দৈনিক পূর্বাচল
টঙ্গীর আহসান উল্লাহ মাস্টার হত্যা মামলায় দীর্ঘ দুই দশক ধরে কারাবন্দি থাকা বিএনপি নেতা নুরুল ইসলাম সরকারের বর্তমান পরিস্থিতি, রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও আইনি লড়াই নিয়ে বিশেষ প্রতিবেদন।
টঙ্গী তথা গাজীপুর অঞ্চলের রাজনীতিতে ২০০৪ সালের ৭ মে এক মর্মান্তিক ও কালো অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত। সেদিন টঙ্গীর নোয়াগাঁও মজিদ মিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে একটি রাজনৈতিক সমাবেশে সন্ত্রাসীদের নির্মম গুলিতে নিহত হন তৎকালীন জনপ্রিয় সংসদ সদস্য, বিশিষ্ট শ্রমিক নেতা ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আহসান উল্লাহ মাস্টার। এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের পর দায়ের করা মামলায় টঙ্গী থানা বিএনপি ও যুবদলের প্রভাবশালী নেতা নুরুল ইসলাম সরকারকে আসামি করা হয়। পরবর্তী সময়ে বিচারিক আদালতে মৃত্যুদণ্ডাদেশ পাওয়ার পর থেকে দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে কারাগারে বন্দি জীবন কাটাচ্ছেন তিনি।
দীর্ঘ এই কারাবাসের ফলে নুরুল ইসলাম সরকারের জীবনের একটি বড় অংশ কারাগারের চার দেওয়ালে বন্দি রয়েছে। স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গন ও তার শুভানুধ্যায়ীদের মতে, তিনি একজন অত্যন্ত ভদ্র, সহজ-সরল এবং জনসমর্থনসম্পন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ছিলেন। তৎকালীন রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে টঙ্গীর মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চলের নেতৃত্বকে দুর্বল ও প্রভাবিত করার অংশ হিসেবে এই মামলায় তাকে ফাঁসানো হয়েছিল বলে দাবি করে আসছে তার পরিবার ও অনুসারীরা।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা এই ঘটনার সাথে দেশের অন্যান্য হাই-প্রোফাইল রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের সাদৃশ্য খুঁজে পান। ২০০৪ সালের ২৭ জানুয়ারি সিলেটে সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়া হত্যার পর যেভাবে বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের গণহারে অভিযুক্ত করা হয়েছিল, টঙ্গীর ঘটনাতেও একই ধরনের রাজনৈতিক কৌশল প্রয়োগের অভিযোগ রয়েছে। আহসান উল্লাহ মাস্টার এবং নুরুল ইসলাম সরকার—উভয় নেতাই নিজ নিজ এলাকায় অত্যন্ত জনপ্রিয় ছিলেন। একটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই দুই প্রভাবশালী নেতার রাজনীতি থেকে ছিটকে পড়া টঙ্গীর রাজনৈতিক অঙ্গনে দীর্ঘমেয়াদি শূন্যতার সৃষ্টি করেছে।
দীর্ঘ রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পরেও নুরুল ইসলাম সরকারের মুক্তি বা তার আইনি পুনর্বিবেচনার বিষয়ে দলের উচ্চ পর্যায় থেকে জোরালো কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ না থাকায় তার পরিবার ও স্থানীয় নেতাকর্মীদের মাঝে হতাশা বিরাজ করছে। আহসান উল্লাহ মাস্টারের মতো একজন নিবেদিতপ্রাণ নেতাকে দেশের রাজনীতিতে আর ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়, তবে আইনি মারপ্যাচে নুরুল ইসলাম সরকারের জীবন যেন প্রদীপ নিভে যাওয়ার মতো পরিণতি বরণ না করে—এই মানবিক আবেদন এখন টঙ্গীর সর্বস্তরের মানুষের। পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত এই নেতার পরিবার আইনি সহায়তা ও ন্যায়বিচারের প্রত্যাশায় সরকারের উচ্চ মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করে চলেছেন।


