সোহেল হাওলাদার, নির্বাহী সম্পাদক, দৈনিক পূর্বাচল।
-
রাজধানীর ধানমন্ডির গ্রেস হাসপাতালে চিকিৎসক সংযুক্ত সাহার অধীনে স্বাভাবিক প্রসবের আশায় ভর্তি হয়ে অতিরিক্ত বিল ও সিজারের শিকার প্রসূতির সংকটাপন্ন অবস্থার চাঞ্চল্যকর তথ্য নিয়ে দৈনিক পূর্বাচলের বিশেষ প্রতিবেদন।
-
রাজধানীর ধানমন্ডির গ্রেস হাসপাতাল লিমিটেডে স্বাভাবিক প্রসবের আশায় ভর্তি হওয়া সোনিয়া আক্তার নামের এক প্রসূতির সঙ্গে ৫০ হাজার টাকার চুক্তি হলেও পরে তাঁর হাতে ১ লাখ ৫০ হাজার ৩৯৩ টাকার বিল ধরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। শুধু অতিরিক্ত বিলই নয়, স্বাভাবিক প্রসবের কথা বলে সিজারিয়ান অপারেশন করা এবং পরবর্তীতে পেটে সংক্রমণ দেখা দেওয়ায় প্রসূতির অবস্থা বর্তমানে সংকটাপন্ন বলে জানা গেছে। বর্তমানে তিনি শনির আখড়ার ঢাকা প্যারামাউন্ট স্পেশালাইজড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
অনুসন্ধানী তথ্যের ভিত্তিতে গ্রেস হাসপাতালের অনিয়ম ও প্রসূতির স্বজনদের অভিযোগগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
৫০ হাজার টাকার চুক্তি, অথচ বিল দেড় লাখ টাকা
স্বজনদের অভিযোগ অনুযায়ী, চিকিৎসক সংযুক্ত সাহার সঙ্গে মোট ৫০ হাজার টাকায় প্রসব করানোর চুক্তি হয়েছিল—যার মধ্যে চিকিৎসকের ফি ৩০ হাজার এবং হাসপাতালের খরচ ২০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু সন্তান জন্মের পর রোগীর পরিবারের হাতে ১ লাখ ৫০ হাজার ৩৯৩ টাকার বিশাল বিল ধরিয়ে দেওয়া হয়।
বিলের বিবরণে দেখা যায়:
-
চিকিৎসক সংযুক্ত সাহার ফি: ৫০,০০০ টাকা
-
ওষুধ ও চিকিৎসাসামগ্রী: ২৫,১২৭ টাকা
-
সার্ভিস চার্জ ও অন্যান্য অপারেশন চার্জ: ১১,৬৫০০ টাকা
-
এছাড়া প্যাথলজি পরীক্ষার খরচেও গরমিল পাওয়া গেছে; একটি কাগজে ৮,১০০ টাকা এবং অন্যটিতে ৮,৪১০ টাকা উল্লেখ করা হয়েছে।
স্বজনদের দাবি, হাসপাতাল/কর্তৃপক্ষ তাদের কাছ থেকে প্রথমে ৯২ হাজার টাকা আদায় করে এবং বাকি টাকার জন্য রোগী ছাড়াতে গিয়ে মারাত্মক ভোগান্তির সৃষ্টি করে।
৩০৯টি ওষুধ ও চিকিৎসাসামগ্রীর নামে হরিলুট
রোগীর বিলের সবচেয়ে প্রশ্নবিদ্ধ দিক হলো ওষুধ ও চিকিৎসাসামগ্রীর হিসাব। মাত্র একটি অপারেশনের বিপরীতে ৩০৯টি পদের ওষুধ ও চিকিৎসাসামগ্রীর দাম দেখানো হয়েছে ২৫ হাজার ১২৭ টাকা। প্রসূতির স্বামীর অভিযোগ, তাঁদের কোনো কিছু না জানিয়েই হাসপাতালের ফার্মেসি থেকে অতিরিক্ত মূল্যে ওষুধ গাইড করা হয়েছে। বাইরের ফার্মেসির তুলনায় প্রতিটি ওষুধের দামও অনেক বেশি রাখা হয়েছে।
স্বাভাবিক প্রসবের বদলে সিজার ও পরবর্তীতে সংক্রমণ
প্রসূতি সোনিয়া আক্তার ও তাঁর বড় বোন ইয়াসমিন আক্তার পপির অভিযোগ, চিকিৎসকরা জেনেশুনে স্বাভাবিক প্রসবের সুযোগ থাকা সত্ত্বেও অতিরিক্ত বিল আদায়ের উদ্দেশ্যে কৃত্রিম উপায়ে ব্যথা কমিয়ে এবং গর্ভের থলির পানি কেটে সিজার করতে বাধ্য করেছেন। সিজারের পর প্রসূতির পেটে মারাত্মক সংক্রমণ (ইনফেকশন) দেখা দেওয়ায় তাঁকে দ্রুত অন্য হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে তাঁর জীবন চরম সংকটাপন্ন। এ বিষয়ে গ্রেস হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দায়িত্বশীল কোনো সন্তোষজনক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।


