স্পোর্টস ডেস্ক, দৈনিক পূর্বাচল:
চলতি আসরে ৫ ম্যাচে ৮ গোল করে কিলিয়ান এমবাপের সঙ্গে গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে যৌথভাবে শীর্ষে আছেন লিওনেল মেসি। মাঠে কম দৌড়ানো নিয়ে সমালোচকদের মোক্ষম জবাব দিয়ে নিজের কৌশল জানালেন এলএমটেন। বিস্তারিত পড়ুন দৈনিক পূর্বাচল-এ।
বয়সটা কেবলই একটি সংখ্যা মাত্র, মাঠের পারফরম্যান্সে তা আবারও প্রমাণ করে চলেছেন আধুনিক ফুটবলের জাদুকর লিওনেল মেসি। চলতি টুর্নামেন্টে যেন একের পর এক রেকর্ড নিজের করে নিচ্ছেন এই আর্জেন্টাইন খুদে জাদুকর। ৫ ম্যাচে ৮ গোল করে গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে ফরাসি তারকা কিলিয়ান এমবাপের সঙ্গে যৌথভাবে শীর্ষে রয়েছেন তিনি। এই চোখ ধাঁধানো পারফরম্যান্সের ওপর ভর করে বিশ্বকাপে তার মোট গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে রেকর্ড ২১টিতে।
চলতি আসরে শুধু গোল করাই নয়, বক্সের বাইরে থেকে দূরপাল্লার শট এবং সরাসরি ফ্রি-কিক থেকে সবচেয়ে বেশি গোল করার কৃতিত্বও এখন মেসির পায়ে। তবে মাঠের এই অতিমানবীয় পারফরম্যান্সের মাঝেও একটি প্রশ্ন বারবার ঘুরপাক খায়—মেসি মাঠে এত কম দৌড়ান কেন? অবশেষে সেই রহস্যের জাল নিজেই উন্মোচন করলেন আলবিসেলেস্তে অধিনায়ক।
মিশরের বিপক্ষে রোমাঞ্চকর জয়ের পর মাঠে কম দৌড়ানোর সেই চিরচেনা কৌশল ব্যাখ্যা করতে গিয়ে মেসি বলেন, “সতীর্থরা আমার জন্য বাড়তি ত্যাগ স্বীকার করে। আমি যখন মাঠে কম দৌড়াই, তখন তারা নিজেদের সর্বোচ্চটা দিয়ে সেই ঘাটতি পূরণ করার চেষ্টা করে।”
আর্জেন্টিনার বর্তমান খেলার কৌশল ও ট্যাকটিক্স বিশ্লেষণ করলেই মেসির এই বক্তব্যের সত্যতা মেলে। প্রতিপক্ষের দখলে যখন বল থাকে, তখন মেসিকে রক্ষণাত্মক প্রেসিংয়ে খুব একটা এনার্জি খরচ করতে হয় না। সেই দায়িত্বটা দারুণভাবে সামলান তার সতীর্থরা। আর এই সময়ে মেসি মাঠে হেঁটে হেঁটেই প্রতিপক্ষের ডিফেন্স লাইন, ফাঁকা জায়গা এবং আক্রমণের সম্ভাব্য পথগুলো খুব নিখুঁতভাবে পর্যবেক্ষণ করেন।
প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডাররা যখন ভাবেন মেসি নিষ্ক্রিয়, ঠিক তখনই তৈরি হয় মোক্ষম সুযোগ। নিখুঁত পজিশনিং থেকে হুট করেই একটি ছোট দৌড়, সতীর্থের উদ্দেশ্যে বাড়ানো এক নিখুঁত পাস কিংবা ডি-বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া দুর্দান্ত এক শটে এক নিমেষেই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন এলএমটেন।
ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, মেসির এই কম দৌড়ানো মোটেও অলসতার লক্ষণ নয়; বরং এটি তার দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত ও সফল বৈজ্ঞানিক কৌশল। ম্যাচের সবচেয়ে প্রয়োজনের মুহূর্তগুলোতে শতভাগ শক্তি ঢেলে দেওয়ার জন্যই তিনি মূলত বাকিটা সময় শক্তি সঞ্চয় করেন এবং প্রতিপক্ষকে চমকে দিয়ে ম্যাচ ছিনিয়ে নেন।

