কেন দেখবেন ‘রাক্ষস’?

‘রাক্ষস’ মূলত একটা রোমান্টিক রিভেঞ্জ অ্যাকশন ফিল্ম। তবে রিভেঞ্জটা এখানে সোজা লিনিয়ার না, বরং লেয়ার বাই লেয়ার তৈরি করা। পরিচালক মেহেদী হাসান হৃদয়কে একজন ভিশনারি ডিরেক্টর বলতেই হবে। বড় স্কেলের গল্প, স্ক্রিনপ্লে আর সিনেম্যাটোগ্রাফি সাজানোর একটা আলাদা ক্যালিবার আছে তার, এবং সে সেটা ভালোভাবেই এক্সিকিউটও করতে পারে।

তবে সমস্যা একটাই উনি অনেক বেশি ইন্সপায়ার্ড হয়ে যান। বিভিন্ন পরিচিত সিনেমা থেকে নেওয়া সিকোয়েন্স নিজের মতো করে ব্যবহার করেন। কিন্তু এখনকার ডিজিটাল যুগে এগুলো খুব সহজেই ধরা পড়ে, আর তখন একটু ইমারশন ব্রেক করে যায়। এখান থেকে হৃদয় ভাইয়ের একটু বের হয়ে আসা দরকার। ‘রাক্ষস’-ও কিছু পরিচিত ফিল্ম থেকে ইন্সপায়ার্ড (কয়েকটা দৃশ্যে), তবে গল্পে নিজস্ব একটা ইউনিকনেস আছে।

 

প্লট বেশি খুলে বলবো না। গল্পটা একজন ব্রিলিয়ান্ট ইউনিভার্সিটি লেকচারার ‘রুশো’ (সিয়াম আহমেদ)-কে ঘিরে, যে ভীষণ এগ্রেসিভ আর এগ্রেশনই তার মূল চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য। এমন একটা টাফ আর কমপ্লিকেটেড মানুষ প্রেমে পড়ে ‘দিয়া’ (সুস্মিতা চ্যাটার্জি)-র। কিন্তু এই প্রেম থেকেই কিভাবে এক ‘রাক্ষস’-এর জন্ম হয়, কেন সে রিভেঞ্জে ডুবে যায়, আর সেই রিভেঞ্জ তাকে কোথায় নিয়ে দাঁড় করায় সেটা জানতে হলে মুভিটা দেখতে হবে।

কেন দেখবেন ‘রাক্ষস’?

– মুভির কোর গল্পটা পরিচালক বেশ ভালোভাবে এক্সপ্লোর করেছেন। যেভাবে লার্জ স্কেলে দেখানো দরকার ছিল, সেভাবেই এক্সিকিউট করেছেন। এই মুভিটা সিঙ্গেল স্ক্রিনে রিলিজ পাওয়া জরুরি ছিল কারণ এই ধরনের কমার্শিয়াল অ্যাকশন সিনেমা সিঙ্গেল স্ক্রিন অডিয়েন্স সবচেয়ে বেশি এনজয় করবে।
– সিয়াম বেশ ভালো পারফর্ম করেছে। অভিনয় থেকে ভয়েস মড্যুলেশন সব জায়গাতেই তার এফোর্ট চোখে পড়ে। লিড এক্ট্রেস সুস্মিতাও চেষ্টা করেছে সিয়ামের সাথে স্ক্রিনে কোপ আপ করতে।

– সিনেমার সবচেয়ে বড় সারপ্রাইজ সোহেল মন্ডল। এন্টাগনিস্ট হিসেবে সে একদম কাঁপিয়ে দিয়েছে। স্ক্রিন প্রেজেন্স, সোয়াগ, এটিটিউড সব মিলিয়ে দারুণ। আর যেভাবে সে লুচ্চামির অভিনয় করেছে, মনে হয় বাস্তবের কোনো লুচ্চাও এতটা পারবে না। বিগ হ্যাটস অফ টু সোহেল মন্ডল।

– বিজিএম দুর্দান্ত। বিশেষ করে এন্টাগনিস্টের এন্ট্রির সময়ের মিউজিকটা জমে গেছে। গানগুলো ওকে, বড় পর্দায় ‘বিলেত রাজা’ও খারাপ লাগেনি।

– ভিএফএক্স আর টেকনিক্যাল দিক বেশ ভালো। বিশেষ করে পোষা বাঘটা ভিএফএক্স দিয়ে বানানো হলেও বেশ রিয়ালিস্টিক লেগেছে।

– ‘বরবাদ’-এর সাথে দেখানো কানেকশনটা ভালো ছিল। একটা নস্টালজিক ফিল টেনে আনে। জিল্লুর এন্ট্রিটাও ভালো ছিল।

কিছু নেগেটিভ দিক:

– শুরুতেই বলেছি অতিরিক্ত ইন্সপায়ার্ড হওয়ার কারণে কিছু দৃশ্য পরিচিত সিনেমার সাথে মিলে যায়, যেটা কিছুটা মজা নষ্ট করতে পারে।
– এগ্রেসিভ দেখাতে গিয়ে সিয়াম মাঝে মাঝে একটু ওভার করে ফেলেছে। সে যে আলফা মেইল এটা তার আচরণেই বোঝা যায়, মুখে বলে দেওয়ার দরকার ছিল না।

– ইন্ডিয়া থেকে আনা সাদাফ ফিগারটা পুরোপুরি ওয়েস্টেড। তার কোনো ইম্প্যাক্টই নেই। সত্যি বলতে, পোষা বাঘটার অভিনয়ও তার চেয়ে বেশি মনে থাকবে।

– সিনেমায় প্রচুর গালি আর ব্রুটালিটি আছে। তাই বাচ্চাদের সাথে নিয়ে যাওয়া একদম ঠিক হবে না। অনেকেই বাচ্চা নিয়ে গিয়েছে এটা সত্যি খারাপ লেগেছে, কারণ এই ধরনের কন্টেন্ট তাদের ওপর নেগেটিভ ইম্প্যাক্ট ফেলতে পারে।

ওভারঅল ‘রাক্ষস’ একটা যত্ন নিয়ে বানানো বিগ বাজেটের সিনেমা। এই ধরনের সিনেমা ইন্ডাস্ট্রির জন্য দরকার, আর এই এফোর্টের জন্য পরিচালক অবশ্যই প্রশংসার যোগ্য। তবে ভবিষ্যতে ইন্সপায়ার্ড থিংস কমিয়ে নিজের ইউনিকনেসটা আরও বাড়াতে হবে

About the author

নিজস্ব প্রতিবেদক

Leave a Comment

Prove your humanity: 0   +   3   =