আটলান্টা, ১৫ জুলাই:
মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে মুখোমুখি আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড। ফকল্যান্ড যুদ্ধ ও ম্যারাডোনার ইতিহাসের আবহে ম্যাচটি ঘিরে আটলান্টায় রেড অ্যালার্ট জারি। বিস্তারিত পড়ুন দৈনিক পূর্বাচলে।
মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে আজ বুধবার বৈশ্বিক ফুটবলের এক মহাসন্ধিক্ষণ। বিশ্বকাপ ফুটবলের সেমিফাইনালের হাইভোল্টেজ ম্যাচে মুখোমুখি হচ্ছে ফুটবলের দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড। মাঠের লড়াই শুরুর আগেই এই ম্যাচকে ঘিরে ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে নজিরবিহীন উন্মাদনা। তবে কেবল খেলার মাঠেই নয়, দুই দেশের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও ফুটবলীয় বৈরিতার ইতিহাস মাথায় রেখে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে স্থানীয় প্রশাসন। ম্যাচটি ঘিরে পুরো আটলান্টা শহরজুড়ে ‘রেড অ্যালার্ট’ জারি করেছে পুলিশ।
আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের মধ্যকার ফুটবলীয় দ্বৈরথ কখনোই শুধু ৯০ মিনিটের খেলার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। এর পেছনে জড়িয়ে রয়েছে ভূ-রাজনীতি ও আবেগের এক দীর্ঘ ইতিহাস। ১৯৮২ সালের ফকল্যান্ড যুদ্ধ (যা আর্জেন্টিনায় ‘মালভিনাস যুদ্ধ’ নামে পরিচিত) দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে গভীর ক্ষত তৈরি করেছিল।
রাজনৈতিক সেই উত্তেজনার আঁচ লাগে ফুটবল মাঠেও, যা চূড়ান্ত রূপ নেয় ১৯৮৬ সালের মেক্সিকো বিশ্বকাপে। সেই ম্যাচে ফুটবল ঈশ্বর ডিয়েগো ম্যারাডোনার বিতর্কিত ‘হ্যান্ড অব গড’ এবং পরবর্তীতে ফুটবল ইতিহাসের সেরা একক নৈপুণ্য ‘গোল অব দ্য সেঞ্চুরি’ এই প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে এক চিরন্তন রূপ দেয়। দীর্ঘ চার দশক পেরিয়ে গেলেও সেই ইতিহাসের রেশ কাটেনি, বরং প্রতিবার মুখোমুখি দেখায় তা আরও তীব্র হয়ে ওঠে।
আজকের সেমিফাইনালকে কেন্দ্র করে আটলান্টার আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কোনো ধরনের ঝুঁকি নিতে নারাজ। স্টেডিয়াম ও এর আশেপাশের এলাকায় ব্যাপক পুলিশি তৎপরতা চোখ পড়ছে। দর্শকদের কঠোর তল্লাশির মধ্য দিয়ে মাঠে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে। স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, স্টেডিয়ামের ভেতরে ও বাইরে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে তারা সম্পূর্ণ প্রস্তুত এবং যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে।
ফুটবল বিশ্বের নজর এখন আটলান্টার দিকে। একদিকে লিওনেল মেসির উত্তরসূরিদের সাম্বা-ভঙ্গিমার আক্রমণাত্মক ফুটবল, অন্যদিকে আধুনিক ফুটবলের অন্যতম সেরা শক্তির ইংলিশ লায়নদের রণকৌশল—সব মিলিয়ে মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে আজ কেবল ফাইনালের টিকিট নির্ধারণের লড়াই নয়, বরং ফুটবল ইতিহাসের আরও একটি মহাকাব্যিক অধ্যায় রচিত হতে যাচ্ছে।

