বিশেষ সংবাদদাতা, দৈনিক পূর্বাচল:
দেশে বর্তমানে খাদ্যশস্যের সরকারি মজুদ পৌঁছেছে সর্বকালের অন্যতম সর্বোচ্চ পর্যায়ে। বর্তমানে গুদামগুলোতে মোট ২৩ লাখ ৭২ হাজার ৩৩২ টন খাদ্যশস্য রয়েছে, যার মধ্যে অন্তত ২১ লাখ টনই চাল। এই পর্যাপ্ত মজুদ পরিস্থিতিকে অত্যন্ত সন্তোষজনক উল্লেখ করে দেশে খাদ্য ঘাটতির কোনো আশঙ্কা নেই বলে আশ্বস্ত করেছেন খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম।
এদিকে, বিপুল এই মজুদের ওপর ভিত্তি করে ওএমএস, খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি এবং টিসিবির ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে দেশের প্রায় দেড় কোটি হতদরিদ্র ও নিম্নআয়ের পরিবারকে স্বল্পমূল্যে খাদ্য সহায়তা দিচ্ছে সরকার। আজ আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলের পাশাপাশি বাংলাদেশেও ‘আজকের উদ্ভাবন, আগামীর পুষ্টি ও সমৃদ্ধি’ প্রতিপাদ্যে উদযাপিত হতে যাচ্ছে ‘বিশ্ব খাদ্য দিবস’।
খাদ্য ঘাটতির শঙ্কা নেই, লক্ষ্য ৩৪ লাখ টন ক্যাপাসিটি:
সার্বিক খাদ্য নিরাপত্তা বিষয়ে খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম দৈনিক পূর্বাচল-কে বলেন, “বর্তমানে দেশে খাদ্যশস্যের মজুদ ২৩ লাখ টনের বেশি, যা অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় অত্যন্ত সন্তোষজনক। যেখানে আমাদের নিরাপদ খাদ্য মজুদের লক্ষ্যমাত্রা ১৪ লাখ টন এবং আপৎকালীন লক্ষ্যমাত্রা ১৫ লাখ টন, সেখানে খাদ্য ঘাটতির কোনো সুযোগ নেই। আসন্ন আমন মৌসুমেও শুভ ফলনের প্রত্যাশা করা হচ্ছে এবং আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে নভেম্বরের মাঝামাঝি থেকে সংগ্রহ অভিযান শুরু হবে।”
গুদামের ধারণক্ষমতা বৃদ্ধির পরিকল্পনা নিয়ে মন্ত্রী জানান, বর্তমানে বিভিন্ন সাইলো ও ওয়্যারহাউজ মিলিয়ে গুদামজাতকরণের সক্ষমতা ২৪.০৯ লাখ টন হলেও জরাজীর্ণতা ও নদীভাঙনের কারণে ৯২ হাজার টন ব্যবহার করা যাচ্ছে না। তবে ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা জোরদারে ২০৩০ সালের মধ্যে এই সক্ষমতা ৩৪ লাখ টনে উন্নীত করার বিশাল পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার।
তিন কর্মসূচিতে মাসে ২.৬৮ লাখ টন খাদ্য বিতরণ:
খাদ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বর্তমান বাজার দর নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং নিম্নআয়ের মানুষকে সুরক্ষা দিতে বহুমুখী খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি পরিচালনা করা হচ্ছে।
-
খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি: ৪৯৫টি উপজেলায় ৫৫ লাখ পরিবারকে বছরে ৬ মাস (আগস্ট-নভেম্বর এবং মার্চ-এপ্রিল) মাত্র ১৫ টাকা কেজি দরে মাসে ৩০ কেজি চাল দেওয়া হচ্ছে। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এ খাতে ১০ লাখ টন চাল বরাদ্দের পাশাপাশি পুষ্টি চাহিদা মেটাতে ২৪৮টি উপজেলায় ৩.৭ লাখ টন ‘পুষ্টিচাল’ বিতরণ চলমান।
-
ওএমএস ও বিশেষ সেল: ১২টি সিটি করপোরেশন, ১৪টি শ্রমঘন জেলা ও ৫২টি জেলা সদরের ১,০৯১টি কেন্দ্রে প্রতিদিন বিপুল চাল ও আটা বিক্রি হচ্ছে। ৩০ টাকা কেজিতে চাল, ২৪ টাকায় খোলা আটা এবং ৫৫ টাকায় ২ কেজির আটার প্যাকেট মিলছে। এছাড়া চালের মূল্যবৃদ্ধি ঠেকাতে বিশেষ কার্যক্রমে আরও ৪১৮টি উপজেলার ৮৩৬টি কেন্দ্রে প্রতিদিন ৪০৬ টন চাল ৩০ টাকা দরে বিক্রি করা হচ্ছে।
-
টিসিবি ফ্যামিলি কার্ড: বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের চাহিদা অনুযায়ী টিসিবির ফ্যামিলি কার্ডধারী ৬৭ লাখ ৬৬ হাজার ৬৬৭টি পরিবারকে প্রতি মাসে ৩০ টাকা কেজিতে ৩৩,৮৩৩ টন চাল যোগান দিচ্ছে খাদ্য অধিদপ্তর।
গুদাম ‘টইটম্বুর’, নতুন সাইলো নির্মাণে জমির সন্ধান:
খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) মু. জসীম উদ্দিন খান দৈনিক পূর্বাচল-কে বলেন, “সরকারি গুদামগুলোতে পর্যাপ্ত মজুদ নিশ্চিত করার পর এখন আমরা গুণগত মান বজায় রাখা ও সঠিক সংরক্ষণে সর্বোচ্চ জোর দিচ্ছি। আমাদের বর্তমানে ২৪ লাখ টন ধারণক্ষমতার গুদামগুলো প্রায় ‘টইটম্বুর’। নির্বাচনী ইশতেহার ও সরকারি লক্ষ্য অনুযায়ী আগামী ৫ বছরে গুদাম সক্ষমতা ৩৪ লাখ টনে উন্নীত করতে আমরা কাজ করছি। তবে সুবিধাজনক স্থানে জমি না পাওয়া একটি বড় চ্যালেঞ্জ; তাই উপযুক্ত খাসজমি খোঁজা হচ্ছে


