প্রবীণদের প্রশংসা আস্থার মর্যাদা দিয়ে ধরে রাখতে চান খায়রুল বাসার

বিনোদন ডেস্ক | দৈনিক পূর্বাচল ঢাকা, ২৯ জুন ২০২৬

‘বনলতা সেন’ সিনেমায় অভিনয় করে প্রবীণ তারকাদের প্রশংসায় ভাসছেন অভিনেতা খায়রুল বাসার। সিনেমাটির অভিজ্ঞতা, ভালো গল্পের প্রতি টান এবং ‘সেরা অভিনেতা’ হওয়া নিয়ে নিজের খোলামেলা ভাবনার কথা জানালেন ‘দৈনিক পূর্বাচল’-কে।

সম্প্রতি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছে নির্মাতা মাসুদ হাসান উজ্জ্বলের বহুল প্রতীক্ষিত সিনেমা ‘বনলতা সেন’। মুক্তির পর থেকেই ভিন্নধর্মী নির্মাণশৈলী এবং দুর্দান্ত অভিনয়ের জন্য দর্শক-মহলে বেশ প্রশংসিত হচ্ছে সিনেমাটি। বিশেষ করে কবি জীবনানন্দ দাশের চরিত্রে অভিনয় করে দর্শক ও সমালোচকদের নজর কেড়েছেন এই প্রজন্মের জনপ্রিয় অভিনেতা খায়রুল বাসার। সিনেমাটির সাফল্য, প্রাপ্তি এবং সমসাময়িক নানা প্রসঙ্গ নিয়ে সম্প্রতি তিনি কথা বলেছেন ‘দৈনিক পূর্বাচল’-এর সঙ্গে। সাক্ষাৎকারটির চুম্বক অংশ পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো:

প্রবীণদের প্রশংসা ও আস্থার মর্যাদা

‘বনলতা সেন’ মুক্তির পর শোবিজের অনেক প্রবীণ ও গুণী ব্যক্তিত্ব খায়রুল বাসারের অভিনয়ের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। এই অর্জনকে জীবনের অনেক বড় প্রাপ্তি হিসেবে দেখছেন এই অভিনেতা।

খায়রুল বাসার বলেন, “অবশ্যই এটি অনেক বড় প্রাপ্তি। আবুল হায়াত আংকেল সেদিন সিনেমাটি দেখে খুব প্রশংসা করলেন। যাকে ছোটবেলা থেকে দেখে বেড়ে উঠেছি, তাঁর কাছ থেকে এমন ইতিবাচক মন্তব্য পাওয়া সত্যিই আমার জন্য আশীর্বাদের মতো। সিনেমা দেখার পর কাছে ডেকে তিনি বারবার ভালো লাগার কথা বলেছেন, বিভিন্ন দৃশ্য নিয়ে কথা বলছিলেন। আমার এখন একটাই চেষ্টা থাকবে— তাঁর যে ভালো লাগা, যে মুগ্ধতার কথা তিনি বলেছেন, সেই আস্থার মর্যাদা যেন রাখতে পারি। সামনে আরও ভালো কাজ করতে পারি, যেন তিনি কখনো মনে না করেন তাঁর প্রশংসাটা ভুল ছিল। এ ছাড়া আজিজুল হাকিম ভাই, আফসানা মিমি আপুসহ অনেকেই প্রশংসা করে কল ও টেক্সট দিয়েছেন।”

‘বনলতা সেন’-এর ভিন্ন রকম অভিজ্ঞতা

মাসুদ হাসান উজ্জ্বলের এই সিনেমাটি খায়রুল বাসারকে এক নতুন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি করেছে। তাঁর মতে, সিনেমাটির সবচেয়ে বড় সার্থকতা হলো এটি মানুষকে ভাবাতে পেরেছে।

পরিচালকের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি বলেন, “মাসুদ হাসান উজ্জ্বল ভাইয়ের প্রতি আমি বিশেষভাবে কৃতজ্ঞ। তিনি শুধু একটি সিনেমা বানাননি, একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে গবেষণা করেছেন, ভাবনা তৈরি করেছেন এবং দর্শকের মনে নতুন প্রশ্ন তৈরি করে দিতে পেরেছেন। দর্শক যখন প্রেক্ষাগৃহ থেকে বেরোনোর সময় কিছু প্রশ্ন নিয়ে বাড়ি ফেরেন, তখন সিনেমা তার কাজটা করতে পেরেছে বলে মনে হয় আমার।”

ভালো গল্পই সবকিছুর শুরু

‘বনলতা সেন’-এর সফলতার পর স্বাভাবিকভাবেই পর্দায় তাঁর নিয়মিত উপস্থিতির আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছে দর্শকদের মনে। তবে মাধ্যম নয়, খায়রুল বাসারের মূল লক্ষ্য সবসময় ভালো গল্প ও চরিত্রের প্রতি।

তিনি জানান, “আমার চিন্তাভাবনা এখনো আগের মতোই আছে। আমি অভিনয় করতে চাই, ভালো গল্পে থাকতে চাই। আমার ইচ্ছা দেশের ভালো পরিচালকদের সঙ্গে কাজ করার। এমন গল্পে কাজ করতে চাই, যেটা মানুষকে ছুঁয়ে যাবে। সেটা সিনেমা, ওটিটি কিংবা নাটক হতে পারে— আমার কাছে মাধ্যম বড় বিষয় নয়। আমার কাজ হলো গল্প ও চরিত্রকে যথাযথভাবে তুলে ধরা। যখন কোনো স্ক্রিপ্ট হাতে পাই, প্রথমেই পুরো গল্পটা পড়ি। গল্পটা পড়ে যদি মনে হয় আমাকে ভাবাচ্ছে, আমাকে স্পর্শ করছে; কিংবা চরিত্রটার ভেতরে নতুন কিছু খুঁজে পাচ্ছি— তখনই কাজটা করার সিদ্ধান্ত নিই। চেষ্টা করি চরিত্রের প্রেমে পড়তে।”

‘সেরা অভিনেতা’ এবং দলীয় সাফল্য

অনেকেই ‘সেরা অভিনেতা’ হওয়ার দৌড়ে নাম লেখাতে চান, তবে খায়রুল বাসারের দর্শন এখানে একেবারেই আলাদা। তিনি নিজেকে কোনো একক কৃতিত্বের ফ্রেমে বাঁধতে চান না।

তাঁর ভাষায়, “সত্যি বলতে, আমার মধ্যে কখনো এ প্রবণতা কাজ করেনি যে, আমাকে সেরা অভিনেতা হতেই হবে। আমার কাছে সবচেয়ে বড় বিষয় ভালো গল্প। ভালো গল্প পেলে সবচেয়ে বেশি খুশি হই। অভিনয় আমাকে কোথায় নিয়ে যাবে, মানুষ আমাকে কতটা ভালোবাসবে— এসব আমার হাতে নেই। এটি নির্ভর করে পরিচালক, গল্প ও সহশিল্পীসহ পুরো টিমের ওপর। একজন অভিনেতা একা কখনো একটা ভালো সিনেমা বা নাটক বানাতে পারে না। যখন দর্শক কোনো সিনেমা দেখে বেরিয়ে বলে, ‘এটা অসাধারণ হয়েছে’; তখন সেটা একজন মানুষের কৃতিত্ব নয়। এটা পুরো টিমের সাফল্য।”

‘এটা আমাদেরই গল্প’ ও পারিবারিক বন্ধন

ছোট পর্দায় খায়রুল বাসারের ক্যারিয়ারের অন্যতম সফল একটি কাজ ‘এটা আমাদেরই গল্প’। নাটকটির পারিবারিক আবহই এর মূল সাফল্যের কারণ বলে মনে করেন তিনি। পরিচালক মুহাম্মদ মোস্তফা কামাল রাজের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন:

“আমার মনে হয়েছে, এ ধরনের গল্পের খুব প্রয়োজন ছিল। আমরা দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক আবেগের গল্প খুব একটা পাইনি। দর্শক নিজেদের পরিবারের সঙ্গে গল্পটার মিল খুঁজে পেয়েছে। এখানেই সবচেয়ে বড় সাফল্য দেখি। আমরা এখন সবাই খুব ব্যস্ত হয়ে গেছি। বাবা অফিসে থাকেন, মা সংসারের কাজে ব্যস্ত থাকেন, সন্তানরা স্কুল-কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে ব্যস্ত। সবাই একসঙ্গে বসে গল্প করার সময়টাও যেন কমে গেছে। এমন সময় যদি একটা নাটক পুরো পরিবারকে একসঙ্গে বসিয়ে দেয়, তাহলে তার গুরুত্ব অনেক। অভিনেতা হিসেবে আমার একটা প্রশ্ন সবসময় ছিল— ছোটরা কি আমাদের চেনে? আমরা ছোটবেলায় নাটকের তারকাদের চিনতাম। তাদের নাটক দেখার জন্য অপেক্ষা করতাম। এ নাটকটির পর দেখলাম ছোট বাচ্চারাও আমাদের চেনে, আমাদের চরিত্র নিয়ে কথা বলে, তখন সত্যিই অন্য রকম আনন্দ লাগে।”

ফুটবল এবং মনের এক সুপ্ত ইচ্ছা!

অভিনয়ের বাইরে মাঠের ফুটবলে খায়রুল বাসার আর্জেন্টিনার একজন কড়া সমর্থক। তবে প্রতিপক্ষকে ট্রল বা খোঁচা দেওয়া একেবারেই পছন্দ করেন না তিনি।

হাসতে হাসতে আর্জেন্টিনার এই ভক্ত বলেন, “না, কাউকে খোঁচা দিতে চাই না। তবে একটা ইচ্ছা ছিল, কোনো এক ম্যাচে আর্জেন্টিনা যদি সাত গোল দিত, তাহলে হয়তো অনেকেই একটু চুপ হয়ে যেত! যদিও আর্জেন্টিনা খুব ভদ্র একটা দল। অপ্রয়োজনীয়ভাবে প্রতিপক্ষকে অপমান করার চেষ্টা করে না।”

About the author

নিজস্ব প্রতিবেদক

Leave a Comment

Prove your humanity: 5   +   4   =