অন্যান্য

কিডনিতে পাথর প্রতিরোধে কার্যকর ৭ অভ্যাস

স্বাস্থ্য ডেস্কে, দৈনিক পূর্বাচল:

মানবদেহের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অঙ্গ কিডনি। এটি রক্ত পরিশোধনের পাশাপাশি শরীরের ক্ষতিকর বর্জ্য ও অতিরিক্ত পদার্থ প্রস্রাবের মাধ্যমে বাইরে বের করে দেয়। তবে দৈনন্দিন জীবনযাত্রার ভুল ও পর্যাপ্ত পানির অভাবে অনেকেই কিডনিতে পাথরের সমস্যায় ভোগেন। একবার কিডনিতে পাথর হওয়ার প্রবণতা তৈরি হলে খাবার ও দৈনন্দিন অভ্যাসে বাড়তি নজর দেওয়া জরুরি। কিছু সহজ ও সুনির্দিষ্ট অভ্যাস এই ঝুঁকি অনেকটাই কমাতে সাহায্য করে।

  • পর্যাপ্ত পানি পান: কিডনিতে পাথর প্রতিরোধের প্রধান উপায় পর্যাপ্ত পানি পান করা। শরীরে পানির ঘাটতি হলে প্রস্রাব ঘন হয়ে খনিজ ও লবণ জমে ক্রিস্টাল বা পাথরে রূপ নেয়। গরম আবহাওয়ায় বা অতিরিক্ত ঘাম হলে পানির পরিমাণ আরও বাড়ানো উচিত।

  • সঠিক মাত্রায় ক্যালসিয়াম গ্রহণ: অনেকে পাথর হওয়ার ভয়ে ক্যালসিয়ামযুক্ত খাবার একেবারেই বাদ দেন, যা ভুল। চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ অনুযায়ী দুধ, ডিম ও দুগ্ধজাত খাবার পরিমিত পরিমাণে খাওয়া উচিত। তবে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া সাপ্লিমেন্ট নেওয়া যাবে না।

  • ভিটামিন ডি ও পুষ্টিকর খাবার: ভিটামিন ও খনিজের ঘাটতি পূরণে ডিম, বাদাম ও বীজজাতীয় খাবার খাদ্যতালিকায় রাখা ভালো। পাশাপাশি নিয়মিত নির্দিষ্ট সময় সূর্যের আলোতে থাকা উপকারী।

  • ইউরিক অ্যাসিড নিয়ন্ত্রণে সতর্কতা: রক্তে ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বেশি থাকলে লাল মাংস, ডাল ও সামুদ্রিক মাছ অতিরিক্ত না খেয়ে পরিমিত খেতে হবে।

  • ভিটামিন সি-সমৃদ্ধ প্রাকৃতিক ফল: সাপ্লিমেন্ট না খেয়ে লেবু, আমলকী, আমড়া, জাম ও জাম্বুরার মতো প্রাকৃতিক ফল থেকে ভিটামিন সি পাওয়া নিশ্চিত করা উচিত।

  • জিংকের ভারসাম্য: ডিম, মাছ, মাংস ও দুধের পাশাপাশি ডাল, শিমের বিচি ও মটরশুঁটি থেকে প্রয়োজনীয় জিংক গ্রহণ করা যেতে পারে।

  • স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন: শুধু নির্দিষ্ট একটি খাবারের ওপর নির্ভর না করে সুষম খাদ্যতালিকা, পর্যাপ্ত ঘুম ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন মেনে চলা দরকার।

পূর্বে যাদের কিডনিতে পাথর হয়েছে বা বারবার এই সমস্যা দেখা দিচ্ছে, তাদের পাথরের ধরন জেনে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী খাদ্যতালিকা তৈরি করার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা।

About the author

নিজস্ব প্রতিবেদক

Leave a Comment