হত্যাচেষ্টা মামলায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক নেতা ও প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী আব্দুর রাজ্জাক বিন সোলাইমান রিয়াদের জামিনের আবেদন মঞ্জুর করেছেন আদালত।
সোমবার (১৬ মার্চ) শুনানি শেষে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আওলাদ হোসাইন মুহাম্মদ জোনাইদের আদালত আগামী ১২ এপ্রিল পর্যন্ত তার অন্তর্বর্তী জামিন মঞ্জুর করেন।
ঢাকার মহানগর প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক মোক্তার হোসেন এতথয় নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, আসামি পক্ষের আইনজীবী এস.এম. জাকির হোসেন তার জামিন আবেদন করলে আদালত পাঁচশ’ টাকা মুচলেকায় আগামী ১২ এপ্রিল পর্যন্ত তার জামিন মঞ্জুর করেন।
প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী নির্জন সরদার বাঁধন বাদী হয়ে গত ২৬ ফেব্রুয়ারি গুলশান থানায় রিয়াদসহ ১১ জনের নাম উল্লেখ করে হত্যাচেষ্টার মামলা করেন। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ১০–২২ জনকে আসামি করা হয়।
ওইদিনই রিয়াদের সঙ্গে একই প্রতিষ্ঠানের মো. রিয়াদুল হাওলাদার, মো. আলিফ আহম্মেদ আশিক ও সায়েম শিকদারকে কারাগারে পাঠানো হয়। পরে পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ৫ মার্চ রিয়াদের দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। তবে অপর তিন আসামির রিমান্ড ও জামিন আবেদন নাকচ করা হয়। গত ১৩ মার্চ রিমান্ড শেষে রিয়াদকে আবার কারাগারে পাঠানো হয়।
এর আগে, গত ১২ মার্চ তার তিন সহযোগী রিয়াদুল হাওলাদার, আলিফ আহম্মেদ আশিক ও সায়েম শিকদার জামিন পান।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, আসামিদের সাথে ভুক্তভোগী নির্জন ও তার বন্ধুদের পূর্ব শত্রুতা ছিল। গত ২৬ ফেব্রুয়ারি বিকেল সাড়ে ৩ টার দিকে প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটির চতুর্থ তলায় দেখা হলে আসামিরা তাকে তাদের স্থায়ী ক্যাম্পাস এবং কনভোকেশন অংশগ্রহনের জন্য বলেন। এ বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মো. আনিসুর রহমানের সাথে পরামর্শ করার সময়ে আসমি রাজ্জাকের হুকুমে আসামি রিয়াদুল ও সায়েম চেয়ার দিয়ে তাকে আঘাত করেন। এতে তিনি পিঠে ও বুকে আঘাত পান।
আরও বলা হয়, আসামি রাজ্জাক সুইচ গিয়ার চাকু দিয়ে তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে মুখমন্ডলে আঘাত করে। এতে তার নাকে লেগে নাকের উপরিভাগ কেটে গুরুতর রক্তাক্ত জখম হয়। এসময় তাকে এলোপাথারি মারপিট করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে নীলা ফুলা জখম করে। তখন তার বন্ধুবান্ধব ও প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটি শিক্ষকরা এগিয়ে আসলে আসামিরা তাকে বিভিন্ন রকমের ভয়ভীতি ও হুমকি দেয়। পরে গুলশান থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে তাদের আটক করে নিয়ে যায়।
ওই ঘটনায় প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী নির্জন সরদার বাঁধন বাদী হয়ে রাজ্জাকসহ ১১ জনের নাম উল্লেখ করে গুলশান থানায় হত্যাচেষ্টা মামলা করেন। মামলায় আরও অজ্ঞাতনামা ১০/২২ জনকে আসামি করা হয়।


