দৈনিক পূর্বাচল
নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬
রাজধানীসহ সারা দেশে হঠাৎ নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড ও বাসে আগুন দেওয়ার নেপথ্যে চাঞ্চল্যকর তথ্য। নিজেদের বাসে আগুন দিয়ে সহানুভূতি ও বিমার টাকা আদায়ের অপচেষ্টার মূল রহস্য উন্মোচন করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
রাজধানীসহ সারা দেশে হঠাৎ বৃদ্ধি পাওয়া নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের পেছনে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিবিড় তদন্তে জানা গেছে, গত কয়েক দিনে যেসব বাসে আগুন দেওয়া হয়েছে, তার সিংহভাগেরই মালিক বিগত সরকারের সুবিধাভোগী ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক নেতাকর্মী। নিজেদের মালিকানাধীন বাসে অগ্নিসংযোগ করে একদিকে যেমন জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টির চেষ্টা চলছে, অন্যদিকে এর আড়ালে বিমার টাকা হাতিয়ে নেওয়া এবং রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়নের নীলনকশা তৈরি করা হয়েছে।
গোয়েন্দা সূত্র জানিয়েছে, এই নাশকতার নেপথ্যে অর্থ জোগানদাতা ও মূল নির্দেশদাতাদের সঠিক তথ্য ইতোমধ্যে হাতে পেয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
‘হিট অ্যান্ড রান’ কৌশল ও পূর্ব-পশ্চিমে বিশেষ নজরদারি
রাজধানীর ভৌগোলিক অবস্থান বিবেচনা করে নিষিদ্ধ ঘোষিত দলটি বর্তমানে ‘হিট অ্যান্ড রান’ (ঘটনা ঘটিয়ে দ্রুত পালিয়ে যাওয়া) কৌশল অবলম্বন করছে। পূর্ব ও পশ্চিমাঞ্চলে নাশকতা সৃষ্টির সুনির্দিষ্ট মিশন নিয়ে মাঠে নেমেছে দুর্বৃত্তরা।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, নাশকতার মূল টার্গেট করা হয়েছে রাজধানীর নির্দিষ্ট কিছু স্পর্শকাতর পয়েন্ট:
-
পূর্বাঞ্চল: ডেমরা, যাত্রাবাড়ী, সবুজবাগ, বাসাবো ও খিলগাঁও।
-
পশ্চিমাঞ্চল: গাবতলী, মোহাম্মদপুর, বসিলা এবং মিরপুরের শেষাঞ্চল।
এসব এলাকায় ড্রোন প্রযুক্তির মাধ্যমে নজরদারি বহুগুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি রাজধানীর প্রবেশমুখ ও স্পর্শকাতর পয়েন্টগুলোতে অতিরিক্ত চেকপোস্ট বসানো হয়েছে।
কেপিআই ও রেলওয়েতে বাড়তি নিরাপত্তা
প্রাথমিকভাবে ককটেল নিক্ষেপের মাধ্যমে মহড়া শুরু করলেও পরবর্তীতে বাসে আগুন এবং কমলাপুর রেলস্টেশনে ট্রেন পোড়ানোর মতো বড় নাশকতায় জড়িয়ে পড়ে দুর্বৃত্তরা। মেট্রোরেলসহ দেশের অন্যান্য কেপিআইভুক্ত (কী পারফরম্যান্স ইন্ডিকেটর) প্রতিষ্ঠানেও নাশকতার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। এই তথ্যের ভিত্তিতে দেশজুড়ে কেপিআই এলাকাগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করার নির্দেশ দিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর।
রেলওয়ে পুলিশের অতিরিক্ত আইজি (ইনচার্জ) ব্যারিস্টার জিল্লুর রহমান জানান, গত ১৯ সেপ্টেম্বর কমলাপুর রেলস্টেশনে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে সাখাওয়াত হোসেন রায়হান ও সাইমুন নামের দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এদের মধ্যে রায়হান রেলওয়ের কমলাপুর স্টেশনের এমওডি শাখার ইলেকট্রিশিয়ান এবং শাহজাহানপুর থানা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক। সাইমুনও যুবলীগের সক্রিয় কর্মী। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অন্যদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
ডেমোক্রেটিক টহল ও কঠোর ব্যবস্থা: ডিএমপি কমিশনার
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ বলেন, পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দেশনার পর রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও কেপিআই এলাকাগুলোর নিরাপত্তায় বিশেষ টিম মোতায়েন করা হয়েছে। জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের ওপর দেওয়া হয়েছে তদারকির দায়িত্ব।
তিনি আরও বলেন, “একটি রাজনৈতিক গোষ্ঠী দেশের বাইরে অবস্থান করে সেখান থেকেই দেশের ভেতরের কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে এবং অর্থ পাঠাচ্ছে। তাদের নির্দেশেই অরাজকতা সৃষ্টির অপচেষ্টা চলছে। অর্থের জোগানদাতা ও ইন্ধনদাতাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।”


