০৩ জুন ২০২৬, ১২:৪৬ পিএম
রাজধানীর পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার মামলায় আত্মপক্ষ সমর্থনে আদালতে দাঁড়িয়ে বিচারকের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন প্রধান আসামি সোহেল রানা। এসময় আসামি সোহেল বিচারককে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘ডলারকে ধরেন স্যার, সেও তো দোষী।’
বুধবার (৩ জুন) ঢাকার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪২ ধারায় দুই আসামির আত্মপক্ষ সমর্থনের জবানবন্দি রেকর্ড করেন।
জবানবন্দি ও জেরা শেষে আদালত আগামী কাল বৃহস্পতিবার (৪ জুন) এই মামলার চূড়ান্ত যুক্তিতর্ক (আর্গুমেন্ট) উপস্থাপনের দিন ধার্য করেছেন।
এর আগে, সকালে মামলার দুই আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়। বিচারক মাসরুর সালেকীন আসামিদের বিরুদ্ধে আনা সুনির্দিষ্ট অভিযোগ এবং এই মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের মোট ১৬ জন সাক্ষীর দেওয়া সাক্ষ্য ও জবানবন্দি পড়ে শোনান।
এরপর নিয়ম অনুযায়ী বিচারক আসামিদের প্রশ্ন করেন— “আপনারা দোষী না নির্দোষ?”
বিচারকের এই প্রশ্নের জবাবে প্রধান আসামি সোহেল রানা কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে বলে, ‘স্যার,আমি নির্দোষ। খালাস চাই। আমাকে মাফ করে দেন। আমার সাথে ডলার ছিলো, সেটা কেউ দেখে নাই। তাকে ধরেন স্যার। সেও তো দোষী।’
অপরদিকে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার বিচারকের প্রশ্নের জবাবে নিজেকে সম্পূর্ণ নির্দোষ দাবি করে আদালতের কাছে ন্যায়বিচার প্রার্থনা করে।
এরপর আদালত যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্য বৃহস্পতিবার দিন ধার্য করেন বলে জানান সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী পঙ্কজ পিটার গোমেজ।
শুনানিকালে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী, বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর আজিজুর রহমান দুলু ও আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমূল্যাহ উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে মঙ্গলবার এই মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। রাষ্ট্রপক্ষে ১৭ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৬ জনের সাক্ষ্য শোনে আদালত।
সাক্ষীরা হলেন, রামিসার বাবা ও মামলার বাদী আব্দুল হান্নান মোল্লা, মা পারভীন আক্তার, বড় বোন রাইসা আক্তার, ফুপু মাহমুদা আক্তার, চাচা মিজানুর রহমান লিটন, চতুর্থ তলার বাসিন্দা মনির হোসেন, প্রতিবেশী জাকিরুল ইসলাম রাজু, দ্বিতীয় তলার বাসিন্দা শেখ আবু সামা, ফুপা মনিরুজ্জামান শাহীন, কনস্টেবল রোমা আক্তার, কনস্টেবল শরীফ মিয়া, এসআই ইকবাল হোসেন, চিকিৎসক নাসাদ জাবিন, মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাইদ, এসআই রাশেদুল ইসলাম ও তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মো. অহিদুজ্জামান।

