স্টাফ রিপোর্টার, দৈনিক পূর্বাচল:
নড়াইলে নিজের পৈতৃক জমি আপন চাচা কর্তৃক দখলের অভিযোগ তুললেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত গায়িকা নাজমুন মুনিরা ন্যান্সি। ২০২১ সালে আওয়ামী লীগ নেতার প্রভাব খাটিয়ে এই দখল করা হয় এবং তাকে ‘বিএনপি ট্যাগ’ দিয়ে দমিয়ে রাখা হয়েছিল বলে জানান তিনি। বিস্তারিত পড়ুন দৈনিক পূর্বাচল-এর বিশেষ প্রতিবেদনে।
রাজনৈতিক ক্ষমতার দাপট আর পারিবারিক কূটচালের বলি হয়ে পৈতৃক জমি হারানোর বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন দেশের জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী ও জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত তারকা নাজমুন মুনিরা ন্যান্সি। নিজের আপন সেজো চাচার বিরুদ্ধে নড়াইলে কোটি টাকার পৈতৃক জমি জবরদখলের এই গুরুতর অভিযোগ এনেছেন তিনি। ২০২১ সালে করোনাকালীন সময়ে বাবার মৃত্যুর পরপরই স্থানীয় এক প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতার প্রত্যক্ষ সহায়তায় এই জমি দখল করা হয় বলে জানান এই তারকা।
সম্প্রতি নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি ভিডিও প্রকাশ করে এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছেন ন্যান্সি। একই সাথে বর্তমান পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত অন্যায়ের সুষ্ঠু বিচার ও পৈতৃক জমি ফিরে পাওয়ার আকুতি জানিয়েছেন তিনি।
যেভাবে বেদখল হলো পৈতৃক সম্পত্তি
ন্যান্সির পৈতৃক বাড়ি নড়াইল জেলার বড়দিয়ায়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গায়িকা জানান, বড়দিয়া বাসস্ট্যান্ডের সাথে লাগোয়া প্রধান সড়কের পাশের জমির প্রায় অর্ধেক অংশই তাদের। কিন্তু ২০২১ সালে করোনা মহামারির সময়ে ন্যান্সির বাবার আকস্মিক মৃত্যুর পরই মূলত এই জমি দখলের ছক আঁকেন তার সেজো চাচা সাঈদ। তৎকালীন স্থানীয় এক প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতার রাজনৈতিক ক্ষমতার অপব্যবহার করে পুরো জায়গাটিতে বাউন্ডারি বা সীমানা প্রাচীর দিয়ে রাতারাতি দখল করে নেওয়া হয়।
সংবাদমাধ্যমের সাথে আলাপকালে ন্যান্সি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,
“বাবা মারা যাওয়ার পরপরই আমার চাচা সাঈদ আমাদের জমি দখল করে বাউন্ডারি দিয়ে দেন। সে সময় আমরা থানায় লিখিত অভিযোগ জানিয়েছিলাম। তখন যদি প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সামান্যতম ব্যবস্থা নিতো, তাহলে আমাদের এই পৈতৃক জমি আগেই দখলমুক্ত হতো।”
‘আইনি লড়াইয়ে বাধা ছিল রাজনৈতিক ট্যাগ’
ফেসবুক পোস্টে ন্যান্সির ভক্ত ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা তাকে জমি উদ্ধারে মামলা করার পরামর্শ দিলে গায়িকা জানান, আইনি লড়াই তিনি আগেই করেছিলেন, কিন্তু তৎকালীন রাজনৈতিক সমীকরণের কারণে কোনো লাভ হয়নি। ন্যান্সির দাবি, ওই সময় তাকে রাজনৈতিকভাবে হেনস্তা ও কোণঠাসা করতে ‘বিএনপি ট্যাগ’ দেওয়া হয়েছিল।
তিনি বলেন, “সে সময় যেকোনো ন্যায়সংগত বিষয়ে মুখ খুললেই আমাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে একটা নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের ট্যাগ দিয়ে দমিয়ে রাখার চেষ্টা করা হতো। রাজনৈতিক জোর খাটিয়ে প্রশাসনকে নিষ্ক্রিয় করে রাখা হয়েছিল, যার কারণে আমরা ভাইবোনেরা কোনো আইনি সহায়তা পাইনি।”
মাদ্রাসা নির্মাণের নামে খাসজমি দখল?
সম্প্রতি ন্যান্সির বড় ভাই নড়াইলের ওই পৈতৃক বাড়িতে গেলে তার চাচা বাড়ির মূল ফটক (গেট) খুলতে পর্যন্ত অস্বীকৃতি জানান। ন্যান্সি তার পোস্টে একটি ভিডিও সংযুক্ত করে দেখান যে, সামনের সরকারি খাসজমিটি ‘মাদ্রাসা নির্মাণ করা হবে’—এমন ধর্মীয় দোহাই দিয়ে অবৈধভাবে আটকে রাখা হয়েছে। ভিডিওর ক্যাপশনে তিনি প্রশ্ন তোলেন, “সামনের খাসজমি মাদ্রাসা নির্মাণের কথা বলে কী বানিয়ে রেখেছে—সেটা আপনারাই দেখুন।”
এবার ন্যায়বিচারের প্রত্যাশা
দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও বিচার না পাওয়া এই সংগীতশিল্পী এবার পৈতৃক জমি ফিরে পেতে দৃঢ় আশাবাদী। ন্যান্সি বলেন, “বিগত সরকার আমলে আমরা চূড়ান্ত বৈষম্যের শিকার হয়েছি। তবে আমি বিশ্বাস করি, এবার অন্তত দেশ ও প্রশাসনের কাছ থেকে আমরা ন্যায়বিচার পাবো। আমাদের ভাইবোনদের পৈতৃক জমি এবার উদ্ধার হবে।”

