন হবে।

About the author

নিজস্ব প্রতিবেদক

Leave a Comment

Prove your humanity: 9   +   5   =