অন্যান্য

কাশিমপুর মহিলা কারাগারে বাড়ছে শৈশব: চার দেয়ালে বেড়ে উঠছে ৬২ শিশু

দৈনিক পূর্বাচল

বিশেষ প্রতিবেদক | গাজীপুর

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬

দেশের একমাত্র নারী কারাগার কাশিমপুর মহিলা কারাগারে বন্দি মায়েদের সঙ্গে বাড়ছে ৬২ শিশু। তাদের থাকা, খাওয়া, ডে-কেয়ার এবং পড়াশোনার ব্যবস্থার সার্বিক চিত্র নিয়ে দৈনিক পূর্বাচলের বিশেষ প্রতিবেদন।

দেশের একমাত্র বিশেষায়িত ও প্রথম পূর্ণাঙ্গ নারী কারাগার কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগার। এখানে সাধারণ বন্দিদের পাশাপাশি বন্দি মায়েরা তাদের ছোট সন্তানদের সঙ্গে রাখার সুযোগ পান। তবে কারাগারের কঠোর চার দেয়ালের মধ্যে বর্তমানে বন্দি মায়ের সঙ্গে বেড়ে উঠছে ৬২টি শিশু, যা শিশুদের স্বাভাবিক বিকাশের ক্ষেত্রে এক বড় চ্যালেঞ্জ।

কারাসূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি ফেনীর আলোচিত নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় মায়ের সঙ্গে দীর্ঘ সাত বছর কারাবন্দি জীবন কাটিয়ে মুক্তি পেয়েছে মোবাশ্বেরা খানম রাথী। ২০১৯ সালে পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় গ্রেপ্তার হওয়া কামরুন্নাহার মনির কোল আলো করেই কারাগারে জন্ম নিয়েছিল রাথী। মায়ের সঙ্গে দীর্ঘদিন কারাবাসের পর অবশেষে আলোর মুখ দেখেছে সে। বর্তমানে এই কারাগারে অবস্থান করা ৬২ শিশুর মধ্যে ২৭ জন ছেলে ও ৩৫ জন মেয়ে শিশু রয়েছে।

ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত বন্দি ও শিশুদের জীবনযাত্রা

কাশিমপুর মহিলা কারাগারের মূল ধারণক্ষমতা মাত্র ২১২ জন হলেও বর্তমানে সেখানে ৭৫০ জনেরও বেশি বন্দি অবস্থান করছেন। বন্দি নারীদের একটি বড় অংশ হত্যা মামলার আসামি। এছাড়া মাদক, অন্যান্য সাধারণ মামলা এবং মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত কয়েদিরাও এখানে রয়েছেন।

কারাগারের ‘কলমিলতা ভবনে’ সাধারণ বন্দিরা এবং ‘মাধবীলতা ভবনে’ মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দিরা বসবাস করেন। অতিরিক্ত বন্দি চাপের কারণে এই চার দেওয়ালে বেড়ে ওঠা শিশুদের স্বাভাবিক শারীরিক ও মানসিক বিকাশ কিছুটা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

শিশুদের শিক্ষা ও বিনোদনের ব্যবস্থা

কারাগারে বন্দি শিশুদের সুস্থ বিকাশ নিশ্চিত করতে একটি একতলা ডে কেয়ার সেন্টার রয়েছে। এই কেন্দ্রে ছোট একটি খেলার মাঠ, শ্রেণিকক্ষ, লাইব্রেরি এবং খেলাধুলার বিভিন্ন সরঞ্জামাদির ব্যবস্থা রয়েছে।

তিন বছরের বেশি বয়সি শিশুদের প্রাথমিক শিক্ষা, অক্ষরজ্ঞান, নৃত্য, গান ও চিত্রাঙ্কন শেখানোর জন্য শিক্ষক ও আয়োজিত সেবার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

কারা কর্তৃপক্ষের বক্তব্য

কাশিমপুর মহিলা কারাগারের জেলার মোছা. আলিভা শারমিন জানান, কারাগারে থাকা ৬২ শিশুর জন্য ডে-কেয়ার সেন্টার রয়েছে, যেখানে শিক্ষক ও আয়াşরা তাদের অত্যন্ত যত্নের সঙ্গে লালন-পালন করছেন।

কাশিমপুর কারাগারের অতিরিক্ত জেল সুপার মো. নজরুল ইসলাম বলেন, “মায়ের সঙ্গে কারাগারে থাকা শিশুদের স্বাভাবিক জীবনযাপনের কথা চিন্তা করে তাদের থাকা-খাওয়া, লেখাপড়া ও বিনোদনের প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হয়। শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে যাতে কোনো প্রতিবন্ধকতা তৈরি না হয়, সে বিষয়ে কারা কর্তৃপক্ষ সর্বদা সতর্ক রয়েছে।”

About the author

নিজস্ব প্রতিবেদক

Leave a Comment