বিশ্বকাপে কানাডার ইতিহাস গড়া মহোৎসব, মাঠে তরুণের পা ভেঙে ট্র্যাজেডি!

স্পোর্টস ডেস্ক, 

ঢাকা, ১৯ জুন ২০২৬

ফিফা বিশ্বকাপে কাতারকে ৬-০ গোলে হারিয়ে নিজেদের প্রথম জয় পেল স্বাগতিক কানাডা। জোনাথন ডেভিডের হ্যাটট্রিকের ম্যাচে পা ভাঙল ইসমায়েল কোনের।

 বিখ্যাত বিসি প্লেস স্টেডিয়ামে ফুটবল বিশ্বকাপের এক অবিশ্বাস্য রূপকথার জন্ম দিল স্বাগতিক কানাডা। কাতারকে ৬-০ গোলের বিশাল ব্যবধানে উড়িয়ে দিয়ে বিশ্বকাপে নিজেদের ফুটবল ইতিহাসের প্রথম জয় তুলে নিয়েছে তারা। জোনাথন ডেভিডের রেকর্ড গড়া দুর্দান্ত হ্যাটট্রিকের দিনে কাতারকে মাঠ ছাড়তে হয়েছে জোড়া লাল কার্ডের লজ্জা নিয়ে। তবে একচেটিয়া আধিপত্য ও রেকর্ডবুক ওলটপালট করার এই আনন্দের দিনেও স্বাগতিক শিবিরে নেমে এসেছে এক বুক বিষাদ। ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে প্রতিপক্ষের ফুটবলারের মারাত্মক ফাউলের শিকার হয়ে কানাডিয়ান মিডফিল্ডার ইসমায়েল কোনের পা ভেঙে যাওয়ার মর্মান্তিক ঘটনা স্তব্ধ করে দিয়েছে ফুটবল বিশ্বকে।

শুরু থেকেই শক্তির ব্যবধান ও প্রথমার্ধের দাপট

ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ের ২৮তম স্থানে থাকা কানাডার বিপক্ষে ৫৮তম স্থানে থাকা কাতারের লড়াইয়ে মাঠে শক্তির পার্থক্য স্পষ্ট ছিল শুরু থেকেই। ম্যাচের ১৬ মিনিটেই কাইল লারিনের চোখধাঁধানো গোলে লিড নেয় কানাডা। এরপর ৩৩ মিনিটে কানাডার ফরোয়ার্ড তেজন বুকাননকে ফাউল করে সরাসরি লাল কার্ড দেখেন কাতারের ডিফেন্ডার হোমাম আহমেদ। ১০ জনের দলে পরিণত হওয়া কাতারের বিপক্ষে আক্রমণের ধার আরও বাড়ায় স্বাগতিকরা। ২৯ মিনিট ও প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে (ইঞ্জুরি টাইম) আরও দুটি গোল করে স্কোরলাইন ৩-০ করেন জোনাথন ডেভিড।

মাঠে ট্র্যাজেডি: ইসমায়েল কোনের পা ভাঙল, অঝোরে কাঁদলেন কোচ

ম্যাচের ৫২ মিনিটে ঘটে ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাসের অন্যতম অনাকাঙ্ক্ষিত ও হৃদয়বিদারক ঘটনাটি। বল দখলের লড়াইয়ে পেছন থেকে কানাডার মিডফিল্ডার ইসমায়েল কোনেকে ভয়াবহ এক ট্যাকল করেন কাতারের আসিম মাদিবো। আঘাতের তীব্রতায় মাঠে লুটিয়ে পড়েন কোনে, ভেঙে যায় তার বাঁ পায়ের হাঁটুর নিচের অংশ। মাঠে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর তাকে যখন স্ট্রেচারে করে বাইরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, তখন ডাগআউটে সাইডলাইনে কানাডার কোচ জেসে মার্চকে অঝোরে কাঁদতে দেখা যায়।

ভয়াবহ এই ফাউলের জন্য মাদিবোকে প্রথমে হলুদ কার্ড দেওয়া হলেও, ভিএআর (VAR) পর্যালোচনার পর রেফারি তাকে সরাসরি লাল কার্ড দেখান। ফলে ৯ জনের দলে পরিণত হয় কাতার। এই অনাকাঙ্ক্ষিত চোটের কারণে প্রায় সাড়ে ছয় মিনিট খেলা বন্ধ থাকে।

গোল উদযাপন ও এক আবেগঘন মুহূর্ত

কোনের বদলি হিসেবে মাঠে নেমে ৬৪ মিনিটে ফ্রি-কিক থেকে দুর্দান্ত এক গোল করেন নাথান সালিবা। গোল উদযাপনের সময় সালিবা মাঠের ক্যামেরার সামনে আহত সতীর্থ কোনের জার্সি উঁচিয়ে ধরে এক আবেগঘন মুহূর্তের জন্ম দেন, যা স্টেডিয়ামের হাজারো দর্শককে আবেগাপ্লুত করে তোলে। এরপর ৭৫ মিনিটে কাতারের মোহাম্মদ মানাইয়ের আত্মঘাতী গোলে ব্যবধান আরও বাড়ে। সবশেষে দ্বিতীয়ার্ধের যোগ করা সময়ে জোনাথন ডেভিড নিজের তৃতীয় গোলটি করে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করার পাশাপাশি দলের ৬-০ ব্যবধানের বড় জয় নিশ্চিত করেন।

রেকর্ডবুক ওলটপালট: কানাডার গৌরব, কাতারের লজ্জা

এই মহাজয়ের মাধ্যমে বিশ্বকাপে একাধিক রেকর্ডের জন্ম দিয়েছে কানাডা:

  • ৬০ বছরের রেকর্ড স্পর্শ: ১৯৬৬ সালের ফাইনালে ইংল্যান্ডের জিওফ হার্স্টের পর দীর্ঘ ৬০ বছর পর স্বাগতিক দেশের কোনো খেলোয়াড় হিসেবে বিশ্বকাপে হ্যাটট্রিক করার কীর্তি গড়লেন জোনাথন ডেভিড। সব মিলিয়ে তিনি এই তালিকার ষষ্ঠ খেলোয়াড়।

  • স্বাগতিকদের রেকর্ড জয়: ১৯৩৪ সালে ইতালির ৭-১, ১৯৫০ সালে ব্রাজিলের ৭-১ এবং ১৯৭৮ সালে আর্জেন্টিনার ৬-০ গোলের জয়ের পর, স্বাগতিক দেশ হিসেবে বিশ্বকাপে সবচেয়ে বড় ব্যবধানে জয়ের রেকর্ডে ভাগ বসাল কানাডা।

  • কাতারের লজ্জার রেকর্ড: অন্যদিকে, বিশ্বকাপের ইতিহাসে কাতারই প্রথম দল, যারা একই ম্যাচে দুটি লাল কার্ড দেখার পাশাপাশি আত্মঘাতী গোল হজম করার অনাকাঙ্ক্ষিত ও লজ্জার রেকর্ড গড়েছে।

গ্রুপ ‘বি’-র শীর্ষে কানাডা

এই জয়ের ফলে ‘বি’ গ্রুপের পয়েন্ট তালিকায় শীর্ষস্থান দখল করেছে কানাডা। দুই ম্যাচ শেষে তাদের সংগ্রহ ৪ পয়েন্ট। আগের ম্যাচে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনাকে হারানো সুইজারল্যান্ডের পয়েন্টও সমান ৪ হলেও, গোল ব্যবধানে পিছিয়ে থাকায় তারা গ্রুপের দ্বিতীয় স্থানে নেমে গেছে।

About the author

নিজস্ব প্রতিবেদক

Leave a Comment

Prove your humanity: 5   +   2   =