৩১ বছর আগের সেই ঈদ: ঢাকাই চলচ্চিত্রে তারকার লড়াই, গানের জোয়ার আর নস্টালজিয়ার স্মৃতি

নিজস্ব প্রতিবেদক, ডেইলি পূর্বাচল:

সময় গড়িয়ে গেছে তিন দশকেরও বেশি। তবুও ১৯৯৫ সালের ঈদুল আজহার সেই চলচ্চিত্র উৎসব আজও দর্শকদের মনে জাগায় গভীর নস্টালজিয়া। যেন এই তো সেদিন—ঢাকাই সিনেমা হলে মুক্তি পেয়েছিল একসঙ্গে ছয়টি ছবি, আর তারকাদের প্রতিযোগিতায় মুখর ছিল পুরো দেশ।

সেবারের ঈদে মুক্তিপ্রাপ্ত ছবিগুলো ছিল— স্বপ্নের ঠিকানা, বুকের ধন, সংসারের সুখ-দুঃখ, ভাঙচুর, বাংলার কমান্ডো এবং মুক্তির সংগ্রাম। এর মধ্যে স্বপ্নের ঠিকানা প্রথমে ঢাকার বাইরে মুক্তি পেলেও পরবর্তীতে দর্শকপ্রিয়তার জোয়ারে রাজধানীতে প্রবেশ করে এবং শেষ পর্যন্ত ঈদের সেরা ছবির মর্যাদা অর্জন করে।

এই ছবির মাধ্যমেই চিত্রনায়ক সালমান শাহ এবং চিত্রনায়িকা শাবনূর জুটি দর্শকদের হৃদয়ে স্থায়ী জায়গা করে নেন। বিশেষ করে শাবনূরের অভিনয় তাকে একজন শক্তিশালী অভিনেত্রী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে এবং তার ক্যারিয়ারের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।

অন্যদিকে, ভাঙচুর ছিল সুপারহিট, আর সংসারের সুখ-দুঃখ হিটের চেয়েও একটু বেশি সফলতা পায়। মুক্তির সংগ্রামও দর্শকপ্রিয়তা অর্জন করে। তবে বাংলার কমান্ডো এবং বুকের ধন চলেছে মোটামুটি।

১৯৯৫ সালের সেই ঈদকে অনেকেই “মৌসুমীর ঈদ” হিসেবে আখ্যা দেন। কারণ চিত্রনায়িকা মৌসুমী-এর একাধিক ছবি সে সময় সুপারহিট ও হিট হয়। জনপ্রিয়তার দিক থেকে তাকে তখন বলিউডের মাধুরী দীক্ষিত-এর সঙ্গে তুলনা করা হতো।

গানের ক্ষেত্রেও ছিল অভূতপূর্ব সাড়া। ভাঙচুর ছবির “সবার জীবনে প্রেম আসে” গানটি বিটিভির ‘ছায়াছন্দ’ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এতটাই জনপ্রিয় হয়ে ওঠে যে একসময় দর্শকদের কাছে অতিরিক্ত শোনার কারণে একঘেয়েমিও তৈরি হয়। অন্যদিকে স্বপ্নের ঠিকানা ছবির গানগুলো ছিল রেডিও হিট—দিনভর বিভিন্ন অনুষ্ঠানে বাজতে থাকত সেই গান।

চলচ্চিত্রের সেই সোনালি সময়ে ছিল তারকার লড়াই, বড় প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান, শক্তিশালী নির্মাণ আর দর্শকের উপচে পড়া আগ্রহ। আজকের প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে সেই সময়টিকে মনে হলে অনেকেই বলেন—“যা চলে গেছে, তা আর কখনো ফিরে আসবে না।”

তবুও স্মৃতির পাতায় ১৯৯৫ সালের সেই ঈদ আজও অমলিন, ঢাকাই চলচ্চিত্রের এক গৌরবময় অধ্যায় হয়ে।

About the author

নিজস্ব প্রতিবেদক

Leave a Comment

Prove your humanity: 1   +   5   =