রাজনীতিতে নিষিদ্ধের দুই বছর: ৭৭ বছরে সবচেয়ে বড় সংকটে আওয়ামী লীগ

বিশেষ প্রতিবেদন, দৈনিক পূর্বাচল:

রাজনীতিতে নিষেধাজ্ঞা ও নেতৃত্বের চরম সংকটের মধ্যে ৭৭ বছর পূর্ণ করল আওয়ামী লীগ। মাঠের রাজনীতি ও দলটির বর্তমান অবস্থান নিয়ে দৈনিক পূর্বাচলের একটি বিশেষ বিশ্লেষণাত্মক প্রতিবেদন।

প্রতিষ্ঠার ৭৭ বছর পূর্ণ করল দেশের অন্যতম প্রাচীন রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ। তবে এই দীর্ঘ রাজনৈতিক ইতিহাসে দলটির এমন বিপর্যয় আর কখনো দেখা যায়নি। ২০২৪ সালের ঐতিহাসিক গণ-অভ্যুত্থানে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে প্রায় দুই বছর ধরে দলটির সব ধরনের রাজনৈতিক কর্মসূচি আইনিভাবে নিষিদ্ধ রয়েছে। বর্তমানে কেবল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক প্রচার এবং মাঝে মধ্যে রাজপথে হঠাৎ কিছু ‘ঝটিকা মিছিল’—এর মধ্যেই সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে দলটির রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড।

বারবার রাজনীতিতে ঘুরে দাঁড়ানোর বার্তা দিলেও, বাস্তবতার মাঠে এখনো কার্যকর কোনো অবস্থান তৈরি করতে পারেনি দলটি। একদিকে প্রকাশ্য রাজনীতিতে নিষেধাজ্ঞা, অন্যদিকে রাজপথে নামার চেষ্টা করলেই বাড়ছে গ্রেপ্তারের তালিকা। ফলে ভার্চুয়াল দুনিয়া ও অফলাইনের এই সীমিত তৎপরতায় দলটি আসলে কতটা সুবিধা করতে পারবে, তা নিয়ে খোদ রাজনৈতিক মহলেই বড় প্রশ্ন উঠেছে।

নিষেধাজ্ঞার কড়াকড়ি ও বর্তমান রাজনৈতিক সমীকরণ

গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়েই আওয়ামী লীগ এবং এর সব সহযোগী ও অঙ্গসংগঠনের (যেমন: ছাত্রলীগ) রাজনৈতিক কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। political মহলে গুঞ্জন ছিল, নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় আসার পর হয়তো দলটি স্বাভাবিক রাজনীতিতে ফেরার সুযোগ পেতে পারে।

তবে সাম্প্রতিক সাধারণ নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পরও দলটির ওপর সেই নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখা হয়েছে। এমনকি আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে যাতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা না ঘটে, সেজন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বিশেষ সতর্ক অবস্থায় রেখেছে বর্তমান সরকার। সম্প্রতি ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ দেশের কয়েকটি স্থানে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিলের পর প্রশাসনের পক্ষ থেকে কড়াকড়ি আরও জোরদার করা হয়েছে।

শীর্ষ নেতৃত্বের সাজা ও অনুশোচনাহীন রাজনীতি

বিশ্লেষকদের মতে, দল হিসেবে আওয়ামী লীগ এখন ইতিহাসের সবচেয়ে বিপর্যস্ত ও নেতৃত্বহীন সংকটের মুখোমুখি। গত বছরের নভেম্বর মাসে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল জুলাই-আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেয়। এই রায় দলটির সাংগঠনিক মেরুদণ্ডকে আরও দুর্বল করে দিয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের দমনপীড়ন ও প্রাণহানির ঘটনা নিয়ে দলটির ভেতরে এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো আত্মোপলব্ধি বা অনুশোচনা দেখা যায়নি। এই অনুশোচনাহীন মনোভাব দলটির মূলধারার রাজনীতিতে ফেরা এবং জনসমর্থন পুনরুদ্ধারের পথকে আরও কঠিন ও দীর্ঘমেয়াদী সংকটের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। অফলাইন ও অনলাইনের খণ্ডিত তৎপরতা দিয়ে এই গভীর রাজনৈতিক ও নৈতিক সংকট কাটিয়ে ওঠা দলটির জন্য এক বিরাট চ্যালেঞ্জ।

 সোহেল হাওলাদার, নির্বাহী সম্পাদক, দৈনিক পূর্বাচল।

About the author

নিজস্ব প্রতিবেদক

Leave a Comment

Prove your humanity: 5   +   7   =