পরবর্তী গণঅভ্যুত্থান হতে পারে জামায়াতের বিরুদ্ধে: গোলাম মাওলা রনি

প্রকাশিত: ২৮ জুন, ২০২৬

ঢাকা: বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে প্রতিটি গণঅভ্যুত্থান আগেরটির তুলনায় আকার, অংশগ্রহণ ও প্রভাবের দিক থেকে জ্যামিতিক হারে বড় হয়েছে। এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে আগামীতে দেশে এমন একটি বড় গণঅভ্যুত্থান ঘটতে পারে, যা জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে কেন্দ্রিক (ফোকাসড) হতে পারে।

সম্প্রতি একটি বেসরকারি টেলিভিশনের টক শোতে অংশ নিয়ে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও ভবিষ্যৎ আন্দোলনের গতিপ্রকৃতি বিশ্লেষণ করতে গিয়ে এমন মন্তব্য করেছেন সাবেক সংসদ সদস্য ও বিশিষ্ট কলামিস্ট গোলাম মাওলা রনি।

রাজনীতিতে ত্রিমুখী শক্তি ও আওয়ামী লীগের শূন্যতা

গোলাম মাওলা রনি তাঁর বিশ্লেষণে বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক প্রভাব বর্তমানে দুর্বল হয়ে পড়ায় দেশের রাজনীতিতে একটি বড় শূন্যতা তৈরি হয়েছে। এই মুহূর্তে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে মূলত তিনটি শক্তি সক্রিয় রয়েছে। দলগুলো হলো— বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি), জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ এবং ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি।

বিএনপি ও জামায়াতের সাংগঠনিক অবস্থা

টক শোতে দলগুলোর সাংগঠনিক শক্তির তুলনা করতে গিয়ে সাবেক এই সংসদ সদস্য দাবি করেন, বিএনপি দীর্ঘ সময় ধরে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার বাইরে থাকায় এবং রাজনৈতিক প্রতিকূলতার কারণে সাংগঠনিকভাবে কিছুটা দুর্বল অবস্থায় রয়েছে। গত ১৭ থেকে ১৯ বছরের রাজনৈতিক বাস্তবতায় দলটির নেতৃত্ব ও কাঠামোগত জায়গায় কিছু ঘাটতি তৈরি হয়েছে।

অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ অতীতের বিভিন্ন সংকটময় পরিস্থিতি, বিশেষ করে ১/১১ পরবর্তী রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটেও নিজেদের সাংগঠনিক শক্তি টিকিয়ে রাখতে পেরেছে এবং গোপনে বা প্রকাশ্যে তাদের বিস্তার ঘটানোর সুযোগ পেয়েছে।

ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অস্থিরতার আশঙ্কা

রাজনৈতিক অঙ্গনের বিভিন্ন সময়ের ন্যারেটিভ, দলগুলোর সাংগঠনিক শক্তির ভারসাম্য এবং ক্ষমতার সমীকরণের পরিবর্তনের কথা উল্লেখ করে গোলাম মাওলা রনি বলেন, এই বিষয়গুলো ভবিষ্যতে দেশের রাজনীতিতে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি করতে পারে।

তবে কলামিস্ট গোলাম মাওলা রনি স্পষ্ট করে জানান, এই বক্তব্য সম্পূর্ণই তাঁর ব্যক্তিগত রাজনৈতিক বিশ্লেষণ ও পর্যবেক্ষণ, যা তিনি সমসাময়িক পরিস্থিতি বিবেচনা করে টক শোতে তুলে ধরেছেন

About the author

নিজস্ব প্রতিবেদক

Leave a Comment

Prove your humanity: 3   +   1   =