চুয়াডাঙ্গায় স্বেচ্ছায় খাল খননের উদ্যোগ

জীবননগর (চুয়াডাঙ্গা) প্রতিনিধি:

প্রকৃতি ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং গ্রামীণ অর্থনীতি সচল রাখতে হারিয়ে যাওয়া খাল-বিলের নাব্যতা ফিরিয়ে আনা জরুরি হয়ে পড়েছে। একসময়ের প্রমত্তা এসব খাল এখন দখল, ভরাট ও অবহেলায় মৃতপ্রায়। ফলে বাড়ছে জলাবদ্ধতা, ব্যাহত হচ্ছে কৃষি উৎপাদন এবং ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে জীববৈচিত্র্য। এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় স্বেচ্ছাশ্রম ও ব্যক্তি উদ্যোগে সরকারি খাল পুনঃখননের লক্ষ্যে এক গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

গতকাল মঙ্গলবার সকালে আলমডাঙ্গা উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত এ সভাটি উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) শাহীনুর আক্তার।

সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আলমডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বানী ইসরাইল, উপজেলা নির্বাহী প্রকৌশলী তাওহীদ হোসেন, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাসুদ হোসেন পলাশ এবং কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা উদয় আহমেদ।

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি আকতার জোয়ার্দার, সাধারণ সম্পাদক মো. আমিনুল হক রোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আনোয়ার হোসেন, ইটভাটা মালিক সমিতির কোষাধ্যক্ষ কেবল মিয়া, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মতিউর রহমান এবং উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. বশিরুল আলম। অন্যান্যের মধ্যে বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ সভায় অংশ নেন।

আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, খাল কেবল পানি প্রবাহের মাধ্যম নয়; এটি আমাদের কৃষি, পরিবেশ ও জনজীবনের সঙ্গে নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত। দীর্ঘদিন ধরে নাব্যতা সংকটের কারণে বর্ষা মৌসুমে যেমন জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে, তেমনি শুষ্ক মৌসুমে ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরতা বাড়ছে। তাই সম্মিলিত উদ্যোগে খাল পুনঃখনন করা গেলে জলাবদ্ধতা নিরসন, সেচ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি সম্ভব।

সভাপতির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহীনুর আক্তার বলেন, “সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণই পারে এ মহৎ উদ্যোগকে সফল করতে। খাল পুনঃখননকে শুধু একটি প্রশাসনিক কার্যক্রম হিসেবে না দেখে, একে সামাজিক দায়িত্ব ও জনসম্পৃক্ত আন্দোলনে রূপ দিতে হবে।” এ কাজে তিনি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, কৃষক, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দসহ সাধারণ মানুষকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

সভায় অংশগ্রহণকারীরা আলমডাঙ্গার বিভিন্ন সরকারি খাল পুনরুদ্ধারে জনসচেতনতা সৃষ্টি এবং স্বেচ্ছাশ্রমভিত্তিক কার্যক্রম বাস্তবায়নে সম্মিলিতভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এই উদ্যোগ পরিবেশবান্ধব ও সমৃদ্ধ আলমডাঙ্গা গঠনে একটি মাইলফলক হয়ে উঠবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।

About the author

নিজস্ব প্রতিবেদক

Leave a Comment

Prove your humanity: 4   +   3   =