নারী ও সংখ্যালঘুদের ওপর জুলুম হয়েছে: উপদেষ্টা তিতুমীর

প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ মাহমুদ তিতুমীর বলেছেন, নির্বাচনী ইশতেহারে ৫টি অধ্যায় আছে। প্রথম অধ্যায় রাষ্ট্রব্যবস্থা সংস্কার। অর্থাৎ আমরা চাই আইনের শাসন, আমাদের সরকার জনগণের প্রতি দায়বদ্ধ থাকবে এবং জনগণের অধিকার নিশ্চিত করবে। কারণ, আগে যে পতিত সরকার ছিল, তার না ছিল বৈধতা, না ছিল আইনি কাঠামো। যার ফলে নিজে লুটপাট চালিয়ে গেছে। জনকল্যাণে কোনো কাজ হয়নি। জনকল্যাণের নামে যেগুলো হয়েছে, তা তো আপনারা হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছেন।

শুক্রবার (১৫ মে) দুপুরে গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার পল্লী উন্নয়ন একাডেমির হলরুমে উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর টেকসই জীবনমান উন্নয়নে সমস্যা, সম্ভাবনা ও করণীয় সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, দ্বিতীয় বিষয় যেটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ, সেটি হলো- বৈষম্যবিহীন আর্থসামাজিক উন্নয়ন এবং টেকসই রাষ্ট্রীয় সক্ষমতা। কারণ আমরা অনুসন্ধান করেছি, ভবন নির্মাণ করে যেভাবে লুটপাট করা হয়েছে। ঠিক একই কায়দায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মাদ্রাসা করা হয়েছে, স্কুল করা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয় করা হয়েছে। কিন্তু বেকারত্বের যে অভিশাপ পতিত সরকার রেখে গেছে, তা আপনারা প্রতিটি পরিবার হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছেন। আপনি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যাচ্ছেন, কোনো চিকিৎসা পাচ্ছেন না। অ্যাম্বুলেন্স আছে, ড্রাইভার নেই। যন্ত্র আছে, চালানোর মেকানিক নেই। আমরা চাই যে, বাংলাদেশে কর্মসংস্থান হোক। বাংলাদেশ সুস্বাস্থ্যের নাগরিক হোক। আমরা চাই, নারীর উন্নয়ন হোক। নারীর উন্নয়ন একটা দেশের উন্নয়নের পরিমাপক। আপনারা খেয়াল করেছেন তার (পতিত সরকারের) সময় কী পরিমাণে নারীর প্রতি সহিংসতা করা হয়েছে। কী পরিমাণে জুলুম হয়েছে। বিশেষ করে সংখ্যালঘুদের ওপর যে পরিমাণ জুলুম হয়েছে, যে পরিমাণ অত্যাচার হয়েছে, তা কিন্তু অবর্ণনীয়। আমরা দেখতে চাই যে, বাংলাদেশের সবার অধিকার আছে। কেউ সংখ্যালঘু না, সবাই রাষ্ট্রের নাগরিক।

পল্লী উন্নয়ন একাডেমির মহাপরিচালক ড. আব্দুল্লাহ আল মামুনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সেমিনারে গোপালগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. সেলিমুজ্জামান সেলিম, গোপালগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জিলানী, গোপালগঞ্জ-২ আসনের সদস্য ডা. কে এম বাবর, জেলা প্রশাসক মো. আরিফ-উজ-জামান, জেলা পুলিশ সুপার মো. হাবীবুল্লাহ, খুলনা জেলার দাকোপ উপজেলার কৃষক নিমাই কুমার রায়সহ আরও অনেকে বক্তব্য রাখেন।

কৃষক নিমাই কুমার রায় তার বক্তব্যে বলেন, বনদস্যুদের আক্রমণ, রাস্তাঘাট অনুন্নত ও স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়ন হয়নি। এ কারণে উপকূলীয় অঞ্চলে আমাদের জীবনবাজি রেখে অনেক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হয়। আমরা টেকসই উন্নয়ন চাই। পাশাপাশি জীবনমান উন্নয়নে সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সমাধানের কার্যকরী উদ্যোগ নিতে হবে। তাহলেই আমাদের জীবনমানের সত্যিকারের উন্নয়ন কবে। নতুন সরকার আমাদের প্রত্যাশা পূরণে সর্বাধিক গুরুত্ব দেবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।

About the author

নিজস্ব প্রতিবেদক

Leave a Comment

Prove your humanity: 0   +   10   =