রংপুরের ৩৩টি ওয়ার্ডের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত

শুক্রবার রাত থেকে শনিবার সকাল পর্যন্ত টানা বৃষ্টিপতের ফলে রংপুর নগরীর ৩৩টি ওয়ার্ডের বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন নগরবাসী। জলাবদ্ধতায় ১২ মহল্লার প্রায় ৩ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। হাঁটু সমান পানিতে তলিয়ে গেছে বহু সড়ক, বাসাবাড়ি ও অলিগলি।

নগরবাসীর অভিযোগ, ড্রেনেজ ব্যবস্থার অব্যবস্থাপনা ও সময়মতো ড্রেন পরিষ্কার না করায় সামান্য বৃষ্টিতেই ভয়াবহ জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে। নগরীর শ্যামাসুন্দরী ও কেডি খাল সংস্কার না করা, পরিকল্পনাহীন যত্রতত্র বাড়ি-ঘর নির্মাণ, পানিনিস্কাশনের জন্য নগরীর সকল উৎসের মুখগুলো বন্ধ ও নগরীর ড্রেনগুলোতে জমে থাকা ময়লা অপসারণ না করার জন্য এই দশা সৃষ্টি হয়েছে।

এই কারণে গত ২৪ ঘন্টার বৃষ্টিপাতের ফলে বিশেষ করে নগরীর লালবাগ, নবীনগর, আবহাওয়া অফিস রোড, বাবাখাঁ, শালবন, বাহার কাছনা, শান্তিবাগ, তেলিটারী, দর্শনা, মুলাটোল, পালপাড়া, ধাপ, চিকলী ও জুম্মাপাড়াসহ বিভিন্ন মহল্লায় হাঁটুসমান পানি জমে যায়। এসব এলাকার অনেক বাড়িঘরে পানি ঢুকে পড়ায় রান্নাবান্না, চলাচল ও শিশুদের স্কুলে যাওয়া বন্ধ হয়ে যায়। ভোগান্তিতে পড়েন কর্মজীবী মানুষরাও।

এমনকি পানির কলগুলো ডুবে থাকায় বিশুদ্ধ খাবার পানির সংকট দেখা দিয়েছে। বাড়ি-ঘরে হাঁটু পানি জমে থাকায় রান্না করতে পারেনি এই সব এলাকার পরিবারগুলো। শুকনা খাবার কিনে খেতে বাধ্য হচ্ছেন তারা।

পানিবন্দি পরিবারগুলোর অভিযোগ, রংপুর সিটি করপোরেশনের পানি নিষ্কাশনের জন্য নির্মিত ড্রেনগুলো দীর্ঘদিন পরিষ্কার না করায় সেগুলো ময়লা-আবর্জনায় ভরাট হয়ে গেছে। ফলে বৃষ্টির পানি দ্রুত নামতে না পেরে রাস্তাঘাট ও ঘরবাড়িতে ঢুকে পড়ছে। অনেক স্থানে ড্রেনের মুখ বন্ধ থাকায় পানি উপচে পুরো এলাকা প্লাবিত হচ্ছে।

আবহাওয়া অফিস সংলগ্ন মাস্টার পাড়ার বাসিন্দা সাইফুল বলেন, প্রতিবছর বর্ষা এলেই আমরা একই দুর্ভোগে পড়ি। ড্রেনগুলো নিয়মিত পরিষ্কার করলে এত জলাবদ্ধতা হতো না। রাতভর পানি ঘরে ঢুকে শিশুদের নিয়ে খুব কষ্টে ছিলাম। ঘরে রান্না করার মত পরিস্থিতি নেই। পানির কল বৃষ্টির জমে থাকা পানিতে ডুবে যাওয়ায় বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে। একই পরিস্থিতির কথা জানান স্থানীয়রা।

রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী আযম খান বলেন, নগরীর বিভিন্ন এলাকায় ড্রেনের ওপর নির্মাণসামগ্রী ফেলে রাখায় পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এতে নিম্নাঞ্চলে দ্রুত পানি জমে যাচ্ছে। তিনি জানান, সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা সকাল থেকেই পানি নিষ্কাশনে কাজ করছে। আশা করা হচ্ছে দুপুরের মধ্যেই অধিকাংশ এলাকার পানি নেমে যাবে।

এদিকে রংপুর আবহাওয়া অফিসের প্রধান জানান, এপ্রিল মাসে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ১১০ মিলিমিটার হলেও এবার জেলায় বৃষ্টিপাত হয়েছে ২৯০ মিলিমিটার। অর্থাৎ স্বাভাবিকের চেয়ে ১৮০ মিলিমিটার বেশি বৃষ্টি হয়েছে। এতে করে জলাবদ্ধতা বেড়েছে।

রংপুর আবহাওয়া অফিসের পর্যবেক্ষক আফরোজা পারভিন জানান, শুক্রবার রাত থেকে শনিবার দুপুর পর্যন্ত রংপুরে ৬৮ দশমিক ৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আগামী কয়েকদিনও বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে বলে তিনি জানান।

অন্যদিকে এই বৃষ্টি কৃষকদের জন্য আশীর্বাদ হয়ে এসেছে বলে জানিয়েছেন কৃষি কর্মকর্তারা। রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক সিরাজুল ইসলাম বলেন, এপ্রিলের এই বৃষ্টিতে বোরো চাষে সেচের খরচ অনেকটাই কমে গেছে। অনেক জমিতে ধানে ইতোমধ্যে শীষ এসেছে। ভারি বৃষ্টিতেও ফসলের তেমন ক্ষতির আশঙ্কা নেই। এতে কৃষকদের উৎপাদন খরচ কমবে এবং ভালো ফলনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

About the author

নিজস্ব প্রতিবেদক

Leave a Comment

Prove your humanity: 10   +   2   =