ঢাকা, ২১ জুন ২০২৪: চিকিৎসা বিজ্ঞানের নিত্যনতুন গবেষণায় পুরুষদের সামগ্রিক স্বাস্থ্য নিয়ে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। যাকে অনেকেই কেবল একটি ‘যৌন সমস্যা’ বা ‘পুরুষত্বহীনতা’ বলে এড়িয়ে যান, সেই ইরেক্টাইল ডিসফাংশন বা লিঙ্গোত্থানজনিত সমস্যা আসলে হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক, ডায়াবেটিস এবং ডিমেনশিয়ার মতো মারাত্মক রোগের প্রাথমিক সতর্কবার্তা হতে পারে। গবেষকদের মতে, এটি কোনো সাধারণ সমস্যা নয়, বরং পুরুষের শরীরের এক নীরব মহামারি।
কেন এটিকে ‘নীরব মহামারি’ বলা হচ্ছে?
একাধিক আন্তর্জাতিক সমীক্ষার তথ্য অনুযায়ী, ৪০ বছরের বেশি বয়সী অর্ধেকেরও বেশি প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ কোনো না কোনোভাবে এই সমস্যায় ভুগছেন। এত বিশাল সংখ্যক মানুষ আক্রান্ত হওয়া সত্ত্বেও লোকলজ্জা আর সামাজিক জড়তার কারণে বিষয়টি নিয়ে কেউ মুখ খুলতে চান না। এমনকি চিকিৎসকের কাছে যেতেও চরম অনীহা দেখা যায়। যদি কখনো বন্ধুদের আড্ডায় বা আলোচনায় বিষয়টি উঠেও আসে, তবে এটিকে আসন্ন কোনো বড় অসুস্থতার সংকেত হিসেবে না দেখে, স্রেফ ঠাট্টা-তামাশা বা হাসির পাত্র হিসেবে উড়িয়ে দেওয়া হয়।
পুরুষাঙ্গ: সামগ্রিক স্বাস্থ্যের এক ‘ব্যারোমিটার’
সাম্প্রতিক বিভিন্ন মেডিকেল গবেষণায় দেখা গেছে, পুরুষের যৌনাঙ্গ মূলত তার পুরো শরীরের রক্ত সঞ্চালন এবং স্নায়ুতন্ত্রের সুস্থতার একটি নিখুঁত ‘ব্যারোমিটার’ বা পরিমাপক হিসেবে কাজ করে। রক্তনালীর যেকোনো সমস্যা বা ব্লকেজ শরীরের অন্য অংশের চেয়ে প্রথমে এখানেই দৃশ্যমান হয়।
“এটি মূলত একটি আগাম সতর্কবার্তা বা বিপদের পূর্বাভাস। হৃদরোগ বা স্ট্রোকের মতো বড় ধাক্কা আসার আগেই শরীর এই সংকেত দিয়ে থাকে।” — এমানুয়েলে জানিনি, যৌন বিশেষজ্ঞ ও অধ্যাপক, রোম টর ভারগাতা বিশ্ববিদ্যালয়।
অধ্যাপক জানিনি সম্প্রতি এই বিষয়ের ওপর বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের গবেষণালব্ধ তথ্য ও প্রমাণ পর্যালোচনা করে একটি গুরুত্বপূর্ণ বই সম্পাদনা করেছেন, যেখানে এই সমস্যার সাথে হৃদরোগের গভীর সংযোগের কথা তুলে ধরা হয়েছে।
চিকিৎসকদের জন্য বড় সুযোগ, কিন্তু বাধা যেখানে
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চিকিৎসকেরা যদি পুরুষদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার সময় লিঙ্গোত্থানজনিত সমস্যার বিষয়টি গুরুত্বের সাথে এবং আরো কার্যকরভাবে খতিয়ে দেখেন, তবে অনেক পুরুষের জীবন বাঁচানো সম্ভব। এর মাধ্যমে হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোকের মতো মারাত্মক ঝুঁকিগুলো শরীরে বড় আকার ধারণ করার আগেই চিহ্নিত করা যায় এবং সময়মতো চিকিৎসা শুরু করা সম্ভব হয়।
কিন্তু মূল সমস্যা দাঁড়িয়েছে সচেতনতায়। নিজের যৌন স্বাস্থ্য নিয়ে কথা বলতে পুরুষদের তীব্র অনীহা ও সংকোচের কারণে এই চমৎকার জীবনরক্ষাকারী সুযোগগুলো হাতছাড়া হয়ে যাচ্ছে। চিকিৎসকদের মতে, সুস্থ ও দীর্ঘায়ু পেতে হলে এই ট্যাবু বা সামাজিক কুসংস্কার ভেঙে পুরুষদের সচেতন হতে হবে এবং চিকিৎসকের কাছে সঠিক তথ্য প্রকাশ করতে হবে।

