নিজস্ব প্রতিবেদক, দৈনিক পূর্বাচল:
ধামরাইয়ে অটোরিকশা গ্যারেজে ডাকাতির ঘটনায় দেড় মাস পর তথ্যপ্রযুক্তির সাহায্যে ৪ ডাকাতকে গ্রেপ্তার করেছে ধামরাই থানা পুলিশ। উদ্ধার করা হয়েছে লুণ্ঠিত ইজিবাইক ও পিকআপ ভ্যান। বিস্তারিত পড়ুন দৈনিক পূর্বাচলে।
ঢাকার ধামরাইয়ে অটোরিকশার গ্যারেজে সংঘটিত চাঞ্চল্যকর ডাকাতির ঘটনার রহস্য উন্মোচন করেছে পুলিশ। ঘটনার প্রায় দেড় মাস পর তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা নিয়ে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ ও সোনারগাঁ परिसरात ঝটিকা অভিযান চালিয়ে চক্রের চার সক্রিয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
অভিযানে ডাকাতি হওয়া তিনটি তিন চাকার ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা (ইজিবাইক) উদ্ধারের পাশাপাশি ঘটনায় ব্যবহৃত একটি ছয় চাকার পিকআপ ভ্যান জব্দ করেছে থানা পুলিশ।
গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা
পুলিশের জালে ধরা পড়া সংঘবদ্ধ ডাকাত দলের সদস্যরা হলেন: ১. সোহেল (৩০) ২. ইমাম হোসেন শাওন (৩২) ৩. মো. সবুজ (২৯) ৪. হাবিবুর রহমান ওরফে রনক ওরফে রনি (২৬)
অস্ত্র উঁচিয়ে জিম্মি ও ভয়াবহ ডাকাতি
মামলা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ১০ সেপ্টেম্বর ভোররাতে ধামরাই উপজেলার সুতিপাড়া ইউনিয়নের ছোট কালামপুর এলাকায় বিল্লাল হোসেনের মালিকানাধীন একটি অটোরিকশা গ্যারেজে এই দুঃসাহসিক ডাকাতি ঘটে। কালো মুখোশ পরা ৮ থেকে ৯ জনের একটি সশস্ত্র ডাকাত দল গ্যারেজে প্রবেশ করে। তারা সেখানে অবস্থানরত বিল্লাল হোসেনের বড় ভাই মুজিবর রহমানকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ফেলে।
পরে ডাকাতরা তাঁর হাত-পা বেঁধে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে গ্যারেজে থাকা চারটি ইজিবাইক, বিভিন্ন গাড়ি থেকে খুলে নেওয়া ২৭টি ব্যাটারি, সিসিটিভির ডিভিআর (DVR) বক্স ও নগদ টাকাসহ মোট ১০ লাখ ৮৮ হাজার ৫০০ টাকার মালামাল লুট করে চম্পট দেয়। পরবর্তীতে এ ঘটনায় ১১ সেপ্টেম্বর ধামরাই থানায় একটি লিখিত ডাকাতির মামলা দায়ের করা হয়।
যেভাবে পরিচালিত হয় যৌথ অভিযান
ঘটনার পর ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার ও সাভার সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের দিকনির্দেশনায় ধামরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নাজমুল হুদা খানের নেতৃত্বে মাঠে নামে পুলিশ। মামলাটির সার্বিক তদন্তের দায়িত্ব পান ধামরাই থানার উপপরিদর্শক (এসআই) এস এম কাওছার সুলতান।
দীর্ঘ তদন্ত ও আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির সর্বাত্মক ব্যবহারের পর গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত ২৩ অক্টোবর ভোরে নারায়ণগঞ্জে ধারাবাহিক অভিযান চালানো হয়:
-
ভোর ৫:১৫ মিনিট: সিদ্ধিরগঞ্জ থানার কদমতলী খালপাড় এলাকা থেকে প্রধান দুই আসামি সোহেল ও ইমাম হোসেন শাওনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
-
ভোর ৫:৪৫ মিনিট: তাঁদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ২ লাখ ২০ হাজার টাকা মূল্যের লুণ্ঠিত তিনটি অটোরিকশা উদ্ধার করে পুলিশ।
-
সকাল ৯:৩০ মিনিট: সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকা থেকেই ডাকাত চক্রের সদস্য মো. সবুজকে গ্রেপ্তার করা হয়।
-
সকাল ১০: ৪৫ মিনিট: সোনারগাঁ থানার কাচপুর খাসপাড়া এলাকায় ঝটিকা অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করা হয় হাবিবুর রহমান ওরফে রনিকে।
পরবর্তীতে গ্রেপ্তার রনির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে দুপুর ১:১৫ মিনিটে ডাকাতির কাজে সরাসরি ব্যবহৃত ‘ঢাকা মেট্রো-ন-১৩-৬১৫৮’ নম্বরের একটি ছয় চাকার পুরোনো পিকআপ ভ্যান জব্দ করা হয়, যার আনুমানিক মূল্য ৯ লাখ টাকা।
আদালতে প্রেরণ ও পরবর্তী পদক্ষেপ
ধামরাই থানা সূত্রে জানা গেছে, গ্রেপ্তারকৃত চার আসামিকে আইনানুগ প্রক্রিয়া শেষে আদালতে পাঠানো হয়েছে। ডাকাত দলের বাকি সদস্যদের গ্রেপ্তার এবং লুণ্ঠিত অবশিষ্ট মালামাল উদ্ধারে পুলিশের অভিযান ও তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।


