সরকার একজন ডেপুটি স্পিকার দিতে চাইলে সেটির বৈধতা নেই: জামায়াতের নায়েবে আমির

জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের বলেছেন, জুলাই সনদের অংশ হিসেবে সরকার একজন ডেপুটি স্পিকার দিতে চাইলে সেটির কোনো বৈধতা নেই। যতক্ষণ না গণভোটের রায় অনুযায়ী পুরো সংস্কার বাস্তবায়ন না হয়। জুলাই সনদের ভিত্তিতে করা হলে জামায়াত আইনি ভিত্তি দেখে বিষয়টি বিবেচনা করবে।

ডেপুটি স্পিকার বিষয়ে করা এক প্রশ্নের জবাবে জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের এ কথা বলেছেন। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বিদ্যমান সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করে জামায়াত।

জামায়াতের নায়েবে আমির বলেন, বর্তমান সংবিধান অনুযায়ী সংসদে একজন স্পিকার ও একজন ডেপুটি স্পিকার থাকবে। আর জুলাই সনদ অনুযায়ী একজন স্পিকার ও দুজন ডেপুটি স্পিকার থাকবে। এর মধ্যে একজন সরকারি দল থেকে, আরেকজন বিরোধী দল থেকে। বর্তমান সংবিধান অনুযায়ী সরকার ডেপুটি স্পিকারের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে গেলে জামায়াত বিষয়টি বিবেচনা করে দেখবে। তবে সেজন্য সরকারের কাছ থেকে লিখিত প্রস্তাব পাওয়া জরুরি। তখন আলোচনা করে সিদ্ধান্ত জানানো হবে। তিনি জুলাই সনদকে আইনি ভিত্তি দিয়ে সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করতে সরকারের কাছে দাবি জানান।
পল কাপুরের সঙ্গে সাক্ষাৎ

দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুরের সঙ্গে জামায়াতের সৌজন্য সাক্ষাতের বিষয়ে করা এক প্রশ্নের জবাবে আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেন, ‘তাদের সঙ্গে বাংলাদেশ এবং মার্কিন রিলেশনশিপ; এখানে তাদের ইনভেস্টমেন্ট কী সুবিধা আছে, আমরা তাদের এটা বলেছি। আমরা তাদের এটা বলেছি যে বিশেষ করে এখানে এআই অর্থাৎ আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সে ইনভেস্টমেন্টের সুবিধা আছে। এখানে যদি তারা ব্যাপক ইনভেস্ট করে, তাহলে আমাদের ছাত্রদের জন্য ব্যাপক কর্মসংস্থানের বিষয় হয়। দুই হচ্ছে, আমরা তাদের বলেছি যে বাংলাদেশ তার ইন্টারেস্টকে রেখেই বিশ্বের সব দুনিয়ার সঙ্গে সুসম্পর্ক চায়। তারা ইরান, ইসরায়েল এবং আমেরিকার যুদ্ধের কথা বলেছে। আমরা বলেছি যে আমরা যুদ্ধবিরোধী। যে দেশের সঙ্গে, যারাই হোক, আমরা পিস চাই। কোনো দেশের সঙ্গে যদি কনফ্লিক্ট অব ইন্টারেস্ট থাকে, সেটা থাকতেই পারে। সেটা ডিপ্লোমেটিকভাবেই সলভ করা উচিত। সুতরাং স্বল্প সময়ের ডিপ্লোমেটিক ওয়েতে এই যুদ্ধ বন্ধ করা উচিত।’

সংস্কার বিষয়ে চ্যালেঞ্জ করে আদালতে যে রিট করা হয়েছে, তার পেছনে সরকারের ইন্ধন রয়েছে বলেন জামায়াত নেতা আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। তিনি বলেন, সরকার রিটের নামে সংস্কার বাস্তবায়নে দেরি করাচ্ছে। আদালতকে ব্যবহার করে তারা জনগণের রায়কে অবজ্ঞা করছে। আদালত থেকে জনমতের বিরুদ্ধে রায় দেওয়া হচ্ছে। জামায়াত এই রায়ের বিরুদ্ধে লড়বে এবং জনমত গড়ে তুলবে।

হঠাৎ করে সব জায়গায় দলীয়করণ করা শুরু হয়েছে বলে অভিযোগ করেন সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। তিনি বলেন, অফিস-আদালত দখল করা শুরু হয়ে গেছে। সরকার যেন দখলের মতো ভুল সিদ্ধান্ত না হয়। বিশ্ববিদ্যালয়কে অশান্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে সেটি সম্ভব হবে না। কারণ, সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে রুচির পরিবর্তন ঘটেছে। তারা অস্ত্রের পেছনে সময় ব্যয় করবে বলে মনে হয় না।

ভোট সুষ্ঠু হলে জামায়াত সরকার গঠন করতে পারতো বলে বিশ্বাস করেন জানিয়ে জামায়াতের এই নেতা বলেন, জামায়াত বিরোধী দল হিসেবে একটি নতুন সংস্কৃতি তৈরির চেষ্টা করছে। সরকার যেন এটি স্বাগত জানায়, বাড়াবাড়ি না করে। দল হিসেবে বিএনপি-জামায়াত বন্ধুত্বপূর্ণ ছিল। আলাপ-আলোচনা ও পরামর্শের ভিত্তিতে যেন বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনা করে এবং উন্নয়ন কর্মকাণ্ডগুলো করে।

সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের আরও অভিযোগ করেন, নির্বাচনের পরে অনেকে হত্যা, ধর্ষণের শিকার হয়েছে। অনেকের বাড়িঘর পুড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। যেসব জায়গায় জামায়াত বেশি ভোট পেয়েছে, সেসব জায়গায় বেশি হামলা চালানো হচ্ছে এবং হুমকি দেওয়া হচ্ছে।

পরিস্থিতির পরিবর্তন না হলে জামায়াত মাঠে আরও শক্ত অবস্থানে যাবে। এর পাশাপাশি সংসদেও যথাযথ ভূমিকা পালন করা হবে বলে জানান সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের।

About the author

নিজস্ব প্রতিবেদক

Leave a Comment

Prove your humanity: 4   +   10   =