চীনের বাজারে যাচ্ছে বাংলাদেশের কাঁঠাল: দুই দেশের সমঝোতা স্মারক সই

অর্থনীতি প্রতিবেদক, দৈনিক পূর্বাচল:

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরে বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে স্বাক্ষরিত হলো ১৭টি এমওইউ। এবার চীনের বিশাল বাজারে আনুষ্ঠানিকভাবে রপ্তানি হতে যাচ্ছে বাংলাদেশের জাতীয় ফল কাঁঠাল। বিস্তারিত পড়ুন দৈনিক পূর্বাচলে।

দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ঘাটতি কমিয়ে আনার লক্ষ্যে চীনের বাজারে বাংলাদেশের জাতীয় ফল কাঁঠাল রপ্তানির পথ সুগম হলো। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক চীন সফরে দুই দেশের মধ্যে কৃষি পণ্য রপ্তানি সংক্রান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরিত হয়েছে। বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন পণ্য রপ্তানিতে শীর্ষস্থানে থাকা পরাশক্তি চীন কেন বাংলাদেশ থেকে কাঁঠাল আমদানিতে আগ্রহী হয়ে উঠল— তা নিয়ে দেশের ব্যবসা ও অর্থনৈতিক মহলে ব্যাপক ইতিবাচক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

১৭টি সমঝোতা স্মারকের অন্যতম ‘কাঁঠাল রপ্তানি’

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় সফরে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে মোট ১৭টি সমঝোতা স্মারক বা এমওইউ স্বাক্ষরিত হয়েছে। এসব চুক্তির মধ্যে দুই দেশের অবকাঠামো উন্নয়ন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ডিজিটাল অর্থনীতির (Digital Economy) পাশাপাশি বাংলাদেশ থেকে চীনে কাঁঠাল রপ্তানির বিষয়টিও আনুষ্ঠানিকভাবে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্র জানায়, এই সফরের মূল লক্ষ্যগুলোর একটি ছিল দুই দেশের মধ্যকার বিশাল বাণিজ্য ঘাটতি কমিয়ে আনা। চীনে কাঁঠাল রপ্তানির এই দ্বিপাক্ষিক সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের কৃষি খাতের জন্য একটি বড় বৈশ্বিক সম্ভাবনা তৈরি করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আগে থেকেই ছিল আগ্রহ

বাংলাদেশ থেকে কাঁঠাল আমদানিতে চীনের এই আগ্রহ অবশ্য হঠাৎ করে তৈরি হয়নি। এর আগে, ২০১৫ সালের মে মাসে চীন যখন বাংলাদেশ থেকে প্রথমবারের মতো কাঁচা আম আমদানি শুরু করে, তখনই বাংলাদেশে নিযুক্ত তৎকালীন চীনা রাষ্ট্রদূত কাঁঠাল ও পেয়ারার মতো গ্রীষ্মকালীন ফল নেওয়ার ব্যাপারে গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর বর্তমান সফরে সেই কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক আলোচনাটিই এখন আনুষ্ঠানিক অনুমোদনের চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছাল।

কৃষি অর্থনীতি ও রপ্তানি খাতে নতুন দিগন্ত

কৃষি অর্থনীতিবিদ এবং কৃষি পণ্য রপ্তানি খাতের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা এই চুক্তিকে দেশের অর্থনীতির জন্য একটি বড় মাইলফলক হিসেবে দেখছেন। বাংলাদেশে প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ কাঁঠাল উৎপাদিত হলেও সঠিক সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণের অভাবে তার একটি বড় অংশ নষ্ট হয়ে যায়। চীনের মতো বিশাল বাজারে যদি এই ফল পদ্ধতিগতভাবে রপ্তানি করা সম্ভব হয়, তবে দেশের প্রান্তিক কৃষকেরা সরাসরি লাভবান হবেন এবং জাতীয় অর্থনীতিতে বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহ বাড়বে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের বিশেষজ্ঞদের মতে, চুক্তি সইয়ের পর এখন দ্রুততম সময়ে ফাইটোস্যানিটারি (উদ্ভিদ স্বাস্থ্য সুরক্ষা) মানদণ্ড নিশ্চিত করে রপ্তানি প্রক্রিয়া শুরু করাই হবে মূল চ্যালেঞ্জ

About the author

নিজস্ব প্রতিবেদক

Leave a Comment

Prove your humanity: 2   +   9   =