APORAD

টিকটকে পরিচয়, ঘর ছাড়া কুমিল্লার ৪ শিশু ছাত্রী হবিগঞ্জ থেকে উদ্ধার | দৈনিক পূর্বাচল

কুমিল্লা প্রতিনিধি, দৈনিক পূর্বাচল:

টিকটকে পরিচয়ের সূত্রে স্বাধীনভাবে বাঁচার স্বপ্ন দেখে ঘর ছাড়ে কুমিল্লার ৪ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রী। ঢাকার পর হবিগঞ্জে ঘোরাঘুরির সময় উদ্ধার করে পুলিশ। বিস্তারিত পড়ুন দৈনিক পূর্বাচলে।

সোশ্যাল মিডিয়া টিকটকের প্রভাবে ‘স্বাধীনভাবে বাঁচার’ কাল্পনিক আশায় বাড়ি ছেড়েছিল কুমিল্লার একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চার শিক্ষার্থী। তবে শেষ রক্ষা হয়নি; ঢাকা থেকে চুনারুঘাট পর্যন্ত ঘুরে অবশেষে পুলিশের হাতে উদ্ধার হয়েছে তারা। উদ্ধার হওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে তিনজন পঞ্চম শ্রেণির এবং একজন তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী।

গতকাল বুধবার (১৪ অক্টোবর) এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন কুমিল্লার পুলিশ সুপার (এসপি) মো. আনিসুজ্জামান।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার সকালে স্কুলে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হলেও ওই চার শিক্ষার্থীর কেউ শ্রেণিকক্ষে উপস্থিত হয়নি। বিকেল গড়িয়ে গেলেও তারা বাড়ি না ফেরায় পরিবার ও স্কুল কর্তৃপক্ষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্বজনরা পুলিশকে জানালে সাথে সাথে অনুসন্ধানে নামে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। বিভিন্ন জায়গার সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ এবং আশপাশের সব থানায় ছবিসহ তথ্য পাঠানো হয়।

পরবর্তীতে সোমবার দিবাগত রাত আনুমানিক ২টার দিকে হবিগঞ্জের চুনারুঘাট থানা-পুলিশের সহায়তায় ওই চার ছাত্রীকে নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হয়।

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার জানান, শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিত অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোন ব্যবহার করত। টিকটকে ভিডিও কনটেন্ট তৈরি ও শেয়ারের মাধ্যমে কয়েকজন তরুণের সাথে তাদের পরিচয় ও গভীর সখ্য গড়ে ওঠে। পরবর্তীতে ওই তরুণদের প্ররোচনায় এবং তাদের সাথে ‘নতুন জীবন’ শুরু করার কাল্পনিক পরিকল্পনায় তারা বাড়ি ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেয়। তবে মজার বিষয় হলো—যে তরুণদের ভরসায় তারা বাড়ি ছেড়েছিল, তাদের কারোই প্রকৃত নাম-ঠিকানা বা পরিচয় জানা ছিল না এই শিশুদের।

তদন্তে উঠে আসে, বাড়ি ছাড়ার সময় তারা পরিবারের বেশ কিছু মূল্যবান জিনিসপত্রও সাথে নিয়েছিল। কুমিল্লা টাউন হল মার্কেটের একটি দোকানে পরিবারের একটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল চার হাজার টাকায় বিক্রি করে দেয় এক ছাত্রী। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে সেই মোবাইল ফোন এবং বাকিদের কাছ থেকে স্বর্ণালংকার উদ্ধার করে।

বাড়ি ছেড়ে এই চার শিক্ষার্থী প্রথমে বাসে করে ঢাকায় পৌঁছায়। সেখানে গিয়ে বাসা ভাড়া নিয়ে স্বাধীনভাবে থাকার চেষ্টা করলেও ব্যর্থ হয়। বাধ্য হয়ে রাতে তাদেরই একজনের দাদাবাড়ি হবিগঞ্জের চুনারুঘাটের উদ্দেশে রওনা দেয়। চুনারুঘাট পৌঁছানোর পর রাতে ঠিকানার সন্ধানে দিকবিদিক ঘোরাঘুরি করতে থাকলে বিষয়টি এক অটোরিকশাচালকের নজরে আসে। তিনি তাৎক্ষণিক চুনারুঘাট থানা-পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ এসে তাদের উদ্ধার করে।

কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান অভিভাবকদের সচেতন হওয়ার উদাত্ত আহ্বান জানিয়ে বলেন, “সন্তানদের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে। তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কী করছে বা কাদের সাথে মিশছে—সে বিষয়ে অভিভাবকদের নজরদারি ও সচেতন থাকা জরুরি।”

এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থানায় করা সাধারণ ডায়েরির (জিডি) ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

About the author

নিজস্ব প্রতিবেদক

Leave a Comment