বিশেষ প্রতিনিধি:
“বাংলাদেশ সরকারের অনুরোধে সাইপ্রাসের নিকোশিয়া আদালত এস আলম গ্রুপের কর্ণধার সাইফুল আলমের একটি বিলাসবহুল বাড়ি জব্দের আদেশ দিয়েছে। অর্থ পাচার রোধ ও সম্পদ পুনরুদ্ধারে এটিকে বড় অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।”
ভূ-মধ্যসাগরের দ্বীপরাষ্ট্র সাইপ্রাসের রাজধানী নিকোশিয়ার একটি আদালত বাংলাদেশের অন্যতম আলোচিত শিল্পগোষ্ঠী এস আলম গ্রুপের কর্ণধার সাইফুল আলমের (এস আলম) একটি বিলাসবহুল বাড়ি জব্দের আদেশ দিয়েছে। ব্যাংক জালিয়াতি ও অর্থ পাচারের অভিযোগ তদন্তের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ সরকারের অনুরোধে নিকোশিয়া জেলা আদালত এই নির্দেশ দেয় বলে সাইপ্রাসের স্থানীয় গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে জানা গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, এস আলম গ্রুপের প্রধান সাইফুল আলমের বিরুদ্ধে দেশের ব্যাংকিং খাত থেকে জালিয়াতির মাধ্যমে নামে-বেনামে বিপুল পরিমাণ ঋণ নিয়ে তা বিদেশে পাচারের গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। ক্ষমতার অপব্যবহার করে পাচার করা এই অর্থ ও সম্পদের খোঁজে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তদন্ত শুরু করেছে বাংলাদেশের বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। এরই ধারাবাহিকতায় সাইপ্রাস সরকারকে ঢাকা থেকে আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানানোর পর দেশটির আদালত এই কঠোর পদক্ষেপ নিল।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে প্রকাশিত বাংলাদেশের ‘অর্থনৈতিক শ্বেতপত্র’ অনুযায়ী, সদ্য ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের টানা ১৫ বছরের শাসনামলে বাংলাদেশ থেকে প্রায় ২৩৪ বিলিয়ন (২৩ হাজার ৪০০ কোটি) মার্কিন ডলার বিদেশে পাচার করা হয়েছে।
গত বছরের (২০২৪) ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণ-অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর পাচার হওয়া বিপুল পরিমাণ এই অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়াকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছে বর্তমান সরকার। অর্থ উদ্ধারের এই কার্যক্রমকে গতিশীল ও সমন্বিত করতে বাংলাদেশ ব্যাংকের নেতৃত্বে ইতিমধ্যেই একটি উচ্চপর্যায়ের বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে। সাইপ্রাসে এস আলমের বাড়ি জব্দের এই ঘটনাটি পাচারকৃত সম্পদ দেশে ফিরিয়ে আনার সরকারি প্রচেষ্টায় একটি বড় অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

