ভাণ্ডারিয়া (পিরোজপুর) প্রতিনিধি:
পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়ায় শ্বশুরবাড়ি থেকে শাহাদাৎ হোসেন বাপ্পি নামের এক যুবকের রহস্যজনক মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। পরিবারের দাবি, ভিডিও কলে স্ত্রীকে পরপুরুষের সাথে দেখার জেরে এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। বিস্তারিত পড়ুন দৈনিক পূর্বাচলে।
ভিডিও কলে স্ত্রীকে রাজধানী ঢাকার একটি হোটেল কক্ষে অন্য এক পুরুষের সঙ্গে দেখতে পাওয়ার পর দম্পতি কলহ চরমে ওঠে। এর মাত্র কয়েক দিন পর পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়ায় শাহাদাৎ হোসেন বাপ্পি (২৭) নামের এক যুবকের মরদেহ শ্বশুরবাড়ি থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনাটি আত্মহত্যা নাকি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড, তা নিয়ে এলাকায় ব্যাপক রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) সকালের দিকে ভাণ্ডারিয়া পৌরসভার কানুয়া (৮ নম্বর ওয়ার্ড) এলাকার শ্বশুরবাড়ি থেকে বাপ্পির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত বাপ্পি উপজেলার ১ নম্বর ভিটাবাড়িয়া ইউনিয়নের উত্তর শিয়ালকাঠী গ্রামের শহিদ হাওলাদারের ছেলে। এই দম্পতির ঘরে আহাদ হাওলাদার মুরসালিন (৬) ও মুসফিকা (সাড়ে ৩ বছর) নামের দুটি সন্তান রয়েছে।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, নিহত বাপ্পির স্ত্রী হাফিজা আক্তার মীম জর্ডানে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। কিন্তু স্বামী বাপ্পি ও তার পরিবার এতে রাজি ছিলেন না। এ নিয়ে পারিবারিক দ্বন্দ্বের জেরে মীম কিছুদিন আগে তার বাবার বাড়িতে চলে আসেন। অভিযোগ রয়েছে, বিদেশ যাওয়ার কাগজপত্র তৈরির অজুহাতে মীম প্রায়ই ঢাকায় যাতায়াত করতেন এবং বিভিন্ন হোটেলে অবস্থান করতেন।
বাপ্পির পরিবারের দাবি, গত ১১ জুন মীম স্বামীকে না জানিয়ে পুনরায় ঢাকায় গিয়ে একটি হোটেলে অবস্থান নেন। ওই সময় বাপ্পি মোবাইল ফোনে স্ত্রীর সঙ্গে রাগারাগি করেন। একপর্যায়ে ভিডিও কল দিলে মীম যে হোটেল রুমে ছিলেন, সেখানে অন্য এক পুরুষকে দেখতে পান বাপ্পি। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যকার দ্বন্দ্ব চরম পর্যায়ে পৌঁছায়। পরবর্তীতে গত ১৪ জুন মীম ঢাকা থেকে কানুয়ায় তার বাবার বাড়িতে ফিরে আসেন এবং মোবাইল ফোনে বাপ্পিকে সেখানে ডেকে নেন।
এ বিষয়ে নিহতের স্ত্রী হাফিজা আক্তার মীম জানান, সোমবার রাতে খাবার শেষ করে তাদের মধ্যে কথাকাটাকাটি হয়। এরপর রাত ১টার দিকে তারা ঘুমিয়ে পড়েন। রাত ২টার দিকে মীমের ঘুম ভাঙলে তিনি বাপ্পিকে ঘরে না দেখে খুঁজতে শুরু করেন। একপর্যায়ে ঘরের আড়ার সঙ্গে ওড়না পেঁচানো অবস্থায় বাপ্পিকে ঝুলতে দেখেন। মীম আরও দাবি করেন, তিনি একাই ওড়না কেটে বাপ্পির দেহ নিচে নামিয়ে খাটে রাখেন এবং পরে বাপ্পির পরিবারকে খবর দেন।
তবে বাপ্পির মা রুবী বেগম এই ঘটনাকে ‘পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড’ বলে দাবি করেছেন। তিনি অভিযোগ করে বলেন, “আমার ছেলেকে হত্যা করে এখন গলায় ফাঁসের নাটক সাজানো হচ্ছে। পুত্রবধূ মীম উচ্ছৃঙ্খল জীবন যাপন করত। অন্যজনের সঙ্গে তার সম্পর্ক রয়েছে। দুই দিন আগেও ঢাকায় অন্য জনের সঙ্গে হোটেলে ছিল, যা আমার ছেলে ভিডিও কলে দেখে ফেলে। এই ক্ষোভ থেকেই তারা আমার ছেলেকে মেরে ফেলেছে।”
এদিকে ঘটনার খবর পেয়ে বাপ্পির মা রুবী বেগম মীমদের বাড়িতে এসে আহাজারি শুরু করলে, এক পর্যায়ে মীমের চাচাতো ভাই বেল্লাল হাওলাদার তাকে বাঁশ দিয়ে মারধর করেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় ভাণ্ডারিয়া থানার ওসি (তদন্ত) রত্নেশর কুমার মন্ডল জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পিরোজপুর জেলা হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন
পিরোজপুর, ভাণ্ডারিয়া, লাশ উদ্ধার, রহস্যজনক মৃত্যু, দৈনিক পূর্বাচল

