জীবননগর গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু, স্কুলছাত্রীর আত্মহত্যা: দুই ঘটনায় চাঞ্চল্য

জীবননগর (চুয়াডাঙ্গা) প্রতিনিধি।

চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলায় পৃথক দুটি মর্মান্তিক ঘটনায় এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু এবং এক স্কুলছাত্রীর আত্মহত্যার ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। দুটি ঘটনাই স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

জীবননগর উপজেলার সন্তোষপুর গ্রামে সারজিনা খাতুন (২৫) নামে এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। নিহত সারজিনা খাতুন একই গ্রামের ফুলচানের স্ত্রী।

নিহতের পরিবারের অভিযোগ, এটি কোনো স্বাভাবিক মৃত্যু নয়; বরং পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকেই এলাকায় নানা আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রবিবার গভীর রাতে সারজিনা খাতুনের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে তার স্বজনরা ঘটনাটি নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন। তারা অভিযোগ করেন, সারজিনার মৃত্যু রহস্যজনক এবং এর পেছনে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা থাকতে পারে। পরে বিষয়টি জীবননগর থানা পুলিশকে জানানো হলে অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ রাত প্রায় ৩টার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।

পুলিশ জানায়, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ণয়ের জন্য মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে এবং ময়নাতদন্তের জন্য চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

নিহতের পরিবারের সদস্যরা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রকৃত সত্য উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে জীবননগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) আতিয়ার রহমান বলেন, “অভিযোগের ভিত্তিতে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।”

অন্যদিকে উপজেলার মনোহরপুর ইউনিয়নের পেয়ারাতলা গ্রামের ফুলতলা এলাকায় সোহানা খাতুন (১৪) নামে সপ্তম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছে।

নিহত সোহানা খাতুন উপজেলার বেনীপুর গ্রামের মোল্লা আব্দুর জব্বারের কন্যা। তিনি স্থানীয় একটি আলিয়া মাদ্রাসার সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী ছিলেন। পরিবারের সদস্যরা দীর্ঘ প্রায় ১০ বছর ধরে ফুলতলা এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করে আসছেন।

স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, রোববার রাত ১০টার দিকে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে রাতের খাবার খাওয়ার পর সোহানা নিজ কক্ষে চলে যায় এবং দরজা বন্ধ করে দেয়। পরিবারের সদস্যরা ধারণা করেছিলেন, সে ঘুমিয়ে পড়েছে।

পরদিন সোমবার ভোরে তাকে ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়া না পেয়ে তার মা ও স্বজনরা দরজা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করেন। এ সময় ঘরের আড়ার সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় তাকে দেখতে পান। পরে দ্রুত বিষয়টি জীবননগর থানা পুলিশকে জানানো হয়।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে ময়নাতদন্তের জন্য চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।

আত্মহত্যার পেছনের কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। তবে বিষয়টি তদন্ত করছে পুলিশ।

জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সোলাইমান শেখ বলেন, “খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানা যাবে।”

একই সময়ে উপজেলার দুটি পৃথক ঘটনায় একদিকে রহস্যজনক মৃত্যু, অন্যদিকে এক কিশোরীর আত্মহত্যার ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। উভয় ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে পুলিশের তদন্তের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন নিহতদের স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা। তারা দ্রুত তদন্ত শেষ করে সত্য উদঘাটন এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

About the author

নিজস্ব প্রতিবেদক

Leave a Comment

Prove your humanity: 7   +   1   =