জীবননগর-চ্যাংখালী সড়কে তীব্র যানজট: ফুটপাত দখল ও যত্রতত্র পার্কিংয়ে চরম জনদুর্ভোগ

জীবননগর (চুয়াডাঙ্গা) প্রতিনিধি:

চুয়াডাঙ্গার সীমান্তবর্তী জীবননগর উপজেলার প্রাণকেন্দ্র বাসস্ট্যান্ড থেকে চ্যাংখালী সড়কটি এখন তীব্র যানজট ও জনদুর্ভোগের প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সড়কের দুই পাশে অবৈধভাবে দোকানের মালামাল প্রদর্শন এবং যত্রতত্র যানবাহন পার্কিংয়ের কারণে প্রতিদিনই এই রুটে সৃষ্টি হচ্ছে দীর্ঘ যানজট। বিশেষ করে সপ্তাহের রবি ও বুধবার সাপ্তাহিক হাটের দিনে এই ভোগান্তি চরম আকার ধারণ করে, যা নিরসনে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেই।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জীবননগর উপজেলার ছয়টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার বাসিন্দাদের পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ ব্যবসা-বাণিজ্য, কেনাকাটা ও প্রশাসনিক প্রয়োজনে জীবননগর বাজারে আসেন। ফলে প্রতিদিন এই সড়কে যানবাহন ও পথচারীদের ব্যাপক চাপ থাকে। হাটের দিনগুলোতে অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে যানজট ঘণ্টার পর ঘণ্টা স্থায়ী হয়, যাতে স্থবির হয়ে পড়ে পুরো এলাকা।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, সড়কের দুই পাশে পর্যাপ্ত সরকারি জায়গা থাকলেও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা ফুটপাত ছাড়িয়ে মূল সড়ক পর্যন্ত দোকানের মালামাল সাজিয়ে রেখেছেন। এর ওপর বাজারে আসা ক্রেতারা তাদের মোটরসাইকেল ও বাইসাইকেল সড়কের ওপরই এলোমেলোভাবে পার্কিং করায় যান চলাচল পুরোপুরি ব্যাহত হচ্ছে। পৌর কর্তৃপক্ষ একাধিকবার নোটিশ ও উচ্ছেদ ওয়ান্নিং দিলেও তা কোনো কাজে আসেনি।

ফুটপাত দখলের বিষয়ে জানতে চাইলে কয়েকজন দোকানদার জানান, চড়া ভাড়ায় দোকান নিয়ে তারা ব্যবসা করছেন। দোকানের ভেতরে সব মালামাল রাখলে ক্রেতাদের নজরে আসে না। তাই জীবিকার তাগিদে বাধ্য হয়েই তারা দোকানের বাইরে পণ্য প্রদর্শন করেন।

এদিকে সচেতন মহলের মতে, জীবননগর-চ্যাংখালী সড়কের দুই পাশে জেলা পরিষদের জায়গায় গড়ে ওঠা অবৈধ অবকাঠামোর কারণে সড়কটি দিন দিন সংকুচিত হয়ে পড়ছে। জনসংখ্যা ও যানবাহনের সংখ্যা জ্যামিতিক হারে বাড়লেও সড়ক ব্যবস্থাপনায় আধুনিক ও কার্যকর কোনো উদ্যোগ না থাকায় এই সংকট আরও ঘনীভূত হচ্ছে।

উল্লেখ্য, এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কটির পাশেই অবস্থিত জীবননগর উপজেলা পরিষদ, জীবননগর থানা, বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি ব্যাংক, বীমা প্রতিষ্ঠানসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর। এসব প্রতিষ্ঠানে প্রতিদিন কয়েক হাজার মানুষ সেবা নিতে আসেন। কিন্তু সড়কের এই বেহাল দশার কারণে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরও চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

তাই দীর্ঘদিনের এই তীব্র যানজট সমস্যার স্থায়ী সমাধানে ফুটপাত ও সড়ক অবমুক্ত করতে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এবং উপজেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।

About the author

নিজস্ব প্রতিবেদক

Leave a Comment

Prove your humanity: 9   +   3   =