বিশেষ প্রতিনিধি | দৈনিক পূর্বাচল
২০২৭ শিক্ষাবর্ষের জন্য বিনামূল্যে বিতরণের পাঠ্যবই মুদ্রণে গতবারের তুলনায় প্রায় ৩০০ কোটি টাকা খরচ বাড়ানো হলেও থামছে না অনিয়ম। এর ওপর সিন্ডিকেট করে প্রাক্কলিত দরের চেয়ে ১০০ কোটি টাকা বেশি দর হাঁকিয়েছে ছাপাখানাগুলো। সব মিলিয়ে সরকারের অতিরিক্ত প্রায় ৪০০ কোটি টাকা ব্যয় হওয়ার পরও অধিক মুনাফার লোভে রাতের আঁধারে নিম্নমানের পাঠ্যবই ছাপানোর মহোৎসব চলছে।
সম্প্রতি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ‘মিনিস্ট্রি টিম’, এনসিটিবির পরিদর্শন টিম ও ইন্সপেকশন এজেন্টের যৌথ অভিযানে ৫২টি ছাপাখানার প্রাথমিক স্তরের ১ কোটিরও বেশি নিম্নমানের ফর্মা কেটে বিনষ্ট করা হয়েছে।
যে অনিয়মগুলো হাতেনাতে ধরা পড়েছে অভিযানকালে বইয়ে ফর্মা মিসিং, ডাবল ফর্মা, আলট্রা ভার্নিশ না করা, বাঁধাইয়ে গুরুতর ত্রুটি এবং অত্যন্ত নিম্নমানের কালি ব্যবহারের চিত্র হাতেনাতে ধরা পড়ে। অনেক ছাপাখানা বইয়ের প্রথম ও শেষ পাতায় ভালো মানের কাগজ ব্যবহার করলেও ভেতরের পৃষ্ঠাগুলোতে মানহীন কাগজ ব্যবহার করেছে। বইয়ের লেখা ঝাপসা হওয়া, কাগজ খসখসে হওয়া এবং ছাপা লেপ্টে যাওয়ার মতো ঘটনাগুলো রোধে সংশ্লিষ্ট ছাপাখানার মালিকদের কঠোর সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে।
শিক্ষামন্ত্রীর কড়া হুশিয়ারি ও ছাপাখানা মালিকের ক্ষমা প্রার্থনা সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত বুধবার ‘মিনিস্ট্রি টিম’ মোল্লা প্রেস অ্যান্ড পাবলিকেশন এবং অটো প্রিন্টিং অ্যান্ড প্যাকেজিং ছাপাখানায় অভিযান চালিয়ে নিম্নমানের পাঠ্যবই জব্দ করে। এই দুই প্রেস পঞ্চম শ্রেণির সমাজবিজ্ঞান বইয়ের মানচিত্রের কালার পরিবর্তন করে ফেলে এবং মানচিত্রের পাশের লেখাগুলো সম্পূর্ণ অস্পষ্ট রাখে। তাৎক্ষণিকভাবে ওই বইগুলো কেটে ফেলা হয় এবং ছাপাখানায় মজুত থাকা নিম্নমানের প্রচুর কালি ড্রেনে ফেলে বিনষ্ট করা হয়।
পরদিন বৃহস্পতিবার শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন এনসিটিবি কার্যালয় পরিদর্শনে যান এবং অভিযুক্ত দুই প্রেসের মালিক মিন্টু মোল্লাকে তলব করেন। নিম্নমানের কালি ব্যবহারের কৈফিয়ত চেয়ে শিক্ষামন্ত্রীর কড়া তিরস্কারের মুখে মিন্টু মোল্লা ভবিষ্যতে আর কোনো অনিয়ম করবেন না মর্মে মুচলেকা দিয়ে ক্ষমা চান। এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে মিন্টু মোল্লা দাবি করেন, “সামান্য কিছু পাঠ্যবইয়ে ত্রুটি ছিল, যেগুলো পুনরায় ছাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে।”
অন্যান্য প্রেসেও অভিযান ও বাধার মুখে টিম অভিযানের অংশ হিসেবে রেদওয়ানিয়া প্রেস অ্যান্ড পাবলিকেশনেও নিম্নমানের বই হাতেনাতে ধরে কেটে ফেলা হয়। এছাড়া ‘লেটার অ্যান্ড কালার’ ছাপাখানায় নিম্নমানের পাঠ্যবই ও ‘এসো লিখতে শিখি’ খাতা জব্দ করে তা ধ্বংস করা হয়। ফরাজি প্রেসে নিম্নমানের বই কাটার সময় একটি বড় ছাপাখানার প্রভাবশালী মালিক এসে বাধা সৃষ্টি করলে মিনিস্ট্রি টিম চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে এবং আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেয়।


