স্টাফ রিপোর্টার | দৈনিক পূর্বাচল
ঢাকা, ৩০ মার্চ ২০২৬
দেশে জ্বালানি তেল নিয়ে চলমান সংকটকে কেন্দ্র করে সরকার বলছে—ডিজেল, অকটেন ও পেট্রোলের কোনো ঘাটতি নেই। আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা, বিশেষ করে ইরান-ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেও সরকার বিভিন্ন উৎস থেকে আমদানি অব্যাহত রেখেছে এবং ভর্তুকি দিয়েও দাম স্থিতিশীল রেখেছে বলে দাবি করা হচ্ছে।
তবে মাঠপর্যায়ের বাস্তব চিত্র ভিন্ন কথা বলছে।
পাম্পে দীর্ঘ লাইন, সীমিত সরবরাহ
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায়, বিশেষ করে ঢাকা উদ্যান ও সাদেক খান এলাকার একাধিক পেট্রোল পাম্প ঘুরে দেখা যায়—জ্বালানি নিতে ভোর থেকে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। অনেক ক্ষেত্রেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষার পরও মিলছে না পর্যাপ্ত জ্বালানি।
কিছু পাম্পে নির্ধারিত দামের চেয়েও বেশি দামে তেল বিক্রির অভিযোগ পাওয়া গেছে। অনুসন্ধানে দেখা যায়, কোথাও ডিজেল ১০০-১১৬ টাকা এবং অকটেন ১২০ টাকায় বিক্রি হলেও সরবরাহ সীমিত রাখা হচ্ছে।
খোলা বাজারে দ্বিগুণেরও বেশি দামে বিক্রি
অন্যদিকে খোলা বাজারে ডিজেল ও অকটেন বিক্রি হচ্ছে ২২০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত দরে। বিভিন্ন মুদি দোকান ও অবৈধ বিক্রয়কেন্দ্রেও সহজেই মিলছে জ্বালানি।
বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, কিছু অসাধু পাম্প মালিক ও ব্যবস্থাপক নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি লাভের আশায় জ্বালানি তেল গোপনে খোলা বাজারে সরবরাহ করছেন। প্রতি লিটারে অতিরিক্ত ১০ টাকা বা তার বেশি লাভে বড় পরিমাণ তেল কালোবাজারে যাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
রাজনৈতিক ও স্থানীয় প্রভাবের অভিযোগ
এ চক্রের সঙ্গে স্থানীয় কিছু রাজনৈতিক কর্মী জড়িত থাকার অভিযোগও উঠেছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে এবং অতিরিক্ত মুনাফা অর্জনের লক্ষ্যে একটি সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে।
প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
খোলাবাজারে অবাধে জ্বালানি বিক্রি হলেও প্রশাসনের দৃশ্যমান তৎপরতা না থাকায় জনমনে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রশাসনের কিছু অসাধু সদস্যের যোগসাজশে এই অবৈধ বাণিজ্য চলছে।
সরকারের দাবি বনাম বাস্তবতা
সরকারের পক্ষ থেকে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক থাকার কথা বলা হলেও মাঠপর্যায়ে সংকট, কৃত্রিম সরবরাহ ঘাটতি এবং কালোবাজারি পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরবরাহ ব্যবস্থাপনায় কঠোর নজরদারি, পাম্পভিত্তিক মনিটরিং এবং কালোবাজারির বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে যেতে পারে।
প্রতিবেদনটি তৈরি করেছেন:
সোহেল হাওলাদার
নির্বাহী সম্পাদক, দৈনিক পূর্বাচল


