দৈনিক পূর্বাচল
নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা
প্রকাশিত: ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
রাজধানীর ইসিবি চত্বরে কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের ‘ব্রাউনফিশ’ স্টুডিওতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনার পেছনে কোনো গোপন উদ্দেশ্য বা ‘হিডেন অ্যাজেন্ডা’ আছে কি না, তা খতিয়ে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন মডেল ও রাজনীতিবিদ মেঘনা আলম। হামলাকারীদের পরিচয় বা সুনির্দিষ্ট অভিযোগ না জেনেই সালমানের পক্ষ থেকে ঘটনাটিকে রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত করার তীব্র সমালোচনা করেছেন তিনি।
রোববার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ভেরিফাইড পেজে দেওয়া এক দীর্ঘ স্ট্যাটাসে মেঘনা আলম এসব কথা বলেন।
সালমানের সঙ্গে পুরনো সম্পর্ক ও মতপার্থক্য:
স্ট্যাটাসে সালমানের সঙ্গে নিজের অতীতের সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে মেঘনা জানান, একসময় কঠিন সময়ে সালমান তার বাসায় এসে বাসন ধুয়ে দেওয়ার মতো কথাও বলেছিলেন। সালমানের ছোটখাটো উন্নতিরও তিনি প্রশংসা করতেন। তবে পরবর্তীতে সালমানের কিছু বিতর্কিত কর্মকাণ্ড—যেমন অতীতে একটি শিশুধর্ষণের ঘটনায় ধর্ষকের সাফাই গাওয়া এবং নির্বাচনের সময় তাকে নিয়ে আপত্তিকর পোস্ট দিয়ে জনসমক্ষে ছোট করার চেষ্টার কারণে তিনি সালমানকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বন্ধু তালিকা থেকে বাদ দেন।
নিজের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে মেঘনা জানান, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কিংবা ইউনূস সরকারের সময়ে তাকে গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়ার পর তার ফোন ও ম্যাকবুক তল্লাশি করা হয়েছিল। সে সময় এক তদন্ত কর্মকর্তা তার চ্যাটে সালমানের নাম দেখে মন্তব্য করেছিলেন, “এই সালমান মুক্তাদির দুনিয়ার সব গণ্ডগোলে কীভাবে ঢুকে পড়ে?”
হামলার ঘটনা ও বিএনপির নাম জড়ানো নিয়ে প্রশ্ন:
সালমানের স্টুডিওতে হামলার প্রসঙ্গে প্রশ্ন তুলে মেঘনা লেখেন, হামলাকারীদের নাম-চেহারা না জানা এবং নিজের কাছে সরাসরি চাঁদা দাবি না করার কথা সালমান নিজেই স্বীকার করা সত্ত্বেও তিনি কীভাবে ঘটনাটিকে বিএনপির সঙ্গে যুক্ত করছেন?
তিনি তার পোস্টে উল্লেখ করেন, “উড়ে এসে জুড়ে কেউ তার স্টুডিও ভেঙে দিয়ে গিয়েছে, আর সে নাম-চেহারা কিছুই জানে না, তার কাছে চাঁদাও কেউ চায়নি, কিন্তু সে অন্তর্যামী হয়ে জানে এটা বিএনপির কাজ!? এসব আমার কাছে পানির মত পরিষ্কার লাগছে না। সালমান দ্য ব্রাউন ফিশ এমনিতেই ঘোলা জলের মাছ। এর পেছনে কোন হিডেন অ্যাজেন্ডা আছে কিনা খোঁজ নেয়া উচিত।”
পুলিশের বক্তব্য:
এর আগে ইসিবি চত্বরের নিউগ্রিনি প্রপার্টিজে অবস্থিত সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। সালমানের পক্ষ থেকে চাঁদা না দেওয়ার অভিযোগ করা হলেও, পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে যে, মূলত জায়গা দখল সংক্রান্ত পূর্ববিরোধের জেরে এই হামলা চালানো হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ ইতিমধ্যেই দুজনকে আটক করেছে এবং বিষয়টি নিয়ে আইনগত তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।


