খান সাহেব লাভবান, প্রযোজক লোকসানে—সংকটে বাংলা চলচ্চিত্র শিল্প

 মোঃ সোহেল হাওলাদার
নির্বাহী সম্পাদক: দৈনিক পূর্বাচল

ঢাকা: দেশের চলচ্চিত্র অঙ্গনে সাম্প্রতিক সময়ে নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে ঢালিউড সুপারস্টার শাকিব খান-কে ঘিরে নির্মিত সিনেমাগুলোর আর্থিক বাস্তবতা। বিশেষ করে ‘প্রিন্স’ সিনেমার প্রযোজকের বক্তব্যে বিষয়টি আরও স্পষ্টভাবে সামনে এসেছে। তিনি দাবি করেছেন, প্রায় ১৩ কোটি টাকা ব্যয় করেও একটি টাকাও লাভ করতে পারেননি।

চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে শাকিব খান অভিনীত বেশ কিছু সিনেমা দর্শকপ্রিয়তা পেলেও প্রযোজক পর্যায়ে কাঙ্ক্ষিত লাভ আসেনি। গত ঈদে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘বরবাদ সিনেমাটি দর্শকপ্রিয় হলেও সংশ্লিষ্ট প্রযোজক আর্থিকভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ প্রেক্ষিতে ওই প্রযোজক পরবর্তীতে শাকিব খানকে বাদ দিয়ে নতুন করে সিয়াম আহমেদকে নিয়ে সিনেমা নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেন।

চলচ্চিত্র বিশ্লেষকরা বলছেন, একটি বড় প্রশ্ন এখন ঘুরপাক খাচ্ছে—একজন শীর্ষ তারকার সিনেমা হিট হলেও কেন প্রযোজকরা লাভবান হচ্ছেন না? তাদের মতে, বাজেটের তুলনায় আয়ের স্বচ্ছতা, হল মালিকদের অংশ, বিপণন ব্যয় এবং চুক্তির কাঠামো—সব মিলিয়ে হিসাবের অমিল তৈরি হচ্ছে।

অভিযোগ রয়েছে, শাকিব খান প্রায়ই নতুন প্রযোজক ও পরিচালক নিয়ে কাজ করেন এবং তাদের সামনে বড় অঙ্কের লাভের সম্ভাবনা তুলে ধরেন। তবে সিনেমা মুক্তির পর সেই হিসাব আর বাস্তবের সঙ্গে মেলে না বলে দাবি করছেন অনেকেই। চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট কিছু ব্যক্তি অভিযোগ করেন, একটি প্রভাবশালী চক্র সিনেমার প্রকৃত আয়-ব্যয়ের হিসাবকে প্রভাবিত করছে, যার ফলে প্রযোজক ও হল মালিকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

বিশ্লেষকদের একটি অংশের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে এমন একটি ধারণা জোরালো হয়েছে যে—“খান সাহেব” অর্থাৎ শাকিব খান প্রতিটি সিনেমা থেকেই আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন, অথচ প্রযোজক, হল মালিক ও সংশ্লিষ্টরা লোকসানের মুখে পড়ছেন। এ প্রবণতা চলতে থাকলে ধীরে ধীরে প্রযোজক হারিয়ে যাবে এবং বাংলা চলচ্চিত্র শিল্প মারাত্মক সংকটে পড়বে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।

অন্যদিকে, শাকিব খান অভিনীত ‘প্রিয়তমা’ সিনেমাটি লাভের মুখ দেখেছে বলে জানা গেলেও সেটি ব্যতিক্রম হিসেবেই দেখা হচ্ছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই প্রযোজকরা বিনিয়োগ ফেরত পেতে ব্যর্থ হচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

তবে এ বিষয়ে শাকিব খান বা তার ঘনিষ্ঠদের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ইন্ডাস্ট্রিকে টিকিয়ে রাখতে হলে স্বচ্ছ হিসাব, সুষ্ঠু চুক্তি এবং প্রযোজকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। অন্যথায় একের পর এক প্রযোজক ক্ষতিগ্রস্ত হলে সামগ্রিকভাবে দেশের চলচ্চিত্র শিল্পই ভেঙে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

About the author

নিজস্ব প্রতিবেদক

Leave a Comment

Prove your humanity: 4   +   2   =