নিজস্ব প্রতিবেদক
দৈনিক পূর্বাচল
ফেসবুকে সেনাবাহিনীর পোশাকধারী এক নারীর ছবি, এআই (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) প্রযুক্তির ব্যবহার এবং নারীসুলভ কণ্ঠে কথা বলে প্রেমের ফাঁদ পাতেন তোফায়েল আলম টিটু। এই অভিনব প্রতারণার মাধ্যমে ইতালি প্রবাসী এক যুবকের কাছ থেকে বিভিন্ন অজুহাতে হাতিয়ে নেওয়া হয় প্রায় ৭ লাখ টাকা। শেষ পর্যন্ত প্রযুক্তির সহায়তায় প্রতারক চক্রের মূল হোতা টিটুকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ঢাকা জেলা।
গত ২০ সেপ্টেম্বর ঢাকার দারুস সালাম এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত বিকাশ ও নগদ অ্যাকাউন্টের সিমসহ তিনটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। রোববার পিবিআই ঢাকা জেলা কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পিবিআই ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার এম এন মোর্শেদ।
পিবিআই জানায়, ভুক্তভোগী শাহাদাত খান (২২) কেরানীগঞ্জের বারিশুর বাঘবাড়ি এলাকার শাহনাজ বেগমের ছেলে এবং তিনি ইতালিতে বসবাস করেন। ফেসবুকে ‘লেডি সোলজার/নারী যোদ্ধা’ নামের একটি পেজে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নারী সদস্যের পোশাক পরা ছবি ও ভিডিও দেখে আকৃষ্ট হন তিনি। ইমোতে নিয়মিত যোগাযোগ শুরু হলে প্রতারক টিটু নারীসুলভ কণ্ঠে কথা বলে শাহাদাতের বিশ্বাস অর্জন করেন। একপর্যায়ে শুরু হয় টাকা পাঠানোর পালা। কখনো নিজের অসুস্থতা, আবার কখনো মায়ের চিকিৎসার কথা বলে বিকাশ ও নগদের মাধ্যমে বারবার টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়।
কথিত নারী সেনা সদস্যের আচরণে সন্দেহ হলে শাহাদাত ও তার পরিবার প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পারেন। পরে ভুক্তভোগীর মা শাহনাজ বেগম আদালতে সিআর মামলা করেন এবং কেরানীগঞ্জ থানায়ও মামলা দায়ের করা হয়। মামলার তদন্তভার পেয়ে পিবিআই তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ, আর্থিক লেনদেন ও অবস্থান শনাক্ত করে গত ২০ সেপ্টেম্বর দারুস সালাম এলাকায় অভিযান চালিয়ে টিটুকে গ্রেপ্তার করে। আদালতে হাজির করার পর রিমান্ড শেষে ২৩ সেপ্টেম্বর টিটু আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় দোষ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। পিবিআই জানিয়েছে, টিটুর বিরুদ্ধে কিশোরগঞ্জ আদালতে সিআর মামলা রয়েছে এবং এই চক্রের সঙ্গে আর কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।


