বিশ্বের দেশগুলোর মধ্যে বর্তমানে সবচেয়ে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হয়েছে ইসরায়েল নিয়ে। এরপরই রয়েছে উত্তর কোরিয়া, আফগানিস্তান ও ইরান। পঞ্চম স্থানে নেমে এসেছে যুক্তরাষ্ট্র।
বুধবার (১৩ মে) মিডল ইস্ট মনিটরে প্রকাশিত প্রতিবেদনে আন্তর্জাতিক ডেটা প্রতিষ্ঠান ‘নিরা ডেটা’ প্রকাশিত ‘গ্লোবাল কান্ট্রি পারসেপশনস ২০২৬’ সূচকে এই চিত্র উঠে এসেছে। ১২৯টি দেশ ও তিনটি আন্তর্জাতিক সংস্থার মোট ৪৬ হাজার ৬৬৭ জন উত্তরদাতার মতামতের ভিত্তিতে এই জরিপ তৈরি করা হয়েছে।
জরিপে বিশ্বজুড়ে সবচেয়ে ইতিবাচক ধারণা রয়েছে যথাক্রমে সুইজারল্যান্ড, কানাডা, জাপান, সুইডেন এবং ইতালির প্রতি।
ইসরায়েলের ভাবমূর্তির ধস
নিরা ডেটার একইসঙ্গে প্রকাশিত ‘ডেমোক্রেসি পারসেপশন ইনডেক্স ২০২৬’-এও এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজায় চলমান সংঘাত, ব্যাপক বেসামরিক হতাহত এবং আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগের কারণে ইসরায়েলের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞসহ বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা এই অভিযোগ তুলেছে।
যুক্তরাষ্ট্রেরও বড় পতন
যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানেও বড় ধরনের অবনতি ঘটেছে। মাত্র দুই বছরের ব্যবধানে দেশটির নেট রেটিং ২০২৪ সালের +২২ শতাংশ থেকে ২০২৬ সালে নেমে এসেছে -১৬ শতাংশে। অর্থাৎ ৩৮ পয়েন্টের বড় পতন।
জরিপ অনুসারে, ইসরায়েল ও রাশিয়ার পর এখন যুক্তরাষ্ট্রকেও বিশ্বের জন্য অন্যতম বড় হুমকি হিসেবে দেখা হচ্ছে। রাশিয়া ও চীনের চেয়েও নিচে নেমে গেছে ওয়াশিংটনের জনপ্রিয়তা।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পররাষ্ট্রনীতি—বিশেষ করে ন্যাটো মিত্রদের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি, আগ্রাসী শুল্কনীতি, গ্রিনল্যান্ড নিয়ে বিতর্ক, ইউক্রেনে সহায়তা কমানো এবং মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েল-কেন্দ্রিক অবস্থান—এই পতনের অন্যতম কারণ।
নিরা ডেটা দাবি করেছে, এটি বিশ্বের সবচেয়ে বড় বার্ষিক গণতান্ত্রিক জরিপ। অন্যান্য সূচকের মতো বিশেষজ্ঞদের মতামতের পরিবর্তে এখানে সরাসরি সাধারণ নাগরিকদের কাছ থেকে মতামত নেওয়া হয়েছে। গণতন্ত্র, বাকস্বাধীনতা, আইনের শাসন, স্বচ্ছতাসহ বিভিন্ন বিষয়ে তাদের অভিজ্ঞতা জানতে চাওয়া হয়েছে।
এই জরিপের ফলাফল ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, গাজা পরিস্থিতির কারণে আন্তর্জাতিক জনমত ব্যাপকভাবে বদলে গেছে এবং ইসরায়েলকে অব্যাহত সমর্থন দেওয়ার কারণে যুক্তরাষ্ট্রকেও এর মূল্য দিতে হচ্ছে।

